ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
কাল্পনিক ছবি

ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী উভয়ের সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অধিকার বাবা-মায়ের নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। বিশেষ করে নারীর ক্ষেত্রে বিয়ের আগে তার মতামত ও সম্মতি নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে হাদিসে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

ইসলামে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখ নির্ধারিত নেই। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে ইজাব বা প্রস্তাব এবং কবুল বা গ্রহণের পাশাপাশি সাক্ষীর উপস্থিতিও জরুরি।

নারীর সম্মতি নেওয়া জরুরি

বিয়ের আগে নারীর মতামত ও সম্মতি নেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে হাদিসে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আগে বিয়ে হয়েছে এমন নারীকে তার মতামত বা সম্মতি ছাড়া এবং কুমারি নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। কুমারি নারীর অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, তার নীরবতাই তার সম্মতি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৬)

এমনকি সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ঘটেছিল। খানসা বিনতে খিজাম আনসারি (রা.) বর্ণনা করেন, তার বাবা তাকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেন। তিনি ওই বিয়ে অপছন্দ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলে তিনি বিয়েটি বাতিল করে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৮)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, এক নারী অভিযোগ করেন, তার বাবা তাকে তার ভাতিজার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন নিজের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি ওই নারীর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেন। পরে তিনি জানান, তিনি বাবার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। তবে তার উদ্দেশ্য ছিল, নারীরা যেন জানতে পারে—বিয়ের বিষয়ে বাবার একতরফা সিদ্ধান্তের অধিকার নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৭৪)

ছেলে-মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া যাবে না

ইসলামি শরিয়তের আলোকে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সন্তানের নিজস্ব মতামতকে উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, মা-বাবার জন্য সমীচীন নয় যে তারা ছেলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন কোনো মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দেবেন, যাকে সে পছন্দ করে না। ছেলে এমন বিয়ে প্রত্যাখ্যান করলে তাকে অবাধ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না। (মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৩২, পৃষ্ঠা: ৩০)

এদিকে শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কোনো সন্তানের অপছন্দে তাকে কারও সঙ্গে বিয়ে দিতে বাধ্য করার অধিকার মা-বাবার নেই। সন্তানের অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়। ছেলে বা মেয়ে রাজি না হলে বাবা-মায়ের জোর করে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, বাবা-মা যদি জোর করে সন্তানের জন্য অনুপযুক্ত জায়গায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চান, তাহলে সন্তানের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। সন্তানের ন্যায্য দাবি ও মতামত শোনা মা-বাবার দায়িত্ব।

বিয়েতে পারিবারিক সম্মতি ও সন্তানের মত দুটিই গুরুত্বপূর্ণ

ইসলাম বাবা-মায়ের সম্মান ও তাদের সঙ্গে সদাচরণকে গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের সম্মতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই অভিভাবকদের উচিত পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সন্তানের মতামত নেওয়া এবং তার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে সম্মান করা।

অর্থাৎ, সন্তানকে জোর করে বিয়েতে বাধ্য না করে পারিবারিকভাবে আলোচনা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যে কারণে ধর্ম উপদেষ্টা ও বায়তুল মোকাররমের খতিব হতে রাজি হননি আহমাদুল্লাহ
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের প্রস্তাব পেয়েও তা গ্রহণ করেননি আলোচিত ইসলামি বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
যে কারণে ধর্ম উপদেষ্টা ও বায়তুল মোকাররমের খতিব হতে রাজি হননি আহমাদুল্লাহ
আজকের নামাজের সময়সূচি
বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
ইরান সীমান্তবর্তী তুরস্কের আগ্রি প্রদেশের দোগুবেয়াজিত জেলায় জাহাজের আকৃতির একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামো ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে গবেষণা। অনেকের বিশ্বাস, এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ। সম্প্রতি সেখানে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান শেষ করেছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল। তবে এখনই নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। গবেষক দলের উপপ্রধান ও মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোনস জানান, অনুসন্ধানের সময় কাঠামোটির বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ভূগর্ভের নমুনা নেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির নিচে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উঠে এসেছে কাঠামোটি কোনো একক পাথরের খণ্ড নয়। আগে ধারণা করা হয়েছিল, শক্ত কোনো পাথর দীর্ঘদিনের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় জাহাজের মতো আকৃতি ধারণ করেছে। কিন্তু কোর ড্রিলিংয়ের সময় বিভিন্ন গভীরতা থেকে ধারাবাহিকভাবে মাটির নমুনা পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ যে কাঠামোটি মানুষের তৈরি, এমন সিদ্ধান্তেও এখনই পৌঁছানো যাচ্ছে না। জোনস বলেন, ভূগর্ভে পাওয়া গাঢ় রঙের মাটি বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি পচে যাওয়া কাঠের অবশেষ কি না, নাকি অন্য কোনো প্রাকৃতিক বা মানবিক কর্মকাণ্ডের ফল ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর তা জানা যাবে। গত আগস্টে পরিচালিত রাডার স্ক্যানেও কাঠামোর নিচে কিছু অস্বাভাবিক বস্তু বা গঠনের সংকেত পাওয়া গেছে। গত মে মাসে শুরু হওয়া সর্বশেষ গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলা। পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী এতে অংশ নেন। তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় টানা প্রায় ৯০ দিন ধরে চলে মাঠপর্যায়ের কাজ। গবেষকরা ওই এলাকার ভূখণ্ডের বিস্তারিত মডেল তৈরি করতে ড্রোন ব্যবহার করেন। মাটির নিচের গঠন শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় আধুনিক রাডার ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কোর ড্রিলিংও করা হয়। এসব নমুনা ইতোমধ্যে পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। নূহ (আ.)-এর নৌকার সঙ্গে এই কাঠামোর সম্পর্কের দাবি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তুরস্কের ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার পূর্ব আনাতোলিয়া অঞ্চলে বিমান থেকে জরিপ চালানোর সময় প্রথম কাঠামোটির সন্ধান পান। এরপর থেকেই এটি নিয়ে তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকদের আগ্রহ তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্ড্রু জোনস। তিনি বলেন, গবেষণার কাজ এখনো শেষ হয়নি। রাডার থেকে পাওয়া তথ্য, মাটির নমুনা ও কোর ড্রিলিংয়ের ফলাফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে এ গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে পারে। অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত গবেষকদের হাতে রয়েছে কিছু অস্বাভাবিক ভূগর্ভস্থ গঠন ও মাটির নমুনা কিন্তু এগুলো নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ, এমন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এসকে
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
শেষ রাতে যে আমলে মেলে আল্লাহর নৈকট্য
রাতের নির্জন সময়ে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হওয়ার অন্যতম উত্তম মাধ্যম তাহাজ্জুদ নামাজ। ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আদায় করা এই নফল নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। একই সঙ্গে গুনাহ মাফ ও আত্মশুদ্ধিরও সুযোগ রয়েছে।
শেষ রাতে যে আমলে মেলে আল্লাহর নৈকট্য
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
কেন অনামিকাতেই পরানো হয় বিয়ের আংটি
অসুস্থ হয়েও থামেনি ভালোবাসা, হাসপাতালের বেডেই বিয়ে ৭৯ বছরের যুগলের
বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ
রাজের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত ‘ভুল’ ছিল না: পরীমণি