
ফুটবল দুনিয়ার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। ভেঙে ফেলা হবে ইতালির কিংবদন্তি সান সিরো স্টেডিয়াম। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার বৈঠকের পর মিলানের সিটি কাউন্সিল এ সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৭ মিলিয়ন ইউরোতে এসি মিলান ও ইন্টার মিলানের কাছে বিক্রি করা হবে স্টেডিয়াম ও তার আশেপাশের জমি।
১৯২৬ সালে যাত্রা শুরু করা সান সিরো ফুটবলের ইতিহাসে অগণিত স্মৃতির সাক্ষী। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের আগে বড় সংস্কার করা হয়েছিলো মাঠটি। এরপর ফিফা বিশ্বকাপ, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ন্যাশন্স লিগসহ নানা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে আয়োজন হয়েছে এখানে। শুধু ফুটবল নয়, কনসার্টসহ সাংস্কৃতিক আয়োজনেও গ্যালারি ভরে উঠেছে বারবার। এসি মিলান ও ইন্টার মিলানের অসংখ্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত জড়িয়ে আছে এই মাঠের সাথে।
তবে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া স্টেডিয়ামটি আর আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। একাধিকবার সংস্কার করা হলেও অন্যান্য ইউরোপীয় ক্লাবের তুলনায় আয় কম এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি থেকেই গেছে। এজন্যই দুই জায়ান্ট ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়াম ভাঙার দাবি জানিয়ে আসছিলো। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে শুধু নতুন মাঠ নয়, বরং বাণিজ্যিক ও আবাসিক কমপ্লেক্সও গড়ে তোলা হবে।
নতুন করে সান সিরোর পাশেই নির্মিত হবে ৭১ হাজার ৫০০ আসনের আধুনিক স্টেডিয়াম। এরই মধ্যে নকশাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য ২০৩২ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ নতুন মাঠে আয়োজন করা।
তবে এখনই বিদায় বলছে না সান সিরো। আগামী শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধন এখানেই অনুষ্ঠিত হবে। নতুন স্টেডিয়াম তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এসি মিলান ও ইন্টার মিলানের ঘরের মাঠ হিসেবেই থাকবে এ ভেন্যু। পরবর্তীতে ভাঙা হলেও এর কিছু অংশ ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রায় এক শতাব্দী ধরে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া সান সিরো ভেঙে ফেলার এ সিদ্ধান্ত ইতালিয়ান সমর্থকদের মধ্যে আবেগ জাগালেও, আধুনিক যুগের জন্য এটিকেই ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার অপরিহার্য পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরটিভি/এসকে




