ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

১৯৬৬ থেকে ২০২৬: বিশ্বকাপ মাতিয়েছে যেসব মাসকট

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের মাসকট। ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা, এরপরই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ মানেই শুধু ফুটবলের এক মহাযজ্ঞ নয়; এটি আসলে সংস্কৃতি, আবেগ আর নানা প্রান্তের মানুষের মোহনাস্থল। স্টেডিয়ামে লাখো দর্শকের উচ্ছ্বাস যেমন টুর্নামেন্টকে প্রাণবন্ত করে তোলে, তেমনি প্রতিটি আসরের আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো তার অফিসিয়াল মাসকট।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনটি মাসকট উন্মোচন করেছে ফিফা। মূলত, বিশ্বকাপের আয়োজক ভিন্ন তিন দেশ হওয়ায় আলাদা আলাদা মাসকট উন্মোচন করা হয়েছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর কল্পনাশক্তিকে তুলে ধরা হয়েছে বিশ্বের সামনে।

অবশ্য জেনে অবাক হবেন যে বিশ্বকাপের শুরুর দিকে এমন কোনো রীতি ছিল না। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকেই প্রথমবারের মতো মাসকটের যাত্রা শুরু। তারপর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপ যেন নিজের আলাদা এক চরিত্র খুঁজে নেয় মাস্কটের মধ্য দিয়ে।

পাঠকদের জন্য সবগুলো বিশ্বকাপের মাসকটের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

ক্লাচ, মেপল ও জায়ু (২০২৬)

২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ফলে তিন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ক্লাচ, মেপল ও জায়ুকে। ক্লাচ নামের ঈগল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি।

LIT__ON_cop_y_20250926_131204960_(1)

কানাডার প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছে মেপল মুজ নামের হরিণবিশেষ। আর জায়ু হচ্ছে মেক্সিকোর জঙ্গল থেকে আসা এক জাগুয়ার। এই তিন মাসকটকেই ফুটবলার হিসেবে দেখানো হয়েছে। যেখানে মেপল গোলকিপার, জায়ু স্ট্রাইকার ও ক্লাচ হচ্ছে মিডফিল্ডার।

লা’ইব (২০২২)

কাতার বিশ্বকাপের মাসকট ছিল ‘লা’ইব’। আরবিতে যার অর্থ অতিমাত্রায় দক্ষ খেলোয়াড়। এটি মূলত আরব সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী পুরুষদের মাথার কাপড় ‘ঘুতরা’-কে মানবসদৃশ রূপ দিয়ে তৈরি করা এক বন্ধুসুলভ চরিত্র। মাসকটটির সাদা রঙ বেছে নেওয়া হয়েছিল পবিত্রতা বা বিশুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে।

জাবিভাকা (২০১৮)

রাশিয়া বিশ্বকাপে মাসকট ছিল ‘জাবিভাকা’ নামের এক নেকড়ে। রুশ ভাষায় যার অর্থ ‘গোলদাতা’। স্পোর্টস গগলস পরা এই নেকড়ে ছিল আত্মবিশ্বাসী আর দ্রুতগতির প্রতীক। অনলাইন ভোটে বাঘ আর বিড়ালকে হারিয়ে এটি অফিসিয়াল মাসকট হয়েছিল।

ফুলেকো (২০১৪)

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের মাসকট ছিল ‘ফুলেকো’—একটি ব্রাজিলিয়ান থ্রি-ব্যান্ডেড আর্মাডিলো। সাদা রঙের ‘ব্রাজিল ২০১৪’ লেখা জার্সি ও সবুজ শর্টস পরা বিশেষ প্রজাতির আর্মাডিলো শুধু ব্রাজিলেই পাওয়া যায় এবং এটি বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকাভুক্ত।

তাই ফুলেকোকে মাসকট হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে ব্রাজিল তাদের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের প্রতিও বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিল।

জাকুমি (২০১০)

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের মাসকট ছিল এক চিতা—‘জাকুমি’। নামের ‘জেডএ’ এসেছে সাউথ আফ্রিকার সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে, আর ‘কুমি’ মানে দশ। পুরো নামটি ২০১০ বিশ্বকাপকেই প্রতিনিধিত্ব করেছে।

গোলেও (২০০৬)

২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের মাসকটের নাম ছিল ‘গোলেও সিক্স’। ‘গোল’ এবং ‘লিও’ শব্দ দুটির সমন্বয়ে তৈরি এই নামের সিংহটি জার্মান জাতীয় দলের রঙের পোশাক পরেছিল।

তার সঙ্গে ছিল ‘পিলে’ নামের একটি ফুটবল, যা জার্মানিতে ফুটবলের প্রচলিত কথ্য নাম হিসেবেও পরিচিত।

আতো, কাজ ও নিক (২০০২)

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দেখা যায় কম্পিউটার জেনারেটেড মাসকট। কমলা, বেগুনি ও নীল রঙের তিনটি কম্পিউটার-নির্মিত চরিত্রের সবাই ছিল কাল্পনিক ফুটবলসদৃশ খেলা ‘অ্যাটমবল’-এর একটি দলের সদস্য।

সেখানে ‘আতো’ ছিল কোচ, আর ‘কাজ’ ও ‘নিক’ ছিল খেলোয়াড়। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং আয়োজক দেশগুলোর ম্যাকডোনাল্ডস আউটলেটে হওয়া ভোটের মাধ্যমে এই তিন চরিত্রের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

ফুটিক্স (১৯৯৮)

১৯৯৮ বিশ্বকাপে মাসকট হিসেবে ফরাসি ঐতিহ্যের প্রতীক মোরগকে বেছে নেয় ফ্রান্স। লাল-নীল রঙের সেই মোরগের নাম দেওয়া হয় ‘ফুটিক্স’। ‘ফুটবল’ আর বিখ্যাত কমিক চরিত্র ‘অ্যাস্টেরিক্স’-এর নাম মিলিয়েই এই নামকরণ।

স্ট্রাইকার (১৯৯৪)

১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের মাসকট ছিল একটি কুকুর। যা আমেরিকান পরিবারগুলোর অন্যতম জনপ্রিয় পোষা প্রাণী। লাল, সাদা ও নীল রঙের ফুটবল জার্সি পরা এই কুকুরটির পোশাকে বড় করে লেখা ছিল ‘ইউএসএ ৯৪’।

চাও (১৯৯০)

ইতালিয়া ’৯০ বিশ্বকাপে এল সম্পূর্ণ নতুন এক ধারণা। ‘চাও’ ছিল জ্যামিতিক আকৃতিতে তৈরি এক বিমূর্ত ফুটবলার—যার মাথার জায়গায় ছিল ফুটবল। ইতালির পতাকার সবুজ, সাদা ও লাল রঙে সাজানো এই মাসকট ছিল আধুনিক শিল্পের এক অনন্য প্রয়োগ। এখন পর্যন্ত এটিই ছিল একমাত্র মুখবিহীন মাসকট।

পিকে (১৯৮৬)

এই বছর মেক্সিকো দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ আয়োজন করে। তবে এবার মাসকট হিসেবে নিয়ে আসে ‘পিকে’ নামের একটি মরিচ। এবারও ফিরে আসে পরিচিত সেই সোমব্রেরো টুপি। তবে এবার সেটি কোনো ছেলের মাথায় ছিল না, দেখা গেলো এক বিশাল মরিচের গায়ে।

যেহেতু মরিচের আদি নিবাস মেক্সিকো। তাই ‘পিকে’ নামের এই মাসকটের মুখে ছিল আদর্শ মেক্সিকান ঘরানার বড় গোঁফও। স্পেনের ‘নারানহিতো’ যেভাবে ফল ও সবজিভিত্তিক মাসকটের ধারা শুরু করেছিল, পিকে যেন সেই ধারাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে গেছে।

নারানহিতো (১৯৮২)

স্পেন বিশ্বকাপে মাসকটের ডিজাইনে বড় পরিবর্তন আসে। এবার মানুষ নয়, প্রতীক হিসেবে দেখানো হয় কমলা। যার নাম ‘নারানহিতো’। স্পেনের পরিচিত ফল কমলাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় চরিত্রটি। নির্মাতারা ইচ্ছে করেই ষাঁড়ের মতো প্রচলিত প্রতীক এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

গাউচিতো (১৯৭৮)

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের মাসকট ছিল ‘গাউচিতো’। আর্জেন্টাইন কাউবয় সংস্কৃতির প্রতীকী রূপ ছিল এই চরিত্র। আলবিসেলেস্তেদের জার্সি, গলায় হলুদ স্কার্ফ আর হাতে গাউচোদের ঐতিহ্যবাহী চাবুক—সব মিলিয়ে গাউচিতো ছিল আর্জেন্টিনার লোকজ সংস্কৃতির ফুটবল সংস্করণ।

টিপ অ্যান্ড ট্যাপ (১৯৭৪)

পশ্চিম জার্মানির বিশ্বকাপ মাসকটে ছিলো দুই শিশু— যার একজন স্বর্ণকেশী, অন্যজন কালো চুলের। জার্মান জাতীয় দলের জার্সি পরা দুই শিশুর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘টিপ’ অ্যান্ড ‘ট্যাপ’।

দু’জনের জার্সিতে ছিল ‘ডাব্লিউএম’ এবং ‘৭৪’ লেখা। অনেকে মনে করেন, এই দুই চরিত্রের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির ঐক্যের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

হুয়ানিতো (১৯৭০)

ইংল্যান্ডের সাফল্যের পর মেক্সিকোও একই পথে বানায় ‘হুয়ানিতো’। মেক্সিকোর ঐতিহ্যের অংশ সোমব্রেরো টুপি পরা ছোট্ট এক মেক্সিকান ছেলে—যার মুখে ছিল ফুটবলের আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। বিজ্ঞাপনের গ্রাফিক ডিজাইনার হুয়ান গঞ্জালেজ মার্টিনেজ চেয়েছিলেন ফুটবলকে শিশুদের আনন্দের ভাষায় তুলে ধরতে।



ওয়ার্ল্ড কাপ উইলি (১৯৬৬)

বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম মাসকট ছিল ‘উইলি’ নামের এক সিংহ। যাকে ফাদার অব অল ওয়ার্ল্ডকাপ মাসকটও বলা হয়। ইংল্যান্ডের জাতীয় প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল তাকে। ব্রিটিশ পতাকার রঙে সাজানো ফুটবল জার্সি পরা এই সিংহ মুহূর্তেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

শিল্পী রেগ হয়ের তৈরি এই চরিত্রটি শুধু শিশুদের কাছেই নয়, পুরো ফুটবল দুনিয়ার কাছেই নতুন এক আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই বিশ্বকাপেই ইংল্যান্ড জেতে তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ নারী দল
প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ দল। তৃতীয় ম্যাচটা জিতে সম্মান রক্ষার কথা জানিয়েছিলেন শারমিন আক্তার সুপ্তা। কিন্তু নিজের কথা রাখতে পারেননি তিনি। এতে অজিদের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এদিন বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্রিসবেনের অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৯ দশমিক ৫ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে মাত্র ২২ দশমিক ৪ ওভারে ২ উইকেটে ১৭৫ রান তুলে নেয় স্বাগতিকরা। ১৬৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা। ১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় অবশ্য শুরুতে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ওভারে জর্জিয়া ভলকে (১১) এলবিডব্লিউ করেন সুলতানা খাতুন। এরপর নিজের শততম ওয়ানডে খেলতে নামা বেথ মুনিকে ২১ রানে বোল্ড করেন দিশা বিশ্বাস। মাত্র ৩৮ রানে দুই ওপেনারকে হারায় স্বাগতিকরা। তবে বাংলাদেশের সেই সাফল্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ শেষ করেন পেরি ও সাদারল্যান্ড। শুরুতে কিছুটা দেখেশুনে খেললেও দ্রুতই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তাঁরা। বিশেষ করে সাদারল্যান্ডের ব্যাটে দ্রুত রান উঠতে থাকে। মাত্র ৫২ বলে ১২টি চারে অপরাজিত ৭৪ রান করেন তিনি। অন্যদিকে পেরি ৬৪ বলে ৮টি চারে অপরাজিত থাকেন ৬৫ রানে। দুজনের দাপটে বাংলাদেশের আর কোনো বোলারই উইকেটের দেখা পাননি। এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার মেগান শাটের বোলিংয়ে মাত্র ১৮ রানে ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। মুর্শিদা খাতুন ১, শারমিন সুলতানা ৬ ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৩ রান করে ফেরেন। এরপর আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সোবহানা মোস্তারীকেও ৯ রানে ফেরান শাট। ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন বড় বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। পঞ্চম উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন দুজন। ৯৩ বলে ৮টি চারে ৫০ রান করে এলিস পেরির বলে আউট হন শারমিন। এরপরও এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান স্বর্ণা। ৭১ বলে ৪টি চারে ৫৪ রান করেন স্বর্ণা। শেষদিকে দিশা বিশ্বাস ১৩ রানে অপরাজিত থাকলে বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছায় ১৭২-এ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন শাট। ১০ ওভারে পাঁচটি মেডেনসহ মাত্র ১৬ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি। সাদারল্যান্ড ও অ্যাশলি গার্ডনার নেন দুটি করে উইকেট। দুর্দান্ত বোলিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পাশাপাশি সিরিজসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন শাট। আরটিভি/এসআর
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ নারী দল
‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ১৫ তরুণ, ৪৩২ যুব সংগঠন পাচ্ছে অনুদান
সামাজিক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৫ তরুণ-তরুণীকে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য দেশের ৪৩২টি যুব সংগঠনকে মোট ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার এবং নির্বাচিত যুব সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের প্রতীকী চেক তুলে দেবেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, তরুণদের উদ্যম, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি দিতে এবং সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা যুব সংগঠনগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুবকল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে দুটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর একটি হলো স্থায়ীভাবে প্রবর্তিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ এবং অন্যটি প্রকল্পভিত্তিক অনুদান কার্যক্রম ২০২৫-২৬। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অসাধারণ অবদান রাখা ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্য থেকে আটটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে দুজন করে মোট ১৬ জনকে পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও চূড়ান্তভাবে ১৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। পুরস্কারের আটটি ক্যাটাগরি হলো- আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ক্রীড়া উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনকল্যাণ, অসহায় ও দুস্থ মানুষের সেবায় অসাধারণ অবদান, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও কারিগরি ক্ষেত্র, নারী ও শিশু উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। এছাড়া কলা ও সংস্কৃতিতে অবদানের বিষয়টিও ক্যাটাগরির তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। আমিনুল হক জানান, নির্বাচিত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা, একটি আকর্ষণীয় সম্মাননা ক্রেস্ট, পদক ও রাষ্ট্রীয় সনদ দেওয়া হবে। এসব পুরস্কারের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত তরুণদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য তরুণকেও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করা হবে। যুব সংগঠনগুলোর জন্য প্রকল্পভিত্তিক অনুদানের বিষয়ে তিনি বলেন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে দেশের নিবন্ধিত যুব সংগঠনগুলোর জন্য এ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত ৪৩২টি যুব সংগঠনকে মোট ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। অনুদান বণ্টনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি জেলার নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠনকে এক লাখ টাকা এবং প্রতিটি উপজেলার নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ সংগঠনকে ৭৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বিশেষ ক্যাটাগরিতে বৃহৎ প্রভাবসম্পন্ন ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংগঠনগুলোকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। তিনি বলেন, তরুণদের সামাজিক উদ্যোগকে টেকসই করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করাই এ অনুদান কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। যুব সংগঠনগুলো আর্থিক সহায়তা পেলে তারা নিজেদের এলাকায় আরও কার্যকরভাবে সামাজিক সমস্যা সমাধান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানান, গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় দৈনিক সমকাল ও ডেইলি স্টারসহ পত্রিকায় পুরস্কার ও অনুদানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রান্তিক পর্যায়ের তরুণদের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হয়। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসকদের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে আবেদন যাচাই-বাছাই ও সুপারিশের পর চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়েছে। ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্য আটটি ক্যাটাগরিতে মোট ৪১৩টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ের কমিটি ১৮০টি আবেদন সুপারিশ করে। অন্যদিকে, যুব সংগঠনের প্রকল্পভিত্তিক অনুদানের জন্য সাধারণ ও বিশেষ ক্যাটাগরি মিলিয়ে ১ হাজার ৬০৮টি আবেদন জমা পড়ে। পরবর্তী সময়ে যুবকল্যাণ তহবিল ব্যবস্থাপনা বোর্ডের ৫৪তম সভায় মেধা, কাজের প্রভাব ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়। এর ভিত্তিতে ১৫ জন তরুণ-তরুণীকে পুরস্কারের জন্য এবং ৪৩২টি যুব সংগঠনকে অনুদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবরের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সারাদেশের যুব সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে যুক্ত রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত তিনটি যুব সংগঠনের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের প্রতীকী চেক তুলে দেবেন। একই সময়ে জেলা প্রশাসকদের ব্যবস্থাপনায় বাকি ৪২৯টি নির্বাচিত সংগঠনের হাতে জেলাভিত্তিক প্রতীকী চেক দেওয়া হবে। তিনি বলেন, অনুদানের অর্থ বিতরণে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচিত সংগঠনগুলোর ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে চেক প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই পুরস্কারের অর্থ সংশ্লিস্ট সংগঠনগুলোর ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ ও সামাজিক অবদান জাতির সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু পুরস্কার দেওয়া নয়; বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করা তরুণ ও যুব সংগঠনগুলোর সাফল্যের গল্প সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। যুবসমাজের ইতিবাচক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির পথ সুগম করতে সরকার এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চায় বলেও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আরটিভি/এসআর
‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ১৫ তরুণ, ৪৩২ যুব সংগঠন পাচ্ছে অনুদান
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের সব ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব পেল নেটফ্লিক্স
সরাসরি খেলা সম্প্রচারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স। ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে মার্কিন এই স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ স্বত্ব কার্যকর হবে শুধু স্পেন ও অ্যান্ডোরায়।
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের সব ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব পেল নেটফ্লিক্স
সুখবর পেলেন লিটন দাস ও হাসান মাহমুদ
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের লিটন দাস ও হাসান মাহমুদ। আইসিসির সবশেষ টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটিংয়ে তিন ধাপ এবং বোলিংয়ে সাত ধাপ এগিয়েছেন তারা।
সুখবর পেলেন লিটন দাস ও হাসান মাহমুদ
বিশ্বকাপ থেকে ২১ কোটি টাকা নিয়ে এবার বিতর্কের মুখে ইনফান্তিনো
বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্বে থাকা সংস্থা থেকে অতিরিক্ত প্রায় ২১ কোটি টাকা পাওয়ার তথ্য প্রকাশের পর নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
বিশ্বকাপ থেকে ২১ কোটি টাকা নিয়ে এবার বিতর্কের মুখে ইনফান্তিনো
আরও পড়ুন
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের সব ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব পেল নেটফ্লিক্স
বিশ্বকাপ থেকে ২১ কোটি টাকা নিয়ে এবার বিতর্কের মুখে ইনফান্তিনো
ঘরের মাঠে তুরস্ককে হারাল ইতালি
ফিফার নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কোথায়?