ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১২ কোটি ২৭ লাখ মানুষের দেশ। অথচ সেখানে প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় তিনজনেরই বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। শুধু তাই নয়, বয়স ১০০ পেরিয়েও বেঁচে আছেন ১ লাখের বেশি মানুষ। শুনতে দীর্ঘায়ুর বড় সাফল্য মনে হলেও এর আড়ালেই তৈরি হচ্ছে নতুন সংকট। কারণ প্রবীণ মানুষের সংখ্যা শুধু বাড়ছেই, অথচ শিশুর জন্মহার কমতে কমতে নেমেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ফলে দিনদিন কমছে কর্মক্ষম মানুষ, বাড়ছে কর্মী সংকট।

আরো বাড়ছে প্রবীণদের পেনশন, চিকিৎসা ও পরিচর্যার খরচ। অর্থাৎ মানুষ বেশি দিন বাঁচছেন ঠিকই, কিন্তু তাদের দেখভাল ও সেই ব্যয় বহন করার মতো তরুণ মানুষের সংখ্যা কম। আর দীর্ঘায়ুর এই সাফল্যই এখন জাপানের সামনে দাঁড় করিয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ।

জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে। আর টানা ৫৬ বছর ধরে বাড়ছে ১০০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা। আবার তাদের প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী।

কিন্তু জাপানিরা এত দীর্ঘায়ু পাচ্ছেন কীভাবে?
গবেষকদের মতে, এর পেছনে একক কোনো কারণ নেই। মাছ, শাকসবজি ও তুলনামূলক কম চর্বিযুক্ত খাবার জাপানিদের খাদ্যাভ্যাসের বড় অংশ। হাঁটা, সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারের কারণে দৈনন্দিন জীবনেও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকেন অনেকে। এর সঙ্গে উন্নত চিকিৎসাসেবা ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যবিমাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে দীর্ঘায়ুতে।

তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচলেও সেই তুলনায় জন্মায়নি নতুন শিশু। ২০২৫ সালের হিসাবে, দেশটিতে প্রতি ১০০ নারীর বিপরীতে গড়ে জন্মেছে প্রায় ১১৪টি শিশু। অথচ জনসংখ্যা দীর্ঘমেয়াদে একই পর্যায়ে রাখতে প্রায় ২১০টি নতুন শিশুর প্রয়োজন ছিল। আর এই সংকট কতটা গভীর, তা বোঝা যায় আরেকটি হিসাবে। গেলো বছর জাপানে ৯৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষ ছিলেন ৮ লাখের বেশি। অথচ একই সময়ে নতুন শিশু জন্মেছে মাত্র ৭ লাখের মতো। অর্থাৎ ১ বছরে যত শিশু জন্মেছে, তার চেয়েও বেশি মানুষ পা রেখেছে ৯৫ বছরে।

কম জন্মহারের পেছনের কারণ
এদিকে কম জন্মহারের পেছনে জানা গেছে বেশ কিছু কারণ। তরুণদের মধ্যে বিয়ে কমে যাওয়া, দেরিতে বিয়ে, অনিশ্চিত চাকরি, স্থবির মজুরি ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টাকে এর জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সন্তান লালন-পালনের খরচ ও কর্মজীবনের সঙ্গে পরিবার সামলানোর চাপও হয়ে উঠেছে বড় কারণ।

আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জাপানের অর্থনীতিতে। কর্মক্ষম মানুষ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন খাতে দেখা দিচ্ছে শ্রমিক সংকট। একই সঙ্গে কমছে আয়কর ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অবদান রাখা মানুষের সংখ্যা। অথচ প্রবীণ বাড়ায় পেনশন, চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যয় বাড়ছে। ফলে সেই বাড়তি চাপ গিয়ে পড়ছে তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর।

সামনে আরও কঠিন হতে পারে পরিস্থিতি। ২০০৮ সালে জাপানের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ। পূর্বাভাস বলছে, ২০৭০ সালে তা কমে নেমে আসতে পারে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখে। তখন কমসংখ্যক কর্মক্ষম মানুষকেই বহন করতে হবে বাড়তে থাকা পেনশন, চিকিৎসা ও বয়স্কদের পরিচর্যার ব্যয়। যা ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
একটি পাহাড়ি টিলা, যেখানে ভেসে উঠে নানা নকশা, ছুটে চলা হরিণের অবয়ব আর রঙ্গিন আলোর খেলা। আর তা দেখেই অবাক দর্শকরা, অনেকেই আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ছবি তুলতে।
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে, পাম্পের ডিজিটাল ডিসপ্লেতেই আর বাড়তি দাম দেখানোর জায়গা নেই কোনো! ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
তেলের দেশ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত সৌদি আরব। কিন্তু এবার সেই সৌদির মাটির নিচে মিলেছে আরেক বিশাল সম্পদ। আর জায়গাটিও বেশ পরিচিত—পবিত্র দিনা অঞ্চল। সেখানে প্রায় ১১০ মিলিয়ন টন আকরিক সম্পদের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। যার মধ্যে রয়েছে মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা খনিজ, সঙ্গে ইউরেনিয়ামের আশাব্যঞ্জক উপস্থিতি। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় এই খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে তিনি জানান, এখানে উচ্চ ঘনত্বের বিরল মৃত্তিকা খনিজের পাশাপাশি রয়েছে আশাব্যঞ্জক মাত্রায় ইউরেনিয়াম। নামটা ‘বিরল মৃত্তিকা’ হলেও আধুনিক বিশ্বে এসব খনিজের গুরুত্ব অনেক। বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন, শক্তিশালী চুম্বক, বায়ু বিদ্যুৎ থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় এসব উপাদানের। আর ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে। জাবাল সাইদে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়ামের মতো প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিওডিমিয়াম ও প্রেসিওডিমিয়ামের মতো হালকা বিরল মৃত্তিকা খনিজের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন। একই এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত থাকার কথাও উঠে এসেছে বিশ্লেষণে। এই আবিষ্কার সামনে এলো এমন সময়ে, যখন তেলের বাইরেও অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে খনিজ সম্পদের দিকে নজর বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি মা'আদেন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণে বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাও এগিয়েছে। সৌদি ও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন জ্বালানি দপ্তর। তেল এতদিন সৌদি আরবের সম্পদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এবার মদিনার জাবাল সাইদের মাটির নিচে পাওয়া বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সম্ভাবনা সেই পরিচয়ে যোগ করতে পারে নতুন এক অধ্যায়।  আরটিভি/ এসকেডি  
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
ভাঙা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর সময়ের ক্ষয়ে জীর্ণ হয়ে যাওয়া ভবন। দেখে এখন হয়তো বোঝার উপায় নেই, একসময় এখানেই ছিল জমিদারদের প্রভাব আর জৌলুশ। সেই সময় পেরিয়েছে বহু আগেই। তবে প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, পুরোনো মসজিদ, বাঁধানো পুকুরঘাট আর পারিবারিক কবরস্থান এখনো ধরে রেখেছে সেই ইতিহাসের কিছু চিহ্ন। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের রূপসা গ্রাম। এখানেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদারবাড়ি। মূল প্রাসাদের অনেক অংশ এখন আর অক্ষত নেই। তবে টিকে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা দেখতে এখনো এখানে আসেন দর্শনার্থীরা। জমিদারবাড়ির ইতিহাস নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের তথ্যে মোহাম্মদ গাজী ও তাঁর উত্তরসূরি আহমেদ গাজী চৌধুরীর নাম পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক বিভিন্ন সূত্রে প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও নাম নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্যও রয়েছে। এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুরোনো মসজিদ। স্থানীয় সংবাদসূত্রে এটি ‘মসজিদে নূর’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সূত্রের দাবি, মসজিদটি প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো এবং ১২৮৪ বঙ্গাব্দে জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী এটি নির্মাণ করেন।  মসজিদের পাশেই রয়েছে জমিদার পরিবারের কবরস্থান। পুরোনো কবর ও ফলকে এখনো পাওয়া যায় পরিবারের কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি। কাছেই রয়েছে বাঁধানো পুকুরঘাট, যা জমিদারি আমলের জীবনযাত্রার আরেকটি চিহ্ন। সময়ের সঙ্গে রূপসা জমিদারবাড়ির অনেক স্থাপনাই ক্ষয়ে যাচ্ছে। কোথাও দেয়াল ভেঙেছে, কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো কাঠামোর চিহ্ন। ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে। জমিদার নেই, নেই সেই সময়ের জৌলুশও। পড়ে আছে শুধু কিছু ভবন, মসজিদ, পুকুরঘাট আর কবরস্থান। সময়ের সঙ্গে এগুলোও হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে রূপসার ইতিহাসের দৃশ্যমান একটি অধ্যায়।  আরটিভি/ এসিকেডি  
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
নিজে ভূমিহীন হয়ে ১৩ বছর ধরে করছেন জমি নিয়েই গবেষণা!
নদী ভাঙ্গনে ভিটে-মাটি হারিয়ে থাকেন ভাড়া বাসায়, সেখানকার দেয়াল সাজিয়েছেন নিজের মতো করে, তবে পছন্দের কোন রঙ কিংবা পারিবারিক ছবিতে নয় পেপার কাটিং দিয়ে, যেখানে রয়েছে জমি নিয়ে খুন, সংঘর্ষ, জালিয়াতি ও বঞ্চনার হাজারো খবর। আর এসবের সমাধান খুঁজতেই সেলিম মিয়া গড়েছেন এই গবেষণাগার।
নিজে ভূমিহীন হয়ে ১৩ বছর ধরে করছেন জমি নিয়েই গবেষণা!
আরও পড়ুন
জাপানের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’, বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা
৪০ বছর ধরে স্টেশনে প্রচারপত্র বিলি করছেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
জাপানে যৌনসেবা ক্রেতাদেরও শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ
এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে সবার আগে জাপানে ঋতুপর্ণারা