বিশ্বকাপ ট্রফি সম্পর্কে জানা-অজানা ৫ তথ্য

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ১১:১৫ পিএম


বিশ্বকাপ ট্রফি সম্পর্কে জানা-অজানা ৫ তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

আর কয়েক ঘণ্টা পর ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামার আগে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বিশ্বকাপ ট্রফি।

১৮ ক্যারেট সোনায় তৈরি এই ট্রফি শুধু একটি পুরস্কার নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ইতিহাস, অনন্য নকশা এবং নানা আকর্ষণীয় তথ্য। কেন চ্যাম্পিয়ন দল আসল ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে পারে না, কেন এটি বহন করার জন্য বিশেষ লুই ভুইতোঁ ট্রাঙ্ক ব্যবহার করা হয়—এসব বিষয় অনেক ফুটবলপ্রেমীরই অজানা।

বিশ্বকাপ ট্রফি সম্পর্কে এমনই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো।

১. ট্রফিতে রয়েছে পাঁচ কেজির বেশি খাঁটি সোনা

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির ওজন ৬ দশমিক ১৪২ কেজি। এর মধ্যে ৫ দশমিক ০৯২ কেজিই ১৮ ক্যারেটের খাঁটি সোনা। অর্থাৎ, ফাইনাল শেষে যে অধিনায়ক ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন, তিনি কেবল একটি প্রতীকী পুরস্কার নয়, পাঁচ কেজিরও বেশি খাঁটি সোনায় তৈরি ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিই হাতে তুলে নেন। ট্রফিটির বাকি অংশ তৈরি হয়েছে অর্ধ-মূল্যবান পাথর ম্যালাকাইট দিয়ে।

২. ট্রফি ধরার ক্ষেত্রে রয়েছে কঠোর নিয়ম

বিশ্বকাপ ট্রফি যে কেউ ইচ্ছামতো স্পর্শ করতে পারেন না। বিশেষ সুরক্ষামূলক গ্লাভস ছাড়া ট্রফি ধরার অনুমতি রয়েছে কেবল ফিফা সভাপতি, বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের। অন্য সবাইকে সাদা সুরক্ষামূলক গ্লাভস পরে ট্রফি স্পর্শ করতে হয়, যাতে ট্রফির গায়ে আঁচড়, আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনো ক্ষতি না হয়।

৩. স্থায়ীভাবে আসল ট্রফি কখনোই দেওয়া হয় না

বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাস শেষে আসল ট্রফি আবারও ফিফার কাছেই ফিরে যায়। বর্তমানে এটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফা মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দলকে স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় ফিফার অনুমোদিত স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া প্রতিরূপ (গোল্ড-প্লেটেড রেপ্লিকা)। আসল ট্রফিটি কেবল ফিফার নির্ধারিত বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোতে প্রদর্শনের জন্য বাইরে আনা হয়। পরে আবার জুরিখের মিউজিয়ামেই ফিরিয়ে রাখা হয়।

আরও পড়ুন

৪. প্রতি বিশ্বকাপের পর ট্রফির নিচের অংশ পরিবর্তন

বিশ্বকাপ শেষে ট্রফির নিচের চাকতির (বটম ডিস্ক) ওপর খোদাই করা চ্যাম্পিয়নদের নাম সংরক্ষণ করে ফিফা। এরপর সেটি খুলে ফিফা মিউজিয়ামে রাখা হয় এবং নতুন একটি ডিস্ক যুক্ত করা হয়, যেখানে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন দলের নাম খোদাই করা হয়। এর ফলে ট্রফির মূল অংশ অক্ষত থাকে এবং ধারাবাহিকভাবে নতুন চ্যাম্পিয়নদের নাম যুক্ত করা সম্ভব হয়।

বর্তমান ট্রফিটি ১৯৭৪ সাল থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে ব্যবহৃত জুলে রিমে ট্রফি ১৯৭০ সালে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে স্থায়ীভাবে নিজেদের করে নেয় ব্রাজিল। বর্তমান ট্রফির নকশা করেছেন ইতালির খ্যাতনামা ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগা। এরপর থেকে প্রতিটি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এই ট্রফিই গ্রহণ করে আসছে।

৫. বিশ্বকাপ ট্রফি বহনে বিশেষ ট্রাঙ্ক

বিশ্বকাপ ফাইনালেও ট্রফি মাঠে আনা হবে ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড লুই ভুইতোঁ-এর তৈরি বিশেষ ট্রাঙ্কে। ২০১০ সাল থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে লুই ভুইতোঁর একজন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এবং ফিফার একজন কিংবদন্তি ফুটবলার ট্রফিটি মাঠে নিয়ে আসবেন।

হাতে তৈরি এই বিশেষ ট্রাঙ্কে লুই ভুইতোঁর স্বাক্ষরধর্মী মনোগ্রাম ক্যানভাস, সোনালি রঙের ‘ভি’ আকৃতির নকশা, সোনালি ধাতব অংশ, চামড়ার অলংকরণ এবং ব্র্যান্ডটির বিখ্যাত তালা ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাঙ্কের ভেতরে হালকা বেইজ রঙের চামড়ার আস্তরণ রয়েছে। ঢাকনার ভেতরে রয়েছে লুই ভুইতোঁ–ফিফার বিশেষ প্রতীক।

বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফির নিচের অংশে ১৯৭৪ সাল থেকে সব বিশ্বচ্যাম্পিয়নের নাম খোদাই করা হচ্ছে। তবে সেখানে আর মাত্র কয়েকটি নতুন নাম যুক্ত করার জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৪২ বিশ্বকাপের আগেই নতুন ট্রফির নকশা তৈরির প্রয়োজন হতে পারে, কারণ বিদ্যমান ট্রফির ভিত্তিতে নতুন চ্যাম্পিয়নদের নাম খোদাই করার জায়গা প্রায় শেষ হয়ে আসছে।

সূত্র: ফিফার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের ভিডিও থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্পাদিত।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission