
বিশ্বের যে কয়টি ফুটবল ক্লাব দাপট দেখিয়ে চলে তাদের অন্যতম একটি ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা। কিন্তু কালেভদ্রে বিভিন্ন সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে এ ক্লাবটি। বিশ্বের সব উদীয়মান ফুটবলারদেরই স্বপ্ন থাকে বার্সেলোনার হয়ে মাঠ মাতাবে। কিন্তু ব্রাজিলিয়ানদের জন্য এমন স্বপ্ন দেখাই যেন পাপ। কি পাঠক অবাক হলেন? এমন অবাক করা তথ্যই দিলেন বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক বার্সা তারকা রোনাল্ডো।
গ্রীষ্মের ট্রান্সফার মৌসুমে রেকর্ড গড়ে বার্সা ছেড়েছিলেন নেইমার জুনিয়র। ক্লাব ছেড়েই বার্সা সভাপতির বিরুদ্ধাচারণ করতে থাকেন তিনি। এর আগে ব্রাজিলিয়ান তারকাদের মধ্যে রোনালদো, রিভালদো, দানি আলভেস, রোনালদিনহোর মত তারকা খেলোয়াড়রা ক্লাব মাড়িয়ে গেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত বার্সেলোনার সঙ্গে যুক্ত আছেন রোনালদিনহো। বাকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে তিক্ততাই রয়েছে ক্লাবের।
ব্রাজিলিয়ানদের জন্য বার্সেলোনায় খেলার স্বপ্ন দেখাটা ভুল! এটা আমার কথা নয়। ব্রাজিলের ইতিহাসের ফুটবল কিংবদন্তী রোনাল্ডোর কথার অর্থ অন্তত সে রকমই। ব্রাজিলিয়ান এই কিংবদন্তি স্পষ্টই বললেন, বার্সেলোনা ব্রাজিলিয়ানদের জন্য খুব খারাপ! কাতালন ক্লাবটি ব্রাজিলিয়ানদের যথাযথ মূল্যায়ন করে না, মর্যাদা দেয় না!
না, কারো কান পড়া শুনে ন্যু-ক্যাম্পের প্রতি এই বৈরাগ্য নয় তিনবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার রোনাল্ডোর। নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং স্বদেশি বন্ধুদের অভিজ্ঞতা থেকেই ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, বার্সেলোনা ব্রাজিলিয়ানদের জন্য নয়। বরং বার্সেলোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদই হলো ব্রাজিলিয়ানদের জন্য আদর্শ ঠিকানা!
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে রোনাল্ডো একটা মৌসুম কাটিয়েছেন বার্সেলোনায়। ফরাসি ক্লাব পিএসজি থেকে ১৯৯৬ সালে যোগ দিয়েছিলেন বার্সেলোনায়। কিন্তু ন্যু ক্যাম্পে তার অভিজ্ঞতাটা খুব সুখকর হয়নি। না, মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না।
বরং বার্সার জার্সি গায়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সই ছিল রোনাল্ডোর। ৩৭ ম্যাচেই করেছিলেন ৩৪ গোল। কিন্তু ক্লাব কর্তারা যথাযথ মূল্যায়ন না করায় সম্পর্কটা রূপ নেয় তিক্ততায়। ১৯৯৭ সালেই তাই বার্সা ছেড়ে যোগ দেন ইন্টার মিলানে। ইতালিয়ান ক্লাবটিতে ৫ বছর কাটিয়ে ২০০২ সালে যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে।
ন্যু ক্যাম্পে টিকতে না পারলেও বার্নাব্যুতে বেশ সুখেই কাটিয়ে দেন ৫টি বছর। নিজেকে এখনো রিয়ালের একজন সমর্থক হিসেবেই দাবি করেন। বার্সেলোনার প্রতি তার মনোভাবটা ঠিক এর উল্টো। শুধু তার সঙ্গেই নয়। তার দুই স্বদেশি বন্ধু কিংবদন্তি রিভালদো এবং রোনালদিনহোর ক্ষেত্রেও বার্সেলোনা অধ্যায়ের শেষটা ছিল তিক্ততার।
রিভালদো এবং রোনালদিনহো, দুজনেই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুবর্ণ সময়টা পার করেছেন বার্সেলোনায়। ন্যু-ক্যাম্পে থাকতেই তারা পেয়েছেন ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। কিন্তু দুজনকেই শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনা ছাড়তে হয় তিক্ততা নিয়ে। ঠিকই একই ঘটনা ঘটেছে দানি আলভেস এবং নেইমারের ক্ষেত্রেও।
দীর্ঘ ৮ বছরে ন্যু ক্যাম্পকে আপন ঘর বানিয়ে ফেলেছিলেন দানি আলভেস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে সেই আপন ঘর থেকে বিদায় নিতে হয় নিরবে চোখের জল ফেলে। দল বদলাতে গিয়ে নেইমারকে তো বার্সেলোনার বিপক্ষে আইনী লড়াই করতে হচ্ছে।
ন্যু ক্যাম্পে নিজের এবং স্বদেশিদের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই ব্রাজিলিয়ান টিভি চ্যানেল এস্পোর্তে ইন্টারাতিভোকে রোনাল্ডো বলেছেন, বার্সেলোনায় দুর্দান্ত একটা বছরই কেটেছে আমার। তবে ন্যু ক্যাম্পের চেয়ে রিয়াল মাদ্রিদে অনেক বেশি সুখী এবং স্বাচ্ছন্দবোধ করেছি আমি।
রোনালদিনহো, রিভালদো ও নিজের উদাহরণ টেনে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত আমার বার্সা অধ্যায়ের শেষটা ছিল খুবই বাজে। ঠিক নেইমারের মতো। বার্সেলোনা সব সময়ই ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের জন্য সমস্যা। নেইমার, রোনালদিনহো, রিভালদোর এবং আমি সবার ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে। সর্বোচ্চ অবদান এবং নিবেদন সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ক্লাব আমাদের সবার সঙ্গেই বাজে ব্যবহার করেছে।
গত গ্রীষ্মে নেইমার পিএসজিতে পাড়ি জমানোর পর ব্রাজিলিয়ান শূন্যই হয়ে পড়েছিল বার্সেলোনা। তবে কদিন পরই পাওলিনহোকে দলে ভেড়ায় বার্সা। ন্যু ক্যাম্পে এখনো পর্যন্ত সুখেই আছেন পাওলিনহো। এই অবস্থায়, নেইমারের বিকল্প হিসেবে আরও একজন ব্রাজিলিয়ানকে নিতে চাইছে বার্সেলোনা। কাতালন ক্লাবটির রাডারে আছে লিভারপুলের ফিলিপ কুতিনহো, ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিও’র আর্থার এবং চীনা ক্লাব সাংহাই শেনহুয়ার অস্কার।
কিন্তু রোনাল্ডোর মতো একজন কিংবদন্তির মুখে এমন কথা শোনার পর তারা কেউ ন্যু ক্যাম্পে ঠিকানা গড়তে রাজি হবেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়।
এএ/এ




