
আরেকটা মাশরাফি কবে পাবে বাংলাদেশ? এমন কেউ কি আসবে আর বাংলাদেশ ক্রিকেটে? তাকে ঘিরে কত জল্পনা কল্পনা কিন্তু এও কি সম্ভব, আরেকজন মাশরাফি পাওয়া! কত কথা তাকে নিয়ে। একজন মাশরাফিকে ঘিরে কত আবেগ, কত পাগলামি ভক্তদের সেটা জানা সবার। দীর্ঘ ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে দলকে জিতিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে হাঁসিয়েছেন, দলের হারে একা কেঁদেছেন মুখ লুকিয়ে সবার অগোচরে। কত ব্যথা উপেক্ষা করে খেলে যাচ্ছেন এখনও।
দুই পায়ে সাতটা ইনজুরির ক্ষত নিয়ে দিব্যি দৌড়ে যাচ্ছেন কলার উঁচিয়ে, বল হাতে। কজনই বা পেরেছেন বিশ্ব ক্রিকেটে? চোটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বারবার দেশের জন্য, দেশের পতাকা গায়ে লড়ার জন্য।
সেই মাশরাফির আজ জন্মদিন। শুরুতেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা মাশরাফি বিন মুর্তজা! ও হ্যাঁ, শুধু মাশরাফির একার জন্মদিন ছিল না, জন্মদিন ছিল বাংলাদেশ অধিনায়কের একমাত্র ছেলে সাহেলেরও। ছেলে সাহেলের আজ পূর্ণ হলো পাঁচ বছর আর বাবার পা দিলেন ৩৬ বছর।
১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর খুলনা বিভাগের ছোট্ট শহর নড়াইলের আলাদাতপুর গ্রামে জন্ম মাশরাফি বিন মুর্তজা কৌশিকের। চিত্রা পাড়ে বেড়ে উঠা মাশরাফি সংগ্রাম করতে শিখেছেন সেই ছোট বেলা থেকেই।
গ্রামের দুরন্তপনা মাশরাফি বন্ধুদের নিয়ে মাতিয়ে রাখতেন গোটা নড়াইল শহর। বৃষ্টিতে নেমে পড়তেন ফুটবল নিয়ে, শীতের রাতে ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, ক্রিকেট কি খেলেননি?
শেষ পর্যন্ত নানার হাত ধরেই ক্রিকেটে থিতু হওয়া। সেই যে শুরু, এখনও দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ব ক্রিকেটে।
ভক্তদের ভালোবাসা, সবার সাথে মিশে যাওয়া, আড্ডায় মাতিয়ে রাখা সবই ভালো লাগে কিন্তু জন্মদিন এলেই তার একটা জিনিসে বাধা। সেটা কেক কেটে জন্মদিন পালন করায়।
এর একটা কারণও আছে। ছোটবেলায় মা হামিদা মুর্তজা ছেলের জন্মদিনে কেক কেটে খুব ঘটাকরে জন্মদিন পালনের জন্য তৈরি হলেন। এমন সময় মাশরাফির নানা তার মাকে ডাক দিয়ে বলেন, একটা জন্মদিন মানেই জীবন থেকে একটা বছর চলে যাওয়া। এতে উৎসবের কিছু নেই।
এরপর থেকেই আর জন্মদিন পালন করেন না মাশরাফি। বলেন, মা হামিদা মুর্তজা।

এবারও তেমনটাই হল। নিজের জন্মদিনে কেক না কাটলেও ছোট্ট সাহেলের আবদার তো আর ফেলে দেয়া যায় না। রাত ১২টায় মা-বাবা মিলে পালন করলেন ছেলের জন্মদিন। এরপর সারাদিন বাসায় সময় কাটান পরিবারের সঙ্গে।
বিকেলে ঢাকার পূর্বাচলে সময় কাটান পরিবারের সঙ্গে। সন্ধ্যা নামার পরেই বাসায় ফেরেন সবাইকে নিয়ে। এভাবেই ৩৬তম জন্মদিনটা কাটিয়ে দেন নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি বিন মুর্তজা।
এমআর/




