ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

যে কারণে ইউরোপের বাজার হারাতে বসেছে বাংলাদেশ (ভিডিও)

জুলহাস কবীর

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২২, ০৩:৫৮ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের দুটি স্ক্যানারই অচল থাকায় সবজি রপ্তানিতে ইউরোপের বাজার হারাতে বসেছে বাংলাদেশ।

ইউরোপের বাজারে পণ্যের মান নিশ্চিতে শতভাগ স্ক্যান বাধ্যতামূলক। এ অবস্থায় রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে স্ক্যানার দুটি দ্রুত মেরামতের দাবি রপ্তানিকারকদের। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান।

রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মান নিশ্চিতে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন তথা ইডি স্ক্যানারের গুরুত্ব অনেক। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের দুটি স্ক্যানার।

এর ফলে নতুন বাজারে পণ্য রপ্তানি তো দূরের কথা, নির্ধারিত বাজারেও পণ্য সরবরাহে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা। সবজিসহ কৃষিপণ্য পাঠানো বন্ধ রয়েছে, দেশের সবচে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাজ্যে।

জানা গেছে, দুটি স্ক্যানারের একটি এক বছর ধরে নষ্ট। আরেকটি গেল ২০ দিনেও ঠিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গেল অর্থবছরে যেখানে এক হাজার ২৯ কোটি টাকার শাক-সবজি ও ফল রপ্তানি হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।

এক ব্যবসায়ী বলেন, মেহেরবানি করে আজকে আমাদের দিকটাতে নজর দিন। প্রতি কেজিতে ছয় সেন্ট করে আমরা সিভিল এভিয়েশনকে দিচ্ছি। সিভিল এভিয়েশন সঠিক দায়িত্ব পালন করছে না। দক্ষ জনবল না থাকলে আপনারা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেন। রপ্তানিকে বাঁচান, বাংলাদেশকে বাঁচান।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ইউরোপের দেশগুলো আর বাংলাদেশের সবজি নিতে চাইবে না।

সবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমেদ বলেন, প্রতিদিন তারা লাখ লাখ টাকা রপ্তানিকারক থেকে আদায় করে। কিন্তু ১৫ দিনের টাকা একসঙ্গে করলে এমন চারটা মেশিন কিনতে পারে সিভিল এভিয়েশন। এ বিষয়ে কারও কোনো মাথাব্যাথা নেই। এ বাজারটা কিন্তু অন্য দেশে চলে যাচ্ছে।

দুটি নতুন স্ক্যানার থাকার পরও যুক্তরাজ্য সেগুলোর অনুমোদন না দেওয়ায় সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। তবে অচল দুটি দ্রুত মেরামতে কাজ করছে বিমান।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, আরেকটা মেশিন যেটা খারাপ আছে জাইকার দেওয়া। এটা ওয়ারেন্টির ভেতরে আছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। এটা যে প্রতিষ্ঠান দিয়েছে তাদেরই এটা রক্ষণাবেক্ষণ করার কথা। কিন্তু তারা করতে পারছে না।

নতুন দুটি স্ক্যানারের অনুমোদন পেলে পণ্য রপ্তানিতে আরও গতি আসবে বলে জানান বেবিচক চেয়ারম্যান।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডিজিটাল গুজব : বছরজুড়েই সক্রিয় ছিল সুযোগ সন্ধানীরা (ভিডিও)
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বছরজুড়েই সক্রিয় ছিল সুযোগ সন্ধানীরা। কখনও ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে, আবার কখনও আর্থিক অনিশ্চয়তার গল্প ফেঁদে ফায়দা লুটেছে তারা। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেও ছড়ানো হয় বিভ্রান্তিকর তথ্য। আর গুজবে কান দিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। চলুন জেনে নেওয়া যাক, বিদায়ী বছরের উল্লেখযোগ্য কিছু গুজব ও তার পরিণতি- প্রযুক্তির বিকাশে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই এখন হাতের মুঠোয়। তবে সহজ এই প্লাটফর্ম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে অসাধু কিছু মানুষের কারণে। বছরের অন্যতম ক্ষতিকর তথ্য ছড়ানো হয় আর্থিক খাত নিয়ে। ব্যাংক দেউলিয়ার গুজবে কান দিয়ে দুই মাসে ৫০ হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নেন গ্রাহকরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অর্থনীতি। এই গুজব দেশ ও বিদেশ থেকে ছড়ানো হয়। মামলার পর কয়েকজনকে শনাক্ত করে পুলিশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। নিত্যপণ্য নিয়ে গুজবে পণ্যের দাম বাড়ায় ভুগতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের। মার্চ-এপ্রিলে গুজব রটে শ্রীলঙ্কার মতো হবে দেশ। তবে পরিস্থিতি সেদিকে যায়নি। আইএমএফের ঋণ অনুমোদন সন্দেহ বাতিকগ্রস্তদের ভুল ভাঙায়। স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন নিয়েও ছড়ানো হয় গুজব। টোল প্লাজা কাজ করবে না, সংযোগ সড়কে স্থায়ী হবে যানজট, স্থবির হবে রাজধানী- এমন নানা প্রচারণা চলে। তবে সেসব ভুল প্রমাণ করে সচল হয় পদ্মা সেতু। উদ্বোধনের পরও অপচেষ্টা থামেনি। নাটবল্টু খুলে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হয়। পরে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  ধারাবাহিক ছিল ধর্ম নিয়ে উসকানির গুজবও। ১৮ জুন ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে নড়াইলে পুলিশের উপস্থিতিতে শিক্ষককে জুতার মালা পরানো হয়। ওই মামলায় তার কোনো দোষ পাওয়া যায়নি। অথচ ঘটনার রেশ ধরে ১৫ জুলাই নড়াইলের সাহাপাড়ায় হিন্দু বাড়িতে হামলা ও আগুন দেওয়া হয়। একই সময় সামাজিকমাধ্যমে নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। একটি রাজনৈতিক দল এ নিয়ে বিবৃতিও দেয়। অথচ কারিকুলাম বোর্ড জানায়, ধর্ম শিক্ষা বাদ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। আলোচনায় ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম মান্নানের মা’র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। তাদের ধারণা, পারিবারিক বিরোধ কিংবা প্রতিবেশীকে ফাঁসাতেই স্বেচ্ছায় ঘর ছাড়েন তিনি।    বছরের শেষ ভাগে ব্যক্তিগত জমিতে চাষ না করলে তা খাস হবে বলে গুজন রটানো হয়। তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই। ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়ানো কোনো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
ডিজিটাল গুজব :  বছরজুড়েই সক্রিয় ছিল সুযোগ সন্ধানীরা (ভিডিও)
অর্জনে-গর্জনে বাংলাদেশ এখন গোটা বিশ্বের বিস্ময় (ভিডিও)
যুদ্ধে যার জন্ম, অর্জনে-গর্জনে ৫১ বছরে সেই বাংলাদেশ এখন গোটা বিশ্বের বিস্ময়। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনার সাফল্য অভূতপূর্ব। কেবল তাই নয়, আর্থসামাজিক উন্নয়নের বেশিরভাগ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। তথ্যমতে, পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সঙ্গে টানা ৯ মাসের যুদ্ধে, ধ্বংসযজ্ঞের দেশে পরিণত হয় সোনার বাংলা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি তখন মাইনাস ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তবে, বাঙালির উদ্যমতায় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি। পরের বছরই প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশে। স্বাধীনতাত্তোর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রথম বাজেট মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার। আর স্বাধীনতার ৫১ বছরে সেই বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৮৬১ গুণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। রপ্তানি আয় ২২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে। স্বাধীনতার ৫১ বছরে অনেকটাই সুরক্ষিত সামাজিক সুরক্ষা বলয়। ১৯৭২ সালে বার্ষিক মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ১১ হাজার টাকা। সাড়ে ২৫ গুণ বেড়ে যা এখন ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা। দারিদ্র্যসীমা ৮৮ শতাংশ থেকে নেমেছে প্রায় ২০ শতাংশে। আর গড় আয়ু ৫৩ বছর থেকে উঠেছে ৭২ বছর ৮ মাসে। স্বাধীনতার পর ৭ কোটি মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সাহায্য নিতে হয় বিদেশিদের কাছে। আর এখন প্রায় ১৭ কোটি মানুষের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্যশস্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। প্রায় সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে নির্মিত পদ্মাসেতু চালু হয়েছে। নির্মাণ শেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের মতো বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প। মহাকাশে গেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এ দিকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এখন বাংলাদেশ। অর্থনীতিবিদদের বিশ্বাস উন্নয়নের এ ধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের তালিকায় ঠিকই নাম লেখাবে বাংলাদেশ।
অর্জনে-গর্জনে বাংলাদেশ এখন গোটা বিশ্বের বিস্ময় (ভিডিও)
চার দশকে পাল্টে গেছে দেশের ওষুধ খাত (ভিডিও)
চার দশকে পাল্টে গেছে দেশের ওষুধ খাতের চেহারা। প্রায় পুরোটা আমদানি নির্ভর থেকে এখন ৯৮ শতাংশ ওষুধ নিজেরাই উৎপাদন করে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু তাই নয়, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ ১৬০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে বাংলাদেশ। তবে এই খাতের আধুনিকায়ন নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে, প্রশ্ন আছে মান নিয়েও। ওষুধের কাঁচামালের বেশির ভাগই আমদানি নির্ভর। তথ্যমতে, বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদনের যাত্রা শুরু স্বাধীনতার পরপরই। শুরুতে এ খাতটি তেমন উন্নত ছিল না। চাহিদার মাত্র ২০ ভাগ উৎপাদন করা যেত, বাকি ৮০ ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশের ওষুধের বাজারের ৭০ ভাগই বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরের বছর ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারির পর বিদেশি ওষুধ প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া বাণিজ্য থেকে এই খাত মুক্তি পায়। ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হতে থাকে বাজার।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুখ বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানির প্রোডাক্টের মান নিয়ে দেশের মানুষ গর্ব করে। কিছু কোম্পানি আছে নিম্নমানের, বাজে ও নকল ওষুধ বানায়। এসব কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সবকিছু সুন্দরভাবে করতে পারলে গার্মেন্টস সেক্টরের পর দ্বিতীয় রপ্তানি ও আয় এই খাতে থেকে আসবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান খসরু বলেন, পাঁচ দশকের পথ চলায় দেশের চাহিদার ৯৮ ভাগ পূরণ করে দেশের ওষুধ এখন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিসহ ১৬০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তবে, এ খাতের মান উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত ওষুধের মান যাচাই, কাঁচামাল দেশে উৎপাদনসহ এই খাতকে আরও উন্নত করতে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্ট বা এপিআই পার্ক দ্রুত চালুর দাবি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
চার দশকে পাল্টে গেছে দেশের ওষুধ খাত (ভিডিও)
আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নিয়ে জল্পনা (ভিডিও)
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন যতই ঘনিয়ে আসছে, দলটির সাধারণ সম্পাদক কে হবেন—সেই আলোচনা ততই জোরালো হচ্ছে। নতুন মুখ নাকি ৭৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে টানা তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হয়ে ইতিহাসে নাম লেখাবেন ওবায়দুল কাদের, এমন প্রশ্ন সবার মনে। সভাপতির পদ নিয়ে কারও প্রশ্ন নেই। দলের ঐক্য ও ভরসার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।   উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই আলোচনায় নতুন কমিটি। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বিস্তৃত হচ্ছে আলোচনার ডালপালা।  বরাবরের মতোই সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকেই দেখতে চান সব স্তরের নেতার্কীরা। ৪২ বছরে শত ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে দলটির অনিবার্য নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন সভাপতি শেখ হাসিনা। তার বিকল্প নেই বলেও মনে করেন সবাই।  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আ.লীগের শতভাগ নেতাকর্মী, যারা কাউন্সিলে ডেলিগেট হবেন, তারা সবাই চান শেখ হাসিনা পুনরায় আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। টানা চার মেয়াদে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর টানা তিন মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জাতীয় নেতা তাজউদ্দিন আহমদ। এরপর আর কেউ টানা দুইবারের বেশি সাধারণ সম্পাদক হননি।   ২০১৬ সাল থেকে টানা দুইবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। টানা তৃতীয় মেয়াদে তিনিই থাকবেন, নাকি নতুন মুখ দেখা যাবে সেই আলোচনা এখন সংগঠনে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের তৃতীয়বারের মতো তাকেই সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে বলে গুঞ্জন দলের মধ্যে। তবে এ নিয়ে মুখ খুলছেন না কেউ। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে সাধারণ সম্পাদক পদে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার বিধান নেই। ফলে কেউ নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেননি। তবে সাধারণ সম্পাদকের দৌড়ে অনেকেরই নাম শোনা যায়। এদের মধ্যে রয়েছেন— সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমানের মতো ডাকসাইটে নেতারা। আলোচনায় আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমও। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই এ টু জেড। তিনি যে কমিটি নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, যে কমিটির কর্মকর্তাদের দিয়ে ওনার কাজ করতে সুবিধা হবে; দলকে একটি শক্তিশালী ও বেগবান করার জন্য যে পরিকল্পনা ওনার মাথায় আছে, তিনই করতে পারবেন। তিনিই বলতে পারবেন। তবে এটুকু বলতে পারি, আমাদের প্রত্যাশার বাইরে যাবে না। তবে শেষ পর্যন্ত কে হবেন সাধারণ সম্পাদক, তা নির্ধারণ হবে কাউন্সিলে। সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নিয়ে জল্পনা (ভিডিও)
নিত্যপণ্যের দাম আরও ২০ শতাংশ বাড়ার শঙ্কা (ভিডিও)
পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আরও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গণশুনানী উপেক্ষা করে পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক। এটি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইন ভঙ্গ করেছে। এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পড়বে। তথ্যমতে, গত এক যুগে বিদ্যুতের দাম ৯ বার বাড়িয়েছে বিইআরসি। এ সময় পাইকারী পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১১৮ শতাংশ, আর খুচরায় ৯০ শতাংশ। শেষবার ২০২০ সালে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রায় আড়াই বছর পর গত ২০ নভেম্বর পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো প্রায় ২০ শতাংশ।  এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করতে গিয়ে এবার নিজেদের আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো বিইআরসি। কোন ধরনের গণশুনানী বা জনগণের মতামত না নিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একেবারেই অযৌক্তিক। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলছেন, দাম বাড়ানোর বিষয়গুলো সবসময় গণশুনানীর মধ্যেই হয়ে থাকে। কিন্তু এবার একটা ঘোষণার মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়েছে। এটা মোটেই ঠিক হয়নি।  তিনি বলেন, বিশ্বে গ্যাস ও তেলের দাম কমছে। তাই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আগে আরও সময় নেওয়া যেত। তখন হয়তো এই দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।  রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে তীব্র ডলার সংকটে অর্থনীতি। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমন বাস্তবতায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে বলে মনে করে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেন। তিনি বলেন, পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পড়বে। এটি আমাদের মূল্যস্ফীতিকে আবারও উসকে দেবে। ফলে মূল্যস্ফীতি ২০ শতাংশের কাছাকাছি বাড়তে পারে।  পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ব্যাপকহারে স্থল ও সমুদ্রে গ্যাসের অনুসন্ধানের তাগিদ দিলেন তারা।
নিত্যপণ্যের দাম আরও ২০ শতাংশ বাড়ার শঙ্কা (ভিডিও)
আরও পড়ুন
বেঙ্গল প্লাস্টিকসহ রপ্তানি ট্রফি পাচ্ছে ৭১ প্রতিষ্ঠান
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পক্ষে ভোট দিল বাংলাদেশ
৪ মাস পর ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ২৩ জেলে
পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, মহাসচিব শাহীন সুমন