২০২৬ বিশ্বকাপে নানা বিতর্কের কারণে ফিফা সভাপতির উপর বিরক্ত প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ও উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনকাকাফের মতো শক্তিশালী সংস্থাগুলো। ফিফা সভাপতির পদে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে আর দেখতে চায় না সংস্থাগুলো।
সম্প্রতি বিশ্বকাপ বয়কেটর ডাকে একমত পোষণ করেছিল ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার ফুটবল সংস্থাগুলো। এর মাঝেই নতুন করে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে বিশ্বকাপের এক বিকল্প টুর্নামেন্টের গুঞ্জন।
আর এই সুযোগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই স্পোর্টস এক প্রতিবেদনে মনে করিয়ে দিয়েছে—প্রায় এক দশক আগেই বিশ্বের সব কনফেডারেশনের ৫৬টি দেশ নিয়ে ‘গ্লোবাল নেশনস লিগ’ নামে একটি টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা করেছিল উয়েফা।
সেই টুর্নামেন্টের রূপরেখারও একটি সমীকরণ দেখিয়েছে স্কাই স্পোর্টস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্লোবাল নেশনস লিগের নকআউট বিন্যাসের সেই পরিকল্পনা যদি ২০২৬ সালে বাস্তবায়ন করা হতো তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভবনা ছিল ইংল্যান্ড-ব্রাজিলের।
জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিজোড় বছরগুলোতে টুর্নামেন্টটি আয়োজনের ভাবনা শুরু করেছিল উয়েফা। তাদের সেই প্রস্তাবিত কাঠামোটি ছিল এমন—বিশ্বের ৫৬টি জাতীয় দলকে সাতটি ডিভিশনে ভাগ করা হবে, যেখানে প্রতিটি ডিভিশনে থাকবে ৮টি করে দল। কনফেডারেশনের কোনো কঠোর বাধ্যবাধকতা ছাড়াই এতে দলগুলো অংশ নিতে পারবে।
প্রস্তাবিত ডিভিশনগুলোর বিন্যাস ছিল— প্রথম থেকে ষষ্ঠ ডিভিশন পর্যন্ত প্রতিটিতে ইউরোপের ৩টি, দক্ষিণ আমেরিকার ২ টি এবং আফ্রিকা, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার ১টি করে দল থাকবে। আর চতুর্থ ডিভিশনে অতিরিক্ত একটি দল হিসেবে যুক্ত হবে ওশেনিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি।
ম্যাচের ফরম্যাট ছিল সম্পূর্ণ নকআউট ভিত্তিক। প্রতিটি ডিভিশনের ৮টি দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে, সেখান থেকে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। আর এক-একটি ডিভিশনের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে নির্দিষ্ট একটি আয়োজক দেশে।
বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে এই টুর্নামেন্টের রূপরেখা দাঁড় করালে দেখা যায়—প্রথম ডিভিশনে থাকবে ইউরোপের শীর্ষ তিনটি দল, দ্বিতীয় ডিভিশনে পরবর্তী তিনটি দল, এভাবে পর্যায়ক্রমে ভাগ হবে।

তবে দক্ষিণ আমেরিকায় মোট ১০টি জাতীয় দল থাকায় সব গ্রুপে তাদের সমবন্টন করা সম্ভব নয়। ফলে প্রথম তিনটি গ্রুপে ২টি করে এবং বাকি চারটি গ্রুপে ১টি করে দল রাখা যাবে। এতে ষষ্ঠ ও সপ্তম ডিভিশনে যে ৩টি স্থান ফাঁকা থাকবে, সেগুলো পূরণ হতে পারে আফ্রিকার সেরা তিন দল (ক্যামেরুন, মালি ও দক্ষিণ আফ্রিকা) দিয়ে।
যদি ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, প্রথম বনাম অষ্টম ও দ্বিতীয় বনাম সপ্তম ভিত্তিতে কোয়ার্টার ফাইনাল সাজানো হয়। তবে প্রথম ডিভিশনের সূচি হতে পারে—স্পেন বনাম জাপান, আর্জেন্টিনা বনাম মেক্সিকো, ফ্রান্স বনাম মরক্কো ও ইংল্যান্ড বনাম ব্রাজিল।
তবে এই নিয়মে নেশনস লিগের সমীকরণ থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে স্কটল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, রোমানিয়া, আয়ারল্যান্ড ও বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার মতো ইউরোপের প্রতিষ্ঠিত দলগুলো।
আফ্রিকা রাজি না হলে গ্লোবাল নেশনস লিগের সমীকরণ কী?
উয়েফা ও কনকাকাফ বিশ্বকাপে তাদের দল পাঠাতে না চাওয়ায় এবং এশিয়াও সেই পথে হাঁটার আভাস দেওয়ায়, কেবল আফ্রিকার সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকে যায়।
আফ্রিকা যদি ফিফার পাশে থাকে, তবে আফ্রিকান দলগুলোকে বাদ দিয়েই টুর্নামেন্টের গঠন কেমন হবে, তারও হিসাব কষেছে বিশ্লেষকরা। সে ক্ষেত্রে কিউরাসাও বা হাইতির মতো দলগুলোকে যুক্ত করে ৮টি ডিভিশনে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা যেতে পারে।

তবে আফ্রিকা ছাড়া এই টুর্নামেন্টের আকর্ষণ ও শক্তি যে অনেকটাই ফিকে হয়ে যাবে, তা স্পষ্ট। সব মিলিয়ে এটিকে ফুটবল বিশ্বের এক নতুন ও অদ্ভুত রূপরেখা বলা যায়।
একদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর ‘১০৪ ম্যাচের’ এক বিশাল আয়োজন, অন্যদিকে উয়েফার এই পরিকল্পনা যেন একই সাথে চলতে থাকা সাতটি ভিন্ন মাত্রার ‘ছোট বিশ্বকাপ’। শেষ পর্যন্ত কার পরিকল্পনা কতটা বাস্তবে রূপ নেবে বা কোনটি বেশি কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
আরটিভি/এসআর



