
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী আইটেম হল বিশ্বকাপ ট্রফি। ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় উপহার দেয়ার পর থেকে এই ট্রফিটির নকশা ও নির্মাণের দায়িত্ব এক বিশেষ ইতালীয় পরিবারের হাতে এসে গেছে।
বিশ্বকাপ ট্রফির বর্তমান রূপ নকশা করেছেন মিলানের ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগা। ১৯৭১ সালে ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তাঁর ডিজাইনটি নির্বাচিত হয়। এর আগে, ১৯৪৬ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ‘জুলে রিমে ট্রফি’ নামে পরিচিত এক পুরোনো ট্রফি ব্যবহৃত হত, যা ফিফার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট জুলে রিমের নামে নামকরণ করা হয়েছিল।
বিশ্বকাপ ট্রফি তৈরি হয় ১৮ ক্যারেট খাঁটি সোনায়, যার উচ্চতা ১৪ ইঞ্চি ও ওজন প্রায় ১৩ পাউন্ড। প্রতিবার বিশ্বকাপ আয়োজিত হলে এই ট্রফিটি বিশ্বজুড়ে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশের মধ্য দিয়ে ঘুরে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
বিশ্বকাপ ট্রফির বাজারমূল্য বর্তমানে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার হলেও তৈরি খরচ ছিল মাত্র ৫০ হাজার ডলার।
সিলভিও গাজ্জানিগার মৃত্যুর পর তার ছেলে জর্জিও গাজ্জানিগা জানিয়েছেন, তাদের পরিবার এখনও বিশ্বকাপ ট্রফি তৈরির অধিকার নিজেদের হাতে ধরে রেখেছে। সিলভিও নিজে বার্তোনি ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির হয়ে এই ট্রফি তৈরি করতেন, আর আজ ৫০ বছর পেরিয়ে সেই প্রতিষ্ঠান এখনো বিশ্বকাপ ট্রফির যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে।
সিলভিও গাজ্জানিগা বলেছিলেন, আমি এই ট্রফিটিকে বীরত্বের প্রতীক হিসেবে ডিজাইন করেছিলাম। এটা কোনো সাধারণ কাপ নয়, এটি এক বিশেষ সম্মান।
বিশ্বকাপ ট্রফির নকশাকার হিসেবে তিনি সরাসরি অর্থনৈতিক লাভ না পেলেও ইউরোপিয়ান সুপার কাপসহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক ট্রফি নকশা করে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
ফিফার বিশ্বকাপ ২০২২ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। কাতারে আসন্ন এই আসরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের স্বপ্ন বুনতে থাকবে এই মহার্ঘ্য ট্রফির হাতছানি।
আরটিভি/এসকে


