পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আরও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গণশুনানী উপেক্ষা করে পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক। এটি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইন ভঙ্গ করেছে। এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পড়বে।
তথ্যমতে, গত এক যুগে বিদ্যুতের দাম ৯ বার বাড়িয়েছে বিইআরসি। এ সময় পাইকারী পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১১৮ শতাংশ, আর খুচরায় ৯০ শতাংশ। শেষবার ২০২০ সালে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রায় আড়াই বছর পর গত ২০ নভেম্বর পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো প্রায় ২০ শতাংশ।
এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করতে গিয়ে এবার নিজেদের আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো বিইআরসি। কোন ধরনের গণশুনানী বা জনগণের মতামত না নিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একেবারেই অযৌক্তিক।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলছেন, দাম বাড়ানোর বিষয়গুলো সবসময় গণশুনানীর মধ্যেই হয়ে থাকে। কিন্তু এবার একটা ঘোষণার মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়েছে। এটা মোটেই ঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, বিশ্বে গ্যাস ও তেলের দাম কমছে। তাই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আগে আরও সময় নেওয়া যেত। তখন হয়তো এই দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে তীব্র ডলার সংকটে অর্থনীতি। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমন বাস্তবতায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে বলে মনে করে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেন।
তিনি বলেন, পাইকারী পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পড়বে। এটি আমাদের মূল্যস্ফীতিকে আবারও উসকে দেবে। ফলে মূল্যস্ফীতি ২০ শতাংশের কাছাকাছি বাড়তে পারে।
পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ব্যাপকহারে স্থল ও সমুদ্রে গ্যাসের অনুসন্ধানের তাগিদ দিলেন তারা।




