ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

পদত্যাগ করার নির্দেশ ছিল আমার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সেরা পরামর্শ: ইশরাক

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ এএম
ইশরাক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ইশরাক হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

পোস্টে ইশরাক হোসেন লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন, যা আমি একবাক্যে মেনে নিয়েছিলাম। প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল, কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে।’

ইশরাকের ভাষ্য, ‘পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো। আর আমার শুভাকাঙ্ক্ষী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রীকে নিজের প্রতি স্নেহশীল অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, ‘আমি তার (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী। আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি ।’

নিজের শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে ইশরাক লেখেন, ‘আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।,

পোস্টের শেষাংশে নিজ দলের ভেতরে কারও বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

তিনি লেখেন, নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেও যদি আঁতাত কারি হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে , অনুমতি নিয়েই পা*** চা*** তুলে নেবো। আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত-খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।’

এর আগে, অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ পরিচালনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইশরাক হোসেনকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষকদের জন্য মন্ত্রীর জরুরি বার্তা
নিজের পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়ন করে টিচিং পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান। ফেসবুক পোস্টে মন্ত্রী লিখেছেন, শিক্ষকতার শুরুতেই নিজের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। একটি অধ্যায় পড়ানোর পর নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন- কতজন বুঝল? যারা বুঝল না, তাদের জন্য আমি কী বদলাব? তিনি আরও লেখেন, একই পদ্ধতিতে বারবার পড়িয়ে ভিন্ন ফল আশা করলে চলবে না। শিক্ষার্থীর কাজ, প্রশ্ন ও ভুল থেকে তথ্য নিয়ে নিজের পাঠদান উন্নত করা শিক্ষকতার গুরুত্বপূর্ণ চর্চা। আরটিভি/টিআর
শিক্ষকদের জন্য মন্ত্রীর জরুরি বার্তা
জামায়াত কি বিরিয়ানির ভাগের জন্য সরকারের বিরোধিতা করে: আবু হানিফ
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ প্রশ্ন তুলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সরকারের বিরোধিতা করছে, নাকি বিরিয়ানির ভাগ পাওয়ার জন্য।
জামায়াত কি বিরিয়ানির ভাগের জন্য সরকারের বিরোধিতা করে: আবু হানিফ
বাবার পাগড়ি ও আবা পরে মসজিদে বিয়ে করেছিলেন ওসমান হাদি, ছবি ভাইরাল
ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি গত বছরের ডিসেম্বরে শাহাদাৎবরণ করেছেন। শাহাদাতের পর থেকে প্রতিনিয়ত তার বিভিন্ন ধরণের স্মৃতিচিহ্ন সামনে আসছে। এরই মধ্যে, আজ ওসমান হাদির বিয়ের দিনের স্মৃতি সামনে এনেছেন তার বোন মাসুমা হাদি, যেখানে তাকে তার বাবার পাগড়ি ও আবা পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) মাসুমা হাদি ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি ভাইয়ের বিয়ের সাজ এবং বিয়ের আয়োজনের কথা তুলে ধরেন। মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‌গায়ে আব্বার আবা, মাথায় আব্বার পাগড়ি, আমাদের ওসমান গনি বিয়ের সাজে। জুমার নামাজ শেষে মসজিদে ওসমান গনির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। পোস্টের মন্তব্যে জাস্টিস ফর হাদি ও নিজের বাবার ২০১২ সালে মারা যাওয়ার কথা জানান মাসুমা হাদি। এদিকে পোস্টের মন্তব্যে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। রাবেয়া নুর নামে একজন লিখেছেন, ‌‌যুগ যুগান্তর পেরিয়ে যাবে, সহস্রাব্দের আঙ্গিনা পেড়িয়ে হাদি চির অমর হয়ে থাকবে মানুষের হৃদয়ে।  আরেকজন লিখেন, যারা বলছে হাদি ব্যাবসা আর কতো দিন, তাদের জেন রাখা উচিত ৭১ এর ব্যাবসা তো এখনো চলে! সেটা নিয়ে কইদিন কথা বলেছেন? হাদি থাকবে এই মাটি ও মানুষের অন্তরে। ওসমান হাদি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শরীফ আব্দুল হাদি একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম ছিলেন। ৬ ভাইবোনের (৩ ভাই, ৩ বোন) মধ্যে হাদি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি আলিম (এইচএসসি) সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। প্রসঙ্গত, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে আমৃত্যু মুখপাত্র ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় তাকে গুলি করা হয়।  প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। গুলির ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওসমান হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ওসমান হাদি ‎হত্যা মামলা তদন্ত করে ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দিয়েছিল ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মামলার বাদী এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। আরটিভি/টিআর
বাবার পাগড়ি ও আবা পরে মসজিদে বিয়ে করেছিলেন ওসমান হাদি, ছবি ভাইরাল
জামায়াত মানুষকে যে পথ দেখাতে চায়, সেটা দাজ্জালের জান্নাত: রাশেদ খাঁন
জামায়াত মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান!  হাদিসে আছে, কিয়ামতের আগে দাজ্জালও মানুষকে জান্নাত দেখিয়ে তাকে অনুসরণ করতে বলবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁন।
জামায়াত মানুষকে যে পথ দেখাতে চায়, সেটা দাজ্জালের জান্নাত: রাশেদ খাঁন
মাদকবিরোধী সংগঠন খুলবেন ইশরাক, আরও যা করবেন
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সেই সঙ্গে একটি সংগঠন গড়ে তুলতে চান ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ কথা জানান ।  পোস্টে ইশরাক হোসেন লেখেন, ‘প্রিয় ঢাকা-৬-এর বাসিন্দাগণ, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কার্যক্রম এগিয়ে নেব, ইনশাআল্লাহ। এই লক্ষ্য অর্জনে এখানকার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তুলতে চাই। এই সংগঠন স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে এবং তাদের সহযোগিতা নেবে। আমাদের এই অত্যধিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় জনগণ সম্পৃক্ত না হলে কোনো একটি সংস্থার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। তিনি আরো লিখেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করার পাশাপাশি আমরা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিও প্রতিরোধের আওতায় আনতে পারব। আমরা থানা-পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’ পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘কিছু পত্রিকা, তাদের ফেসবুক পেজ ও অনলাইন মাধ্যম এবং অন্য কিছু গণমাধ্যম আমাদের এই উদ্যোগ বানচাল করতে চাইবে। সঙ্গে থাকবে, যারা এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। একসময় তারাই বিলুপ্ত হয়ে যাবে; আমরাই সফল হব, ইনশাআল্লাহ।’ পোস্টে তিনি আরো ‍উল্লেখ করেন, ‘আমি এলাকাবাসী ও ভোটারদের আশ্বস্ত করছি, আল্লাহ প্রদত্ত মৃত্যু ছাড়া কোনো দালাল মিডিয়া গ্রুপ অথবা অপরাধীরা আমাকে থামাতে পারবে না। এই মিডিয়া আমাদের দেশকে বিকলাঙ্গ করে রাখতে চায়। তাই তাদের বর্জন করে আমরা এগিয়ে যাব। আমরা বাংলাদেশপন্থী, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক নতুন প্রজন্মকে নিয়ে নতুন ধারার মিডিয়া গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।’ আরটিভি/এসকে
মাদকবিরোধী সংগঠন খুলবেন ইশরাক, আরও যা করবেন
আরও পড়ুন
সাংবাদিকদের পেটানো নিয়ে উল্টো সুর এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর
মাদকবিরোধী সংগঠন খুলবেন ইশরাক, আরও যা করবেন
‘সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো, এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার’
ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি