
দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ। কিছু দিনের মধ্যেই রাশিয়ার সবুজ মাঠে রঙ ছড়াবে বিশ্বকাপ ফুটবল। এ নিয়ে ভক্ত ও দর্শকদের মধ্যেও চড়ছে উন্মাদনার পারদ।
এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেখতে অনলাইনে ২৩ লাখের বেশি টিকিট ক্রয়ের আবেদন জমা পড়েছে।
১ ডিসেম্বর ড্র হওয়ার পর যখন গ্রুপ পর্বের সূচি তৈরি হয়, তখনই হিসাব-নিকাশ করে টিকিট কেনার প্রস্তুতি নেন দর্শকরা। ৫ ডিসেম্বর থেকে বিশ্বকাপের ৬৪ ম্যাচের জন্য অনলাইনে টিকিট বিক্রয়ের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে টিকিট কেনার জন্য মাত্র দুই সপ্তাহে ২৩ লাখ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ানরাই সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। এরপর টিকিটের আবেদনকারীর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, পেরু, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, জার্মানি, মিশর এবং চীন।
তবে অনলাইনে আবেদন করলেই কিন্তু টিকিট নিশ্চিত নয়। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর ম্যাচ, ভেন্যু এবং টিকিট সংখ্যার ওপর নির্ভর করে বণ্টন করা হবে। যদি টিকিটের চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে লটারি করা হবে।
এর আগে প্রথম ধাপে ফিফার পক্ষ থেকে বিশেষ টিকিট বিক্রি হয়েছে শুধু রাশিয়ান নাগরিকদের জন্য। ৫ ডিসেম্বর ক্যাটাগরি-৪ নামে এই টিকিট বিক্রির প্রথম ধাপ শেষ হয়ে যায়।
এরপরই দ্বিতীয় ধাপে অনলাইনে টিকিট বিক্রির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। শুধু তাই নয়, প্রতিবন্ধীদের জন্যও আলাদাভাবে টিকিটের ব্যবস্থা করছে ফিফা।
বিবৃতিতে সে তথ্য জানিয়ে তারা বলেছে, প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য বিশেষ টিকিটের ব্যবস্থা করেছে ফিফা। ১২ স্টেডিয়ামে আসন থাকা সাপেক্ষে এবং টিকিটের আবেদনকারীর চলাচলের বিষয়টা বিবেচনায় রেখেই এই টিকিটগুলো বন্টন করা হবে।
আগেই ফিফা জানিয়েছে, প্রথম ধাপে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টিকিট বরাদ্দ দিয়েছে ফিফা। দ্বিতীয় ধাপেও দুটি পর্যায় রাখা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ করা হবে অনলাইনের মাধ্যমে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকিটি বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ থেকে সরাসরি টিকিট বিক্রির কাউন্টারে। তখন আগে আসলে আগে পাবেন- এমন নীতিতে টিকিট বিক্রি করা হবে। চলবে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত।
শুধু তাই নয়, এবার সমর্থকদের জন্য আলাদাভাবে আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারের (আইডি) ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উপর্যুক্ত কাগজপত্র প্রদর্শন করতে হবে টিকিট কেনার সময়। সেটা হোক অনলাইন কিংবা সরাসরি। রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের অনুরোধেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে ফিফা। এ কারণে ফিফার পক্ষ থেকে বলে দেয়া হয়েছে, যারা অনলাইনে টিকিটের আবেদন করছেন, তারা যখনই ফিরতি ই-মেইলে টিকিট কেনার কনফারমেশন পাবেন, সঙ্গে সঙ্গে যেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখে। কারণ, টিকিট সংগ্রহের সময় এগুলো প্রদর্শন করতে হবে।
এএ/কে




