ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সন্তানের পাপের জন্য কি মা-বাবার কবরে শাস্তি হবে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সন্তানের পাপের কারণে মা-বাবাকে কবরে শাস্তি ভোগ করতে হবে কি না এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে, মা-বাবা সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল। সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দেওয়া, ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝানো এবং পাপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা তাদের কর্তব্য। তবে দায়িত্ব পালনের পরও সন্তান নিজ ইচ্ছায় পাপ করলে সেই পাপের দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মা-বাবার ওপর বর্তায় না।

ইসলাম সন্তানকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত হিসেবে উল্লেখ করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, জেনে রেখ, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা। আর মহা পুরস্কার রয়েছে আল্লাহরই কাছে। (সুরা আনফাল, আয়াত: ২৮)

সন্তানের ঈমান, আকিদা, চিন্তা-চেতনা ও চরিত্র গঠনে মা-বাবার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক সন্তানই ইসলামের ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মা-বাবা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৫৮)

এ কারণে সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করা মা-বাবার অন্যতম দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, হে ইমানদাররা, তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৬)

সন্তানকে ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রেও মা-বাবার দায়িত্ব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ ভালো কাজের দিকে মানুষকে আহ্বান করলে আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব সে পাবে। আবার কেউ কোনো মন্দ কাজের প্রচলন করলে এবং মানুষ তা অনুসরণ করলে তার ওপর নিজের গুনাহের পাশাপাশি অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ গুনাহ বর্তাবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৩)

তবে মা-বাবা যদি সন্তানের সঠিক ইসলামি শিক্ষা দেন, তাকে পাপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন এবং ভুল পথ থেকে ফেরার জন্য উপদেশ দেন এরপরও সন্তান নিজের ইচ্ছায় গুনাহে জড়িয়ে পড়লে সেই গুনাহের দায় মা-বাবার ওপর বর্তাবে না। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের কর্মের জন্য দায়ী।

এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মা-বাবা মারা যাওয়ার পর সন্তান খারাপ কাজ করলে এর দায়ভার সন্তানের ওপরই বর্তাবে, মা-বাবার ওপর নয়। সন্তানের খারাপ কাজের কারণে মা-বাবাকে দোষারোপ বা গালমন্দ করাও উচিত নয়।

তবে মা-বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তানের অনৈতিক বা পাপাচরণ সম্পর্কে জানার পরও তাকে সংশোধনের চেষ্টা না করলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মা-বাবা জেনেও যদি সন্তানকে ভুল পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা না করেন, অসিয়ত না করেন, তাহলে এর দায়ভার মা-বাবার ওপর কিছু না কিছু বর্তাতে পারে।

অর্থাৎ, সন্তানের পাপের দায় নির্ধারণে মা-বাবার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করার পরও সন্তান যদি গুনাহে লিপ্ত হয়, তাহলে সেই গুনাহের জন্য মা-বাবাকে কবরে শাস্তি ভোগ করতে হবে এমন কথা বলা যায় না। বরং সন্তান নেক আমল করলে তার আমল থেকে মা-বাবার জন্যও সওয়াবের অংশ পৌঁছাতে পারে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিশুর জানাজায় যে দোয়া পড়বেন
মৃত্যু সবার জন্যই অবশ্যম্ভাবী। তবে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু মারা গেলে তার জানাজার নামাজের দোয়া প্রাপ্তবয়স্ক মৃত ব্যক্তির জানাজার দোয়া থেকে আলাদা।
শিশুর জানাজায় যে দোয়া পড়বেন
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
‘তাবিজ-আমল’ প্রসঙ্গে ইসলামের ব্যাখ্যা
কোনো বিশেষ আমল, তাবিজ কিংবা অন্য কোনো অপার্থিব শক্তির মাধ্যমে কাউকে যদি আকৃষ্ট করা, বশ করা  বা ক্ষতি করার চেষ্টা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েজ, হারাম এবং কবিরা গুনাহ। এ ধরনের কাজ মহান আল্লাহুর সাথে শিরক করার সমতুল্য।
‘তাবিজ-আমল’ প্রসঙ্গে ইসলামের ব্যাখ্যা
যেখানে প্রতিদিন ইবাদত করেন ৭০ হাজার ফেরেশতা
মানুষের চোখের আড়ালে রয়েছে এমন এক বিশাল জগৎ, যার অনেক কিছুই কেবল কোরআন ও সহিহ হাদিসের বর্ণনা থেকেই জানা যায়।
যেখানে প্রতিদিন ইবাদত করেন ৭০ হাজার ফেরেশতা
ফরজ গোসলের সময় অনেকে যে ভুলটি করেন
ইসলামী শরিয়তে পবিত্রতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারণে মুসলমানের ওপর ফরজ গোসল আবশ্যক হতে পারে। তবে গোসলের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকেই অনিচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বাদ দিয়ে ফেলেন।
ফরজ গোসলের সময় অনেকে যে ভুলটি করেন
আরও পড়ুন
মা-বাবার বার্ধক্য কেন এত কষ্ট দেয়?