ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মার্কিন সেনাদের মোবাইল ভিডিও দেখে যেভাবে হামলার ছক কষে ইরান!

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনই এখন অস্ত্র নয়। একটি মোবাইল ফোনের ভিডিওও হয়ে উঠতে পারে শত্রুর সবচেয়ে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের এমনই এক কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়েছে যে, কিছু সেনার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হতে পারে।

রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সেনাদের মোবাইলে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইরান প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বুঝে ফেলছে তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে। ২৮ জুলাই লেখা কুপারের চিঠিটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এর একটি অনুলিপি এসেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মোবাইল ফোন জমা দিতে বলা হতে পারে। একই ধরনের ব্যবস্থা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। যদিও এখনো হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে হাজার হাজার মার্কিন সেনার দৈনন্দিন জীবনে আসবে বড় পরিবর্তন। কারণ, অনেক সেনাই ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার খবর জানান।

সেন্টকমপ্রধান তার চিঠিতে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। চলতি মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় একজন মার্কিন সেনা মেটার স্মার্ট গ্লাস দিয়ে ভিডিও ধারণ করছেন। সেখানে সেনারা কীভাবে বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছেন, সেটিও দেখা যায়।

অ্যাডমিরাল কুপারের মতে, এমন ভিডিও ইরানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান গোয়েন্দা তথ্য হয়ে উঠছে। কারণ, ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে নাকি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করেছে, সেটি যুদ্ধক্ষেত্রে সব সময় বোঝা যায় না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও সংবাদ প্রতিবেদন সেই মূল্যায়নের কাজ অনেকটাই সহজ করে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংবাদমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা, রানওয়ে বা সামরিক অবকাঠামোর বিস্তারিত প্রকাশ হলে সেটিও ইরানের জন্য পরবর্তী হামলার পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যই প্রতিপক্ষের হাতে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা উপাত্তে পরিণত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন। বিরোধী আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি।

অন্যদিকে সামরিক কর্মকর্তারা জানান, স্মার্টফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বা বিভিন্ন অ্যাপও সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাই অপারেশনাল নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আরও কঠোর নীতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে গুরুত্বের সাথে।

যুদ্ধক্ষেত্রে এখন শুধু অস্ত্রের শক্তিই নয়, তথ্যের নিরাপত্তাও হয়ে উঠেছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই বাস্তবতায় একটি সাধারণ মোবাইল ফোনও কখনো কখনো ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
বাবা, এক বটবৃক্ষের নাম। সন্তানের সবরকম ভাল থাকার উৎস, সেটিই যেন আবারও প্রমাণিত এই বাচ্চাদের কণ্ঠে। চারদিকে যখন বিরাজ করছে পূজার আমেজ তখন এই কোমলমতি শিশুদের চোখে পানি, আর কণ্ঠে আক্ষেপ। এ বছর যেন উৎসবের দিনগুলোতে নতুন জামার চেয়েও বড় অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বাবা। তাই আনন্দের সময়ও যেন থামছেই না তাদের কান্না।
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
ভিডিওর এই শিশুরা সবাই প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। যাদের এখন সহপাঠীদের সাথে ছুটোছুটি করার কথা বিদ্যালয়ের মাঠে। অথচ পানি জমে থাকায় তারা পারছে না খেলতে, কেউ আবার যেতে পারে না টয়লেটেও। আবার পানি পেরিয়ে ক্লাসে যেতে গিয়ে ভিজে যায় কারও পোশাক। বই-খাতায় লেগে যায় কাদা। অভিযোগের যেন শেষ নেই কোমলমতি এই শিশুদের। 
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
হরমুজ সংকটে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর। কিন্তু সেই পথও এখন রয়েছে হামলার ঝুঁকিতে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই তেলবন্দর রক্ষায় এবার সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। শুধু সেনা নয়, সঙ্গে যাচ্ছে রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।  মাখোঁ জানান, ইয়ানবু রক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ফ্রান্স। সেই চুক্তির আওতায় সেখানে পাঠানো হবে ফরাসি সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে মাখোঁ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। ফরাসি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে ইয়ানবু রক্ষার জন্য, চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সৌদি আরবের একটি বন্দর রক্ষায়  কেন সেনা পাঠাতে হচ্ছে ফ্রান্সকে? এর পেছনে বড় কারণ হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবুর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল নিয়ে যাওয়া হয় লোহিত সাগরের এই বন্দরে। সেখান থেকে হরমুজ এড়িয়ে সরাসরি তেল পাঠানো সম্ভব আন্তর্জাতিক বাজারে। কিন্তু সম্প্রতি সেই ব্যবস্থাও খেয়েছে বড় ধাক্কা। ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে ইয়ানবু দিয়ে তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইপলাইনটি আবার চালু করা হয়েছে সীমিত পরিসরে।  ফলে ইয়ানবুর নিরাপত্তা এখন শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও বন্দরটির গুরুত্ব বেড়েছে বন্দরটির। আর ফ্রান্সও অনুভব করছে জ্বালানি সংকটের চাপ। মাখোঁ বলেন, আগামী শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে তাঁর সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। এমন খবর সত্য হলে তার ফল বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। যদিও হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে এমন কোনো পরিকল্পনার কথা। আরটিভি/এআর 
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
আধুনিকতার ছোঁয়া লাগার আগে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথগুলো কেমন ছিল? সন্ধ্যা নামলেই চারপাশের খাঁ-খাঁ নীরবতা, বন্যপ্রাণীর ভয় আর ডাকাতের উপদ্রব— এমন এক অনিশ্চিত সময়ে ক্লান্ত পথিকের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ। প্রায় ১২ যুগ বা ১১৮ বছর ধরে নওগাঁর পোরশার ঐতিহাসিক ‘মুসাফিরখানা’ সেই মানবতার ঐতিহ্যকে পরম যত্নে টিকিয়ে রেখেছে। নিজ সম্পত্তির উপার্জনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবারের এমন দৃষ্টান্ত আধুনিক সমাজেও এক বিরল মানবসেবার বার্তা দেয়।
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আরও পড়ুন
জাপানে হঠাৎ মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি
গুলি করে সেনাবাহিনীর মেজরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অনুমোদন ট্রাম্পের
দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ল শেষ মার্কিন সেনা, যা বললেন ট্রাম্প
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী