
ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে, পাম্পের ডিজিটাল ডিসপ্লেতেই আর বাড়তি দাম দেখানোর জায়গা নেই কোনো! ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম। ক্যালিফোর্নিয়ার অন্তত পাঁচটি জ্বালানি স্টেশনে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম পৌঁছেছে ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলারের ওপরে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৩৫ টাকার সমান। আর এখানেই তৈরি হয়েছে অদ্ভুত সমস্যা। পাম্পের মূল্য দেখানোর ডিজিটাল যন্ত্রের ডিসপ্লেতে সাধারণত চারটি সংখ্যার বেশি দেখানো যায় না। ফলে সংখ্যা এতো বেশি হওয়াতে দাম দেখার সুযোগ থাকছে না পুরোপুরি।
জ্বালানির মূল্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তেল বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্যাট্রিক ডি হান জানিয়েছেন এই তথ্য। তবে কোন পাঁচটি স্টেশনে এমন দাম নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি এখনো।
আর শুধু এই পাঁচটি স্টেশন নয়, পুরো ক্যালিফোর্নিয়াতেই এখন জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাবে, ৯ সেপ্টেম্বর রাজ্যটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ছিল ৭ দশমিক ৭৬ ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৫০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে আরও ৫৫ সেন্ট।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় পরিস্থিতি আরও চড়া। ফেনারের একটি জ্বালানি স্টেশনে সাধারণ পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন ৯ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে। এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি শেভরন স্টেশনে ডিজেল বিক্রি হয়েছিল প্রতি গ্যালন ৮ দশমিক ৮৯ ডলার বা ১১শ টাকা পর্যন্ত।
তবে শুধু ক্যালিফোর্নিয়া নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই রেকর্ড ভেঙেছে ডিজেলের দাম। দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম এখন ৫ দশমিক ৮৭ ডলার। যা ২০২২ সালের জুনের ৫ দশমিক ৮১ ডলারের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকটকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রোলিয়াম মজুত থেকেও তেল বাজারে ছাড়ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের শুরুতে এই মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার অনুমোদন দেন তিনি। তারপরও দাম কমছে না প্রত্যাশামতো।
ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দামে বড় ধরনের স্বস্তি আসার সম্ভাবনা কম। তবে তার দাবি, নির্বাচনের পর দাম দ্রুত কমতে শুরু করবে। এমনকি প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম দুই ডলারের নিচে নামিয়ে আনার কথাও বলেছেন তিনি।
কিন্তু আপাতত সেই স্বস্তির দেখা নেই। উল্টো ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু স্টেশনে ডিজেলের দাম এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে পাম্পের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে সেই দাম দেখানোর জায়গাটুকুও আর নেই।
আরটিভি/এআর



