ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
কাল্পনিক ছবি

ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী উভয়ের সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অধিকার বাবা-মায়ের নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। বিশেষ করে নারীর ক্ষেত্রে বিয়ের আগে তার মতামত ও সম্মতি নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে হাদিসে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

ইসলামে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখ নির্ধারিত নেই। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে ইজাব বা প্রস্তাব এবং কবুল বা গ্রহণের পাশাপাশি সাক্ষীর উপস্থিতিও জরুরি।

নারীর সম্মতি নেওয়া জরুরি

বিয়ের আগে নারীর মতামত ও সম্মতি নেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে হাদিসে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আগে বিয়ে হয়েছে এমন নারীকে তার মতামত বা সম্মতি ছাড়া এবং কুমারি নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। কুমারি নারীর অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, তার নীরবতাই তার সম্মতি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৬)

এমনকি সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে ঘটেছিল। খানসা বিনতে খিজাম আনসারি (রা.) বর্ণনা করেন, তার বাবা তাকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেন। তিনি ওই বিয়ে অপছন্দ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলে তিনি বিয়েটি বাতিল করে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৮)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, এক নারী অভিযোগ করেন, তার বাবা তাকে তার ভাতিজার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন নিজের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি ওই নারীর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেন। পরে তিনি জানান, তিনি বাবার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। তবে তার উদ্দেশ্য ছিল, নারীরা যেন জানতে পারে—বিয়ের বিষয়ে বাবার একতরফা সিদ্ধান্তের অধিকার নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৭৪)

ছেলে-মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া যাবে না

ইসলামি শরিয়তের আলোকে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সন্তানের নিজস্ব মতামতকে উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, মা-বাবার জন্য সমীচীন নয় যে তারা ছেলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন কোনো মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দেবেন, যাকে সে পছন্দ করে না। ছেলে এমন বিয়ে প্রত্যাখ্যান করলে তাকে অবাধ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না। (মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৩২, পৃষ্ঠা: ৩০)

এদিকে শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কোনো সন্তানের অপছন্দে তাকে কারও সঙ্গে বিয়ে দিতে বাধ্য করার অধিকার মা-বাবার নেই। সন্তানের অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়। ছেলে বা মেয়ে রাজি না হলে বাবা-মায়ের জোর করে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, বাবা-মা যদি জোর করে সন্তানের জন্য অনুপযুক্ত জায়গায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চান, তাহলে সন্তানের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। সন্তানের ন্যায্য দাবি ও মতামত শোনা মা-বাবার দায়িত্ব।

বিয়েতে পারিবারিক সম্মতি ও সন্তানের মত দুটিই গুরুত্বপূর্ণ

ইসলাম বাবা-মায়ের সম্মান ও তাদের সঙ্গে সদাচরণকে গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের সম্মতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই অভিভাবকদের উচিত পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সন্তানের মতামত নেওয়া এবং তার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে সম্মান করা।

অর্থাৎ, সন্তানকে জোর করে বিয়েতে বাধ্য না করে পারিবারিকভাবে আলোচনা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করা হয়েছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ১০ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করায় তারিখে পরিবর্তন আসতে পারে। কাজাখস্তানের মুসলিমদের ধর্মীয় প্রশাসন প্রকাশিত সম্ভাব্য ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে পবিত্র রমজান। মাসব্যাপী রোজা পালনের পর ৯ মার্চ উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে ঈদুল ফিতর। এছাড়া ৫ মার্চ দিবাগত রাতে পবিত্র শবে কদর পালনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৬ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী উদযাপিত হতে পারে পবিত্র ঈদুল আজহা। এর আগের দিন ১৫ মে পালিত হওয়ার কথা পবিত্র আরাফাতের দিন। এ ছাড়া ৪-৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে শবে মেরাজ, ২২-২৩ জানুয়ারি দিবাগত রাতে শবে বরাত এবং ১৫ জুন পবিত্র আশুরা পালনের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী ঈদে মিলাদুন্নবী ১৪-১৫ আগস্ট উদযাপিত হতে পারে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার থেকে রমজান শুরু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ৭ ফেব্রুয়ারি, রোববার সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। চাঁদ দেখা গেলে সেদিন রাতে প্রথম তারাবিহ নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। এরপর সেহরি খেয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হবে। গালফ নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০ মার্চ, বুধবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। তবে কাজাখস্তানের ধর্মীয় প্রশাসনের ক্যালেন্ডারে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৯ মার্চ। অর্থাৎ, রমজান শুরুর তারিখ নিয়ে দুই পূর্বাভাসে মিল থাকলেও ঈদুল ফিতরের তারিখে এক দিনের পার্থক্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধর্মীয় দিবসগুলোর চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। তাই চাঁদ দেখার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে তারিখ ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি পবিত্র রমজান শুরু হয়েছিল। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে ২০ মার্চ উদযাপিত হয়েছিল পবিত্র ঈদুল ফিতর। আরটিভি/এসকে
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
নুহ নবীর নৌকা বলে ধারণা করা স্থানে আরও এক নতুন আবিষ্কারের দাবি গবেষকদের
তুরস্কের আরারাত পর্বতের কাছে অবস্থিত দুরুপিনার গঠনে নুহ নবীর নৌকার ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার নতুন দাবি করেছেন একদল গবেষক। তাদের দাবি, সেখানে কাঠকয়লার মতো পোড়া কাঠের পাশাপাশি ভূগর্ভে প্রায় ৩০ ফুট গভীরে না-পোড়া কাঠের সন্ধানও মিলেছে।
নুহ নবীর নৌকা বলে ধারণা করা স্থানে আরও এক নতুন আবিষ্কারের দাবি গবেষকদের
হারামাইনে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদ মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে আজ জুমার নামাজের ইমামতি করবেন দুই বিশিষ্ট আলেম ও কারি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৫) সৌদি আরবের ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। হিজরি সনের জমাদিউল আউয়াল মাসের তৃতীয় জুমা আজ। এ উপলক্ষে মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে মুসল্লিদের জুমার নামাজ পড়াবেন শায়খ উসামাহ খাইয়াত ও শায়খ আব্দুল বারি আস-সুবাইতি। মসজিদে হারাম আজ পবিত্র মসজিদে হারামে জুমার নামাজের ইমামতি করবেন বিশিষ্ট আলেম ও কারি শায়খ উসামাহ খাইয়াত। ১৯৫৬ সালে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা শায়খ আব্দুল্লাহ মসজিদে হারামের সাবেক ইমাম ও খতিব ছিলেন। শায়খ উসামাহ ১৯৭৭ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে মাস্টার্স এবং ১৯৮৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি মসজিদে হারামের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুলে দ্বীন অনুষদের অধ্যাপক এবং সৌদি শুরা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। মসজিদে নববি অন্যদিকে, পবিত্র মসজিদে নববিতে আজ জুমার নামাজের ইমামতি করবেন বিশিষ্ট আলেম ও কারি শায়খ আব্দুল বারি আস-সুবাইতি। ১৩৮০ হিজরিতে মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সুমধুর কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের জন্য বিশ্বজুড়ে তার ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। ১৪০৫ হিজরিতে কিং ফাহাদ আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন শায়খ আব্দুল বারি আস-সুবাইতি। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শরিয়া অনুষয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৪০৯ হিজরিতে অনার্স এবং ১৪১৫ হিজরিতে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৪১৪ হিজরি সাল থেকে তিনি পবিত্র মসজিদে নববির ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পবিত্র দুই মসজিদে এই দুই প্রখ্যাত আলেমের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য প্রতিদিনের মতো আজও দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক মুসল্লি সমবেত হবেন। আরটিভি/এসকে
হারামাইনে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নামাজ। পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। সে কারণে নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা জরুরি।
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
বিয়ের আগের রাতে মদসহ বর আটক
বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’
নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহ করে প্রেমিকার জন্য আংটি বানালেন যুবক
যে কারণে দিনে দিনে ছোট হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিয়ের আয়োজন