ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইসলামের শিক্ষা: ‘তোমরা অহংকার ত্যাগ কর এবং আল্লাহকে স্মরণ কর’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
ভূমিকম্প, ভূমিধস ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আল্লাহর কুদরত স্মরণ, তওবা-ইস্তিগফার ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয় ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জন্য যেমন বড় বিপর্যয়, তেমনি ইসলামের দৃষ্টিতে এসব ঘটনা মহান আল্লাহর কুদরত ও নিদর্শন স্মরণ করার উপলক্ষ। ভূমিকম্প, ভূমিধস, বন্যা কিংবা অন্যান্য বিপদের সময় একজন মুমিনের উচিত আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া, তওবা-ইস্তিগফার করা এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

ভূমিকম্পে কোরআনের সতর্কবার্তা

পবিত্র কোরআনে ভূমিকম্পের ভয়াবহতা তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা বলেন—

‘হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। নিশ্চয়ই কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ ব্যাপার।’

এর পরের আয়াতগুলোতে কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে—মানুষ আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়বে এবং গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাত হয়ে যাবে।

—সুরা আল-হজ, আয়াত: ১-২

সুরা যিলযালেও পৃথিবীর প্রচণ্ড কম্পনের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

‘যখন পৃথিবী তার প্রচণ্ড কম্পনে প্রকম্পিত হবে। আর পৃথিবী তার বোঝাসমূহ বের করে দেবে। আর মানুষ বলবে, এর কী হলো?’

এরপর বলা হয়েছে, সেদিন পৃথিবী তার ওপর সংঘটিত সব কর্মকাণ্ডের বিবরণ প্রকাশ করবে।

—সুরা আজ-যিলযাল, আয়াত: ১-৬

আরও পড়ুন

ভূমিধস ও ধ্বংসও আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন

কোরআনে অতীতের বিভিন্ন জাতির ওপর আল্লাহর শাস্তির কথাও বর্ণিত হয়েছে। সুরা আল-আরাফে আল্লাহ তাআলা বলেন—

‘অতঃপর ভূমিকম্প তাদের পাকড়াও করল; ফলে তারা নিজ নিজ ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।’

—সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৭৮

এছাড়া সুরা আল-ওয়াকিয়ায় কিয়ামতের দিনের ভয়াবহ প্রকম্পনের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে—

‘যখন পৃথিবী প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। অতঃপর তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।’

—সুরা আল-ওয়াকিয়া, আয়াত: ৪-৬

দুর্যোগ কি শুধু শাস্তি?

ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকম্প, বন্যা বা ভূমিধসকে নিশ্চিতভাবে ‘আল্লাহর শাস্তি’ বলে ঘোষণা করা ঠিক নয়। কারণ একই বিপদ কারও জন্য পরীক্ষা, কারও জন্য সতর্কবার্তা এবং কারও জন্য গুনাহ মোচনের কারণ হতে পারে। প্রকৃত কারণ ও আল্লাহর কাছে প্রত্যেক ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান একমাত্র তাঁরই রয়েছে।

তবে কোরআনে মানুষের কর্মের কারণে পৃথিবীতে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ার কথাও বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় প্রকাশ পেয়েছে, যাতে তিনি তাদের কিছু কর্মের ফল তাদের আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’

—সুরা আর-রূম, আয়াত: ৪১

দুর্যোগের সময় মুমিনের করণীয়

ভূমিকম্প, বন্যা কিংবা ভূমিধসের মতো বিপদের সময় ইসলামের শিক্ষা হলো আল্লাহকে স্মরণ করা, নিজের ভুলের জন্য তওবা করা এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার করা। পাশাপাশি বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো, উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করা, খাবার-পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, এটি নেক আমলও।

ভূমিকম্প নিয়ে হাদিসে সতর্কতা

কিছু হাদিসে সমাজে বিভিন্ন অনাচার, অন্যায় ও পাপাচার ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন বিপর্যয়ের সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তিরমিজির একটি বর্ণনায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন, আমানতের খেয়ানত, জাকাতকে বোঝা মনে করা, মদ ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপক প্রচলনসহ নানা অনাচারের কথা উল্লেখ করে বিপর্যয়ের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

—জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৪৭

আরেক বর্ণনায় গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপক প্রচলন এবং মদ্যপানের প্রসার ঘটলে ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

—জামে তিরমিজি, হাদিস: ২২১২

তবে এসব হাদিসের আলোকে কোনো নির্দিষ্ট দুর্যোগকে নিশ্চিতভাবে কারও পাপের শাস্তি হিসেবে চিহ্নিত না করে, নিজের আমল সংশোধন ও আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই মুমিনের জন্য উত্তম।

আল্লাহর ক্ষমতা ও নিদর্শন

এসব দুর্যোগের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর অসীম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান, যাতে মানুষ অহংকার ত্যাগ করে এবং স্রষ্টাকে স্মরণ করে। সুরা আনআমের আয়াতাংশে ওপর থেকে আজাব (যেমন- বন্যা, প্রবল ঝড়) এবং নিচ থেকে আজাব (যেমন- ভূমিকম্প, ভূমিধস) পাঠানোর ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে।

পাপের পরিণতি ও সতর্কবার্তা

সমাজে যখন অন্যায়, জুলুম, সুদ, ও পাপাচার বেড়ে যায়, তখন অনেক সময় তা মানুষের ওপর আল্লাহর গজব বা সতর্কবার্তা হিসেবে নেমে আসে। কোরআনে বলা হয়েছে, জলে ও স্থূলে মানুষের নিজেদের হাতের কামাইয়ের কারণেই বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে।

তাই ভূমিকম্প, ভূমিধস বা বন্যার মতো দুর্যোগ এলে আতঙ্কের পাশাপাশি আল্লাহর কুদরত স্মরণ, তওবা-ইস্তিগফার, ধৈর্য এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো—ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
মনপুরায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতির বার্তা মঠবাড়িয়ায়
আবু সাঈদের আত্মদান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল: ত্রাণমন্ত্রী
নতুন উদ্যোগ: ট্রাকে আসবে ঘর, ভেতরেই বিছানা-বাথরুম-রান্নাঘর