যুদ্ধে যার জন্ম, অর্জনে-গর্জনে ৫১ বছরে সেই বাংলাদেশ এখন গোটা বিশ্বের বিস্ময়। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনার সাফল্য অভূতপূর্ব। কেবল তাই নয়, আর্থসামাজিক উন্নয়নের বেশিরভাগ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।
তথ্যমতে, পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সঙ্গে টানা ৯ মাসের যুদ্ধে, ধ্বংসযজ্ঞের দেশে পরিণত হয় সোনার বাংলা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি তখন মাইনাস ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তবে, বাঙালির উদ্যমতায় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি। পরের বছরই প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশে।
স্বাধীনতাত্তোর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রথম বাজেট মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার। আর স্বাধীনতার ৫১ বছরে সেই বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৮৬১ গুণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। রপ্তানি আয় ২২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে।
স্বাধীনতার ৫১ বছরে অনেকটাই সুরক্ষিত সামাজিক সুরক্ষা বলয়। ১৯৭২ সালে বার্ষিক মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ১১ হাজার টাকা। সাড়ে ২৫ গুণ বেড়ে যা এখন ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা। দারিদ্র্যসীমা ৮৮ শতাংশ থেকে নেমেছে প্রায় ২০ শতাংশে। আর গড় আয়ু ৫৩ বছর থেকে উঠেছে ৭২ বছর ৮ মাসে।
স্বাধীনতার পর ৭ কোটি মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সাহায্য নিতে হয় বিদেশিদের কাছে। আর এখন প্রায় ১৭ কোটি মানুষের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্যশস্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। প্রায় সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে নির্মিত পদ্মাসেতু চালু হয়েছে। নির্মাণ শেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের মতো বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প। মহাকাশে গেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।
এ দিকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এখন বাংলাদেশ। অর্থনীতিবিদদের বিশ্বাস উন্নয়নের এ ধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের তালিকায় ঠিকই নাম লেখাবে বাংলাদেশ।




