ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ডুবে যেতে পারে দেশের এক নগরী, স্যাটেলাইট ইমেজেও মিলেছে প্রমাণ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

প্রতি বছর গড়ে এক দশমিক ৬৬ মিলিমিটার করে নিচে নামছে বরিশাল নগরীর মাটির স্তর। এই নীরব ধস যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের সমান হয়ে যাবে বরিশাল। তখন সামান্য জোয়ারেও তলিয়ে যেতে পারে এই নগরী।

জার্মানির সহায়তায় বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ও ফেডারেল ইনস্টিটিউট ফর জিওসাইন্স অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেসের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। স্যাটেলাইট ইমেজেও মাটির স্তর নেমে যাওয়ায় ভবন হেলে পড়ার প্রমাণ মেলে।

২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর বরিশাল নগরী ও সংলগ্ন এলাকার ভূপ্রাকৃতিক উপাদান সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় গভীর তলদেশ থেকে সংগৃহীত ভূগর্ভস্থ উপাদানের পরীক্ষা, স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ এবং ভূ-উপরিভাগের স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বাংলাদেশের নগর এলাকায় জার্মান উন্নয়ন সংস্থার সম্ভাব্য সহযোগিতার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কাজটি শুরু হলেও এর ফলাফল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রকল্পে অর্থ সহায়তা দিয়েছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, ‘প্রকৃতির আচরণ কখন কেমন হয় বলা মুশকিল। এখন যেখানে মাটির স্তর নিচে নামছে, এটা বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তবে আমরা গবেষণায় যা পেয়েছি তাতে এটা কেবলই নামছে। এই প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার বন্ধ করে সারফেস বা ভূ-উপরিভাগ যেমন পুকুর, নদী, খালের পানি ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। এই পানি পরিশোধন করে চাহিদার সবটুকু যাতে সরবরাহ করা যায় তার ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। সেইসঙ্গে ঠেকাতে হবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ।’

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব