ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কোরবানির পশু বাছাইয়ে ইসলামে যে নির্দেশনা আছে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১০:০১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

আর ক’দিন পরই পালিত হবে ঈদুল আজহা ও কুরবানি। সামথ্যবানরা নিজেদের কোরবানি আদায় করবেন। কোরবানি আদায়ে তারা কেমন পশু বাছাই করবেন। এ বিষয়ে ইসলামের দিকনির্দেশনাই বা কী?

কোরবানির পশু নির্বাচন: ইখলাস, সৌন্দর্য ও শরিয়তের পূর্ণ অনুসরণ

কোরবানি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়— এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ত্যাগ ও আনুগত্যের এক অনন্য প্রকাশ। তাই এই ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হলো— সঠিক, সুস্থ ও নিখুঁত পশু নির্বাচন। সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করাই একজন প্রকৃত মুমিনের ইমানি পরিচয়।

ইসলাম কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট প্রাণী ও শর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছে, যাতে এই ইবাদত হয় শুদ্ধ, সুন্দর এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উপযোগী।

কোরবানির পশুর ধরন—

কোরবানি দিতে হবে কেবল চতুষ্পদ জন্তু (بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ) দিয়ে। এগুলো হলো—

> উট

> গরু/মহিষ

> ছাগল/ভেড়া/দুম্বা

এর বাইরে অন্য কোনো প্রাণী দিয়ে কোরবানি করা শরিয়তসম্মত নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِّيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ

‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির নিয়ম নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে সেই চতুষ্পদ জন্তুর ওপর যা তিনি তাদের দিয়েছেন।’ (সুরা হজ: আয়াত ৩৪)

কুরবানির পশুর ধরন ও বয়স

ইসলাম প্রতিটি পশুর জন্য নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করেছে—

> উট: বয়স কমপক্ষে পূর্ণ ৫ বছর

> গরু ও মহিষ: বয়স কমপক্ষে পূর্ণ ২ বছর

> ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা: বয়স কমপক্ষে পূর্ণ ১ বছর

আরও পড়ুন

বিশেষ ছাড়—

ভেড়া বা দুম্বা যদি ৬ মাস বয়সেও এতটা হৃষ্টপুষ্ট হয় যে দেখতে এক বছরের মতো লাগে, তবে তা দিয়েও কোরবানি জায়েজ। তবে ছাগলের ক্ষেত্রে অবশ্যই পূর্ণ এক বছর হতে হবে। সাধারণভাবে পশুর বয়স নির্ধারণে নিচের সামনের স্থায়ী দাঁত দেখে অনুমান করা হয়।

সুস্থ ও নিখুঁত পশু নির্বাচনের শর্ত

রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির পশু সম্পর্কে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। চার ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়—

أربع لا تجزئ في الأضاحي: العوراء البيّن عورها، والمريضة البيّن مرضها، والعرجاء البيّن عرجها، والعجفاء التي لا تُنقي

‘চার ধরনের পশু কোরবানিতে গ্রহণযোগ্য নয়— স্পষ্ট দৃষ্টিহীন, স্পষ্ট অসুস্থ, স্পষ্ট খোঁড়া এবং অতি দুর্বল (হাড্ডিসার)।’ (আবু দাউদ ২৮০২, তিরমিজি ১৪৯৭)

এছাড়া আরও যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি হবে না—

> লেজ বা কানের অর্ধেকের বেশি কাটা

> শিং গোড়া থেকে ভেঙে মস্তিষ্কে ক্ষতি

> মারাত্মক শারীরিক বিকৃতি বা রোগ

সুস্থ গরু বা পশু চেনার ব্যবহারিক উপায়

হাটে বা বাজারে পশু কেনার সময় কিছু বাস্তব লক্ষণ দেখে সুস্থ পশু চেনা যায়—

> চঞ্চলতা

সুস্থ পশু চঞ্চল হবে, কান খাঁড়া থাকবে এবং লেজ-কান দিয়ে মশা তাড়াবে।

> খাবার গ্রহণ

মুখের সামনে খাবার দিলে দ্রুত জিহ্বা দিয়ে টেনে নেবে এবং জাবর কাটবে।

> নাকের অবস্থা

নাক ভেজা ও ঘামযুক্ত থাকবে—এটি সুস্থতার লক্ষণ।

> দেহের গঠন

কুঁজ টানটান ও মোটা থাকবে। শরীরে আঙুল চাপ দিলে গর্ত দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। যদি গর্ত দীর্ঘক্ষণ থেকে যায়, তাহলে বুঝতে হবে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা হয়েছে।

করণীয় বিষয়সমূহ—

> সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পশু নির্বাচন করা

> সুস্থ ও নিখুঁত পশু যাচাই করে কেনা

> শরিয়তের নির্ধারিত বয়স নিশ্চিত করা

> প্রতারণামূলক বা অসুস্থ পশু এড়িয়ে চলা

> কোরবানিকে কেবল ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা, প্রদর্শনী নয়

> নিয়তকে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খাঁটি রাখা

আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার দোয়া

رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আংতাস সামিউল আলিম।’

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের (ইবাদত) কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১২৭)

কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি ইখলাস, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বাস্তব প্রমাণ। তাই কোরবানির পশু নির্বাচনেও থাকতে হবে সততা, সচেতনতা ও শরিয়তের পূর্ণ অনুসরণ। যদি আমরা কোরবানিকে নিছক একটি সামাজিক রীতি না ভেবে আল্লাহর ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করি, তবে তা আমাদের জন্য হয়ে উঠবে আত্মশুদ্ধি ও নৈকট্য লাভের মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল, সুন্দর ও কবুলযোগ্য কুরবানি করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?
স্বামী স্ত্রীকে ‘বোন’ কিংবা স্ত্রী স্বামীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করলে কি বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই রয়েছে।
স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি।
আজকের নামাজের সময়সূচি
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আরও পড়ুন
প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি, কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার: অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য
দুর্যোগ মোকাবিলায় দূরদর্শী নীতি ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই: কেসিসি প্রশাসক
চিকিৎসার জন্য চীনে নজরুল ইসলাম খান, খোঁজ নিলেন প্রবাসী বিএনপি নেতারা