
লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের লাঞ্চ বিরতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে স্কাই স্পোর্টস। এই জন্য ইংলিশ গণমাধ্যমটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার লাঞ্চ বিরতির আগে পিসিবি স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকারটি প্রচার না করার অনুরোধ জানায়। এমনকি সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হলে পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা লাঞ্চের পর মাঠে ফিরবেন না- এমন অবস্থানের কথাও জানানো হয়েছিল।
পিসিবির আপত্তির পর স্কাই স্পোর্টস কিছুটা সময়ের জন্য সম্প্রচার পিছিয়ে দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে তারা।
সাক্ষাৎকার প্রচারের সময় পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা দ্বিতীয় সেশনের জন্য মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে দ্বিতীয় সেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল।
সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পরও পাকিস্তান দল নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মাঠে ফিরে আসে। ফলে সম্ভাব্য বয়কট বা মাঠে না নামার মতো পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়নি। তবে পুরো ঘটনায় পিসিবি যে ক্ষুব্ধ, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের মধ্য দিয়ে সেটি স্পষ্ট হয়েছে।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও বর্তমান স্কাই স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার মাইক আথারটন ইমরানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিমের সাক্ষাৎকারটি নেন।
সেখানে তারা কারাগারে থাকা বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তার জীবন নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান। তারা বলেন, তাদের বাবাকে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গত বুধবার সকালে লর্ডসের রাইটার্স রুমে সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়েছিল। টেস্ট শুরুর আগে সেটির একটি টিজারও প্রচার করেছিল স্কাই স্পোর্টস।
স্কাই স্পোর্টস যখন লাঞ্চ বিরতিতে ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার প্রচার করে, তখন পিটিভি সেটি সম্প্রচার করেনি। ফলে পাকিস্তানের দর্শকদের বড় একটি অংশ সরাসরি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেননি।
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। তার দুই ছেলে বাবার জন্য যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তাকে সেখানে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
ইমরানের বোন ও ছেলেরা অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশের এটি লঙ্ঘন এবং তাকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ শুধু তার পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়করাও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ২২ জন সাবেক অধিনায়ক একটি চিঠি পাঠান।
তাদের মধ্যে ছিলেন মাইক আথারটনসহ ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কেরা। চিঠিতে কারাগারে ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা ও যত্ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
আরটিভি/এসআর




