হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের দুটি স্ক্যানারই অচল থাকায় সবজি রপ্তানিতে ইউরোপের বাজার হারাতে বসেছে বাংলাদেশ।
ইউরোপের বাজারে পণ্যের মান নিশ্চিতে শতভাগ স্ক্যান বাধ্যতামূলক। এ অবস্থায় রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে স্ক্যানার দুটি দ্রুত মেরামতের দাবি রপ্তানিকারকদের। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান।
রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মান নিশ্চিতে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন তথা ইডি স্ক্যানারের গুরুত্ব অনেক। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের দুটি স্ক্যানার।
এর ফলে নতুন বাজারে পণ্য রপ্তানি তো দূরের কথা, নির্ধারিত বাজারেও পণ্য সরবরাহে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা। সবজিসহ কৃষিপণ্য পাঠানো বন্ধ রয়েছে, দেশের সবচে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাজ্যে।
জানা গেছে, দুটি স্ক্যানারের একটি এক বছর ধরে নষ্ট। আরেকটি গেল ২০ দিনেও ঠিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গেল অর্থবছরে যেখানে এক হাজার ২৯ কোটি টাকার শাক-সবজি ও ফল রপ্তানি হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।
এক ব্যবসায়ী বলেন, মেহেরবানি করে আজকে আমাদের দিকটাতে নজর দিন। প্রতি কেজিতে ছয় সেন্ট করে আমরা সিভিল এভিয়েশনকে দিচ্ছি। সিভিল এভিয়েশন সঠিক দায়িত্ব পালন করছে না। দক্ষ জনবল না থাকলে আপনারা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেন। রপ্তানিকে বাঁচান, বাংলাদেশকে বাঁচান।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ইউরোপের দেশগুলো আর বাংলাদেশের সবজি নিতে চাইবে না।
সবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমেদ বলেন, প্রতিদিন তারা লাখ লাখ টাকা রপ্তানিকারক থেকে আদায় করে। কিন্তু ১৫ দিনের টাকা একসঙ্গে করলে এমন চারটা মেশিন কিনতে পারে সিভিল এভিয়েশন। এ বিষয়ে কারও কোনো মাথাব্যাথা নেই। এ বাজারটা কিন্তু অন্য দেশে চলে যাচ্ছে।
দুটি নতুন স্ক্যানার থাকার পরও যুক্তরাজ্য সেগুলোর অনুমোদন না দেওয়ায় সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। তবে অচল দুটি দ্রুত মেরামতে কাজ করছে বিমান।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, আরেকটা মেশিন যেটা খারাপ আছে জাইকার দেওয়া। এটা ওয়ারেন্টির ভেতরে আছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। এটা যে প্রতিষ্ঠান দিয়েছে তাদেরই এটা রক্ষণাবেক্ষণ করার কথা। কিন্তু তারা করতে পারছে না।
নতুন দুটি স্ক্যানারের অনুমোদন পেলে পণ্য রপ্তানিতে আরও গতি আসবে বলে জানান বেবিচক চেয়ারম্যান।




