
বার্সা-রিয়াল দ্বৈরথ!ফুটবল ভক্তদের জন্য এর চেয়ে রোমাঞ্চকর আর কিছু হতে পারে কি? আমার মনে হয় না। এল ক্লাসিকো নামটিই তো এর মাহাত্ম্য বোঝানোর জন্য যথেষ্ট। এটা সত্যি যে এল ক্লাসিকো মোটেই কোনো ডার্বি ম্যাচ নয়।
মোদ্দা কথায় বললে দুদলের এই লড়াই মাদ্রিদের অভিজাত গোষ্ঠী এবং শোষিত কাতালানবাসীর চিরবৈরিতারই বহিঃপ্রকাশ। গোড়া থেকে বললে ফ্র্যাঙ্কোর আমল থেকে যখন মাদ্রিদ পাকাপাকিভাবে ধনিকশ্রেণির আখড়া হিসেবে শাসনক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে তখন থেকেই বার্সেলোনায় অনেকটা নীরবে নিভৃতেই সাংস্কৃতিক বিপ্লব দানা বাঁধতে থাকে। রক্ষণশীল মাদ্রিদ আর প্রগতিশীল বার্সেলোনার আদর্শিক সংঘাতই তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রিয়াল বার্সার গনগনে দ্বৈরথে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। যাকগে, ইতিহাসের পাট চুকিয়ে এবার একটু খেলার ময়দানে যাওয়া যাক।
সত্যিকার অর্থে এল ক্লাসিকো ধ্রুপদী ফুটবলের ঝাণ্ডাধারীতে পরিণত হয় আলফ্রেডো ডি স্টেফানো রিয়ালে আসার পর। রিয়ালের আজীবন প্রেসিডেন্ট এই অলটাইম গ্রেট রিয়ালের স্টেফানো হিসেবেই কীর্তিমান হন। তবে মজাটা এখানে যে, রিভার প্লেট থেকে তাকে দলে টানতে রিয়াল বার্সা দুই দলই তৎপর ছিল। আর এই দড়ি টানাটানিতে শেষ হাসি রিয়াল হেসে আক্ষরিক অর্থেই বিশাল এক দাও মেরে দেয়। আর মজার ব্যাপার হল বার্সার সঙ্গে প্রথম খেলাতেই দুই গোল করে তিনি বার্সার সমর্থকদের চক্ষুশূলে পরিণত হন। আর পরবর্তীতে ফর্মের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় বার্সা থেকে রিয়ালে যোগ দিয়ে লুই ফিগো আরকবার ন্যু ক্যাম্পে অবাঞ্ছিত ঘোষিত হন।
একথা অস্বীকার করার জো নেই যে ইপিএল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় লীগ। ম্যানউ-লিভারপুল, লিভারপুল-আর্সেনাল বা ম্যানইউ আর্সেনালের ম্যাচগুলোতেও উত্তেজনার পারদ যথেষ্টই চড়ে। আর ইন্টার-এসির ম্যাচ একে তো ডার্বি, তাই সবসময়ই বিস্ফোরন্মুখ থাকে। কিন্তু এল ক্লাসিকো! ফুটবল পিয়াসিদের কাছে এ যেন এক অমিয় সুধার নাম। ডিফেন্সকে জেরবার করে দেয়া নিঁখুত থ্রু, কিছু দুর্দান্ত ওভারল্যাপ, আর অসাধারণ ফিনিশিং, কি থাকে না এতে। গোলের খেলা ফুটবল আর সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এল ক্লাসিকো দর্শকদের দুহাত ভরে এই সুধা পান করতে দিয়েছে। ফুটবলামোদীদের জন্য সবরকম রসদ যোগানো এল ক্লাসিকো প্রায়ই কিছু অবিস্মরণীয় একক বা দলগত নৈপুণ্যে ভাস্বর মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে।

২০১৪ সালে ক্যাম্প ন্যুতে যোগ দিয়েছিল লুইস সুয়ারেজ। সে থেকে বার্সার এমএসএন (মেসি+সুয়ারেজ+নেইমার) আর রিয়ালের বিবিসি (বেল+বেনজেমা+ক্রিশ্চিয়ানো) ত্রয়ীর লড়াইটা আরো জমিয়ে দিত এল ক্লাসিকোকে। নেইমার চলে গেছে পিএসজিতে। গ্যারেথ বেল সবে ইনজুরি থেকে ফিরেছেন, তার খেলা নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। সবমিলে আজ বার্নাব্যুতে দেখা মিলবে না এমএসএন-বিবিসি ত্রয়ীর ভেলকি।
বার্সায় থাকাকালে নেইমার ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বড়সড় আতঙ্ক। লস ব্লাঙ্কোস নেতা সার্জিও রামোস এ কথাটা স্বীকারও করেছেন। আজ নেইমারকে ছাড়াই ক্লাসিকোতে নামবে বার্সা। গেল সামার ট্রান্সফার উইন্ডোতে রেকর্ড গড়ে কাতালান ক্লাব ছেড়ে যোগ দেন পিএসজিতে। তার জায়গা পূরণে অনেক দৌড়ঝাঁপ দিয়েছে বার্সেলোনা। শেষমেশ উসমান ডেম্বেলেকে উড়িয়ে আনে তারা। কিন্তু কয়েক ম্যাচ খেলার পরই ইনজুরিতে ছিটকে পড়েন ডেম্বেলে।
এদিকে এল ক্লাসিকোর ম্যাচটা দেখবেন না নেইমার। তার হাতে একদমই সময় নেই। নেইমার আছেন ছুটিতে। প্রতিবছরের মতো এবারও শীতকালীন সফরে কাতারে পিএসজির দলবল। সেখানে আছেন নেইমারও। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কাকে বলেই দিলেন, এই মুহূর্তে আমি পিএসজি নিয়ে ভাবতে চাই। এল ক্লাসিকো আমার দেখা হবে না।
এএ/জেবি




