
ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি গত বছরের ডিসেম্বরে শাহাদাৎবরণ করেছেন। শাহাদাতের পর থেকে প্রতিনিয়ত তার বিভিন্ন ধরণের স্মৃতিচিহ্ন সামনে আসছে। এরই মধ্যে, আজ ওসমান হাদির বিয়ের দিনের স্মৃতি সামনে এনেছেন তার বোন মাসুমা হাদি, যেখানে তাকে তার বাবার পাগড়ি ও আবা পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মাসুমা হাদি ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি ভাইয়ের বিয়ের সাজ এবং বিয়ের আয়োজনের কথা তুলে ধরেন।
মাসুমা হাদি লিখেছেন, গায়ে আব্বার আবা, মাথায় আব্বার পাগড়ি, আমাদের ওসমান গনি বিয়ের সাজে। জুমার নামাজ শেষে মসজিদে ওসমান গনির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। পোস্টের মন্তব্যে জাস্টিস ফর হাদি ও নিজের বাবার ২০১২ সালে মারা যাওয়ার কথা জানান মাসুমা হাদি।
এদিকে পোস্টের মন্তব্যে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। রাবেয়া নুর নামে একজন লিখেছেন, যুগ যুগান্তর পেরিয়ে যাবে, সহস্রাব্দের আঙ্গিনা পেড়িয়ে হাদি চির অমর হয়ে থাকবে মানুষের হৃদয়ে।
আরেকজন লিখেন, যারা বলছে হাদি ব্যাবসা আর কতো দিন, তাদের জেন রাখা উচিত ৭১ এর ব্যাবসা তো এখনো চলে! সেটা নিয়ে কইদিন কথা বলেছেন? হাদি থাকবে এই মাটি ও মানুষের অন্তরে।
ওসমান হাদি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শরীফ আব্দুল হাদি একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম ছিলেন। ৬ ভাইবোনের (৩ ভাই, ৩ বোন) মধ্যে হাদি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি আলিম (এইচএসসি) সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
প্রসঙ্গত, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে আমৃত্যু মুখপাত্র ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় তাকে গুলি করা হয়।
প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
গুলির ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওসমান হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
ওসমান হাদি হত্যা মামলা তদন্ত করে ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দিয়েছিল ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মামলার বাদী এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।
আরটিভি/টিআর



