
বয়স ৪১ পেরিয়েছে। কিন্তু গোলের ক্ষুধা যেন একটুও কমেনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। সময়ের সঙ্গে বরং আরও ধারালো হয়ে উঠছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। আল তাওউনের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে আল নাসরকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি গড়েছেন নতুন ক্লাব রেকর্ড। ম্যাচ শেষে অবশ্য সেই কৃতিত্ব সতীর্থ ও সমর্থকদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার আল-আওয়াল পার্কে সৌদি প্রো লিগের ম্যাচে আল তাওউনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আল নাসর। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রোনালদোর দল।
ম্যাচের ১১ মিনিটে বাসাম আল-হুরাইজি গোল করে আল তাওউনকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে সামু কস্তার গোলে সমতায় ফেরে আল নাসর।
বিরতির পর ৫০তম মিনিটে আসে রোনালদোর মুহূর্ত। সতীর্থ মোহাম্মদ সিমাকানের শট জালের দিকে যাচ্ছিল। খুব কাছ থেকে ডান পায়ের ছোঁয়ায় বলটি জালে পাঠান রোনালদো। তার সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আল নাসর।
তবে রোনালদোর গোলটি শুধু জয়সূচক হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই গোলের মাধ্যমে সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ। এর ফলে ক্লাবটির হয়ে লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
এর আগে এই রেকর্ড ছিল মোহাম্মদ আল-সাহলাওয়ির দখলে। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আল নাসরের হয়ে ২০৫ ম্যাচে ১০৩ গোল করেছিলেন তিনি। মাত্র এক গোলের ব্যবধানে সেই রেকর্ড পেছনে ফেললেন রোনালদো।
নতুন রেকর্ড গড়েও কৃতিত্ব একা নিজের করে নেননি রোনালদো। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, আমি খুবই খুশি। এটি দারুণ একটি অর্জন। তবে এটি শুধু আমার একার অর্জন নয়।
সতীর্থদের ধন্যবাদ জানিয়ে রোনালদো আরও বলেন, তাদের ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। আমি ভক্তদের জন্যও খুব খুশি। তারা আমাকে সব সময় সমর্থন দিয়ে যান।
রোনালদোর সামনে এখন আরও বড় মাইলফলক। আল তাওউনের বিপক্ষে গোলের পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৮-এ। অর্থাৎ বহুল আলোচিত ১ হাজার গোলের মাইলফলক থেকে আর মাত্র ২২ গোল দূরে রয়েছেন তিনি।
চলতি মৌসুমেও আল নাসরের হয়ে গোলের ধারায় আছেন রোনালদো। সৌদি প্রো লিগে তিন ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন দুটি। তার নেতৃত্বে লিগেও দুর্দান্ত শুরু করেছে আল নাসর। প্রথম চার ম্যাচের সবকটিতে জয় নিয়ে ১২ পয়েন্টে তালিকার শীর্ষে রয়েছে দলটি।
ম্যাচে রোনালদোর গোলের পর ঘটে মজার এক ঘটনাও। গোল করার পর নিজের বিখ্যাত ‘সিউ’ উদযাপন না করে সরাসরি বদলি খেলোয়াড়দের বেঞ্চের দিকে চলে যান তিনি। সেখানে গিয়ে পানি পান করতে শুরু করেন।
তখন সতীর্থ সাদিও মানে তাকে মনে করিয়ে দেন, গোলের পর তার বিখ্যাত উদযাপন এখনো বাকি। মানের কথা শুনে রোনালদো দ্রুত মাঠের দিকে ছুটে যান। এরপর যথারীতি করেন তার আইকনিক ‘সিউ’ উদযাপন।
রেকর্ড, জয় আর সেই চিরচেনা ‘সিউ’আল তাওউনের বিপক্ষে রোনালদোর রাতটা তাই হয়ে থাকল স্মরণীয়।
আরটিভি/এসকে




