
টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে বিরল এক কীর্তির সাক্ষী হলো লিডসের হেডিংলি। পাকিস্তানের বিপক্ষে একই ইনিংসে ইংল্যান্ডের দুই পেসার ওলি রবিনসন ও জশ টাং শুধু ফাইফারই পূর্ণ করেননি, পরপর দুই বলে পাঁচ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে গড়েছেন অনন্য নজির। এরপর সেই কীর্তির স্মারক বলটি দুজনের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
পাকিস্তানকে মাত্র ১৭১ রানে অলআউট করার পথে ১০ উইকেট ভাগাভাগি করেন রবিনসন ও টাং। ইনিংসের শেষ দুই উইকেটের পতন হয় পরপর দুই বলে। ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে খুররাম শেহজাদকে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন রবিনসন। পরের বলেই মুহাম্মদ আব্বাসকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন টাং।
সাধারণত পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলার ম্যাচের স্মারক হিসেবে ব্যবহৃত বলটি নিজের কাছে রেখে দেন। কিন্তু একই ইনিংসে দুজনের ফাইফার এবং সেটিও পরপর দুই বলে হওয়ায় বলটি কে রাখবেন, তা নিয়ে তৈরি হতে পারত জটিলতা। সেই সমস্যা সমাধান করেছেন দুজন নিজেরাই।
ইনিংস শেষে ইংল্যান্ড দলের ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনায় বলটি হেডিংলির মাঠকর্মীদের কাছে পাঠানো হয়। পরে তারা বলটি ঠিক মাঝ বরাবর কেটে দুই ভাগ করে দেন। ফলে ঐতিহাসিক বলটির একটি অংশ রবিনসনের কাছে এবং অন্য অংশটি টাংয়ের কাছে থাকার সুযোগ তৈরি হয়।
বিষয়টি নিয়ে রবিনসন বলেন, আমরা মাঠ ছাড়ছিলাম। তখন টাংকে বললাম, আমার মনে হয় বলটা আমাদের ভাগ করে নেওয়া উচিত। সে-ও বলল, হ্যাঁ, এটা করা যায়। আমি বললাম, এটা বেশ মজার হবে। ক্রিকেট বলের অর্ধেক অংশ তো আর খুব বেশি মানুষের কাছে থাকে না। তাই এটা এমন কিছু হবে, যা আমরা কখনও ভুলব না।
তিনি আরও বলেন, একই ইনিংসে দুজনের পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনা তো খুব বেশি ঘটে না। তাই এটা ছিল দারুণ একটা ইঙ্গিত এবং স্মরণ করে রাখার মতো কিছু।
রবিনসনের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে টাংও বিষয়টি বেশ উপভোগ করেছেন। বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে তিনি বলেন, রব্বোই (রবিনসন) বলেছিল, আমরা বলটা অর্ধেক করে নিতে পারি। মাঠকর্মীরা দারুণভাবে সেটি করে দিয়েছেন। এর আগে কখনও এমন হতে দেখিনি। নিশ্চয়ই এটা কোথাও তুলে রাখব।
এর আগে ম্যাচের প্রথম বলেই পাকিস্তানি ওপেনার আজান আওয়াইসকে ফিরিয়ে দারুণ সূচনা করেন রবিনসন। ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রায় ২০ বছর পর কোনো বোলারের টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটি। এরপর পাকিস্তানের টপ অর্ডারের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের চারজনকেই সাজঘরে ফেরান তিনি।
রবিনসনের পর পাকিস্তানের ইনিংসের বাকি অংশে ধস নামান টাং। শেষ পর্যন্ত ১৭১ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। আর ইনিংসের শেষ দুই উইকেট পরপর দুই বলে তুলে নিয়ে রবিনসন ও টাং নিজেদের নাম লেখান টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল এক রেকর্ডে।
রবিনসনের জন্য ম্যাচটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত একটি কারণেও। গত সপ্তাহেই তার দ্বিতীয় কন্যা ইভার জন্ম হয়েছে। সেই আনন্দের স্মৃতিও ম্যাচের পারফরম্যান্সকে আরও বিশেষ করে তুলেছে ইংলিশ এই পেসারের কাছে।
রবিনসন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ২টায় আমাদের নবজাতক এসেছে। তাই লিডসের হোটেলে আসার পর থেকে ঘুমটা কিছুটা পুষিয়ে নিচ্ছি। অসাধারণ একটা সপ্তাহ গেছে। আবার বাবা হওয়া, এরপর তাদের রেখে যখন মাঠে এসে পারফর্ম করতে পারেন, তখন দিনটা আরও মধুর হয়ে ওঠে। তারা এখানে নেই, বাড়িতে আছে, কিন্তু পুরো সময়ই তাদের কথা মনে পড়ছিল।
এভাবেই এক ম্যাচে অনন্য বোলিং কীর্তির পাশাপাশি ক্রিকেট ইতিহাসে নিজেদের জন্য রেখে দিলেন স্মারক বলের দুই অর্ধেক রবিনসন ও টাং।
আরটিভি/এসকে




