ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আরাফাত রহমান কোকোর দর্শনে দেশজুড়ে প্রতিভা অন্বেষণের পরিকল্পনা

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেট পুনরুজ্জীবিত করা এবং বাংলাদেশের খেলোয়াড় তৈরীর পাইপলাইন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও ১০টি আঞ্চলিক ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছে আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) দায়িত্ব পালনকালে কোকো যে মডেল চালু করেছিলেন, সেই আদলেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে প্রস্তাাবিত টুর্নামেন্ট ও একাডেমিগুলোর লক্ষ্য হলো তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল উন্নয়নপথ তৈরি করা, যাতে তারা তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটের উচ্চতর পর্যায় এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেতে পারেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিসিবির গেমস ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার দায়িত্বকালে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটকে শক্তিশালী করা এবং দেশের খেলোয়াড়দের সার্বিক উন্নয়ন এবং খেলোয়ার পাইপলাইন তৈরীতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিসিবির প্রতিভা অন্বেষণ ও খেলোয়াড় তৈরির ধারাবাহিক প্রক্রিয়া গড়ে তুলতেও তিনি ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী সময়ে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

নিজেও একজন ক্রিকেটার হিসেবে কোকো ক্রিকেটকে আরও পেশাদার রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ক্রিকেটকে পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করেন তিনি।

ক্রিকেট উন্নয়নের বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটারদের দক্ষতা বাড়াতে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) কর্মসূচি চালু করা হয়। কোকো তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেন। এর অংশ হিসেবে ৬৪ জেলায় কোচ নিয়োগ এবং স্কুল ক্রিকেটের পাশাপাশি নিয়মিত জেলা লিগ আয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।

এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রতিভা অন্বেষণ ও খেলোয়াড় তৈরির ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছিল।

পরবর্তীতে সেই ধারার সুফল পায় বাংলাদেশের ক্রিকেট। বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও তাঁর সতীর্থদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

এ সময় বাংলাদেশ একাধিকবার এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে। পাশাপাশি ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপাও জিতেছে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট আগের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ফলে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট ক্রমেই ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। রাজধানীর বাইরে ক্রিকেট খেলার সুযোগ কমে যাওয়ায় জাতীয় দলের প্রতিভার গভীরতা এবং প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের মানসম্পন্ন বিকল্প তৈরি করার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তিন সংস্করণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের তুলনামূলকভাবে অল্প কয়েকজন ক্রিকেটারের ওপর নির্ভরশীলতার প্রভাব স্পষ্ট।

অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের মতো শীর্ষ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর দলে বিকল্প খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেশি। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে সূচি থাকলেও তারা টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য আলাদা দল মাঠে নামাতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রায়ই তিন সংস্করণে পাঁচ-ছয়জন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে। এতে তাঁদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ে, বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়, চোটের ঝুঁকি বাড়ে এবং দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

বিসিবি পরিচালক ও আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সমন্বয়ক শরফরাজ আহমেদ মনে করেন, জাতীয় দল নির্বাচনের জন্য খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে কোকোর উন্নয়ন মডেল এসব সমস্যা সমাধানে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

শরফরাজ বলেন, আমরা বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা দেয়া সত্বেও গত ১৭ বছরে আমাদের ট্রাস্টের মাধ্যমে ক্রিকেট নিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি জানান, ট্রাস্টের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো দেশব্যাপী একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোতে ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা। বিসিবির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব উদ্যোগের লক্ষ্য উদীয়মান খেলোয়াড়দের দক্ষতা বিকাশের আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা।

প্রস্তাবিত টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি ১০টি আঞ্চলিক পর্বে আয়োজন করা হবে। এতে দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ফরিদপুর ও কুমিল্লাকে পৃথক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রতিটি অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। সেখানে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

শরফরাজ বলেন, আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক ক্রিকেটার রয়েছেন, যারা খেলার সুযোগ পান না। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তারা ভালো মানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের জন্য নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণিভিত্তিক বিধিনিষেধ থাকবে না। জাতীয় দল, প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগ ও অন্যান্য পর্যায়ের ক্রিকেটাররা টুর্নামেন্ট চলাকালে তাঁদের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবেন।

অন্তর্ভুক্ত জেলার সংখ্যা বিবেচনায় রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম সহজ করার লক্ষ্যে ১০টি আঞ্চলিক পর্বের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

শরফরাজ জানান, বিসিবির জন্য বৃহত্তর প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের ভান্ডার গড়ে তোলাই হবে এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। পুরো প্রতিযোগিতাটি ট্রাস্টের উদ্যোগেই আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। এর আয়োজক আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।

টুর্নামেন্টের পাশাপাশি উদীয়মান ক্রিকেটারদের জন্য পরিকল্পিত কোচিং ও উন্নত প্রশিক্ষণসুবিধা নিশ্চিত করতে ১০টি ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে ট্রাস্টের।

শরফরাজ বলেন, দেশে আটটি বিভাগে আমাদের ১০টি আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এসব অঞ্চলের উদীয়মান ক্রিকেটারদের বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা দিতে আমরা ১০টি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

কোকোর সময় গড়ে ওঠা ক্রিকেট উন্নয়ন-দর্শন পুনরুজ্জীবিত করা এবং ঢাকা ও জেলাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর উচ্চাকাঙ্খা থেকেই ট্রাস্টের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ধারাবাহিক কোচিং, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং উদীয়মান ক্রিকেটারদের উন্নতির সুস্পষ্ট সুযোগ তৈরির ওপর।

সূত্র: বাসস

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য ১২ দিনে দেড় কোটির বেশি আবেদন
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট পেতে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। নিবন্ধন শুরুর মাত্র ১২ দিনেই ১৪২টি দেশ থেকে দেড় কোটির বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে। টিকিটের জন্য নিবন্ধনের শেষ সময় ২১ নভেম্বর।
বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য ১২ দিনে দেড় কোটির বেশি আবেদন
বলের আঘাতে আহত হয়ে মাঠ ছাড়লেন হাশমতউল্লাহ
আবুধাবি টেস্টে বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের টার্গেট ব্যাট করছে আফগানিস্তান। হার এড়ানোর (পঞ্চম) দিনে ব্যাট করতে নেমে আরও বিপদে পড়েছে তারা। বলে আঘাতে আহত হয়ে মাঠ ছেড়েছেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চম দিনের খেলার তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ওভারের চতুর্থ বলে সেদিকুল্লাহ আতাল সিঙ্গেল নেন। দৌড়ে রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের থ্রো লাগে হাশমতউল্লাহর পায়ের প্যাডে। এতেই খোঁড়াতে থাকেন ২০ রান করা হাশমতউল্লাহ। মাঠে ফিজিও তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। ফিজিওর সহায়তায় ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ক্রিজে নতুন ব্যাটার ইকরাম আলীখিল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬৯ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৭ উইকেট।  আরটিভি/এসআর
বলের আঘাতে আহত হয়ে মাঠ ছাড়লেন হাশমতউল্লাহ
শুভ জন্মদিন লিটন দাস
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম স্টাইলিশ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসের আজ জন্মদিন। ১৯৯৪ সালের আজকের এই দিনে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা এই তারকা ক্রিকেটার আজ ৩১ বছরে পা দিলেন। নান্দনিক ব্যাটিং শৈলী আর দুর্দান্ত উইকেটকিপিং দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক অপরিহার্য অংশ হিসেবে। ডানহাতি এই ওপেনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন ২০১৫ সালে।  অভিষেকের পর থেকেই তার দৃষ্টিনন্দন সব শট ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে ধারাবাহিকতার কিছুটা অভাব থাকলেও সময়ের সাথে সাথে নিজেকে পরিণত করেছেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে।  তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের হয়ে অসংখ্য ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেছেন তিনি। বর্তমানে লিটন দাস বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে দল সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে।  এছাড়াও, টেস্ট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটেও তিনি দলের সিনিয়র সদস্য ও সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। উইকেটের পেছনে তার বিশ্বস্ততা এবং ব্যাটিংয়ে তার আগ্রাসী অথচ ক্লাসিকাল ধরন তাকে বিশ্ব ক্রিকেটে একটি বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে। ক্রিকেট মাঠে তার অর্জনের তালিকা বেশ লম্বা। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিনি অন্যতম। এছাড়াও, তার ঝুলিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একাধিক সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি। আরটিভি/এসআর
শুভ জন্মদিন লিটন দাস
বাংলাদেশের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। এ ছাড়াও মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) টিভিতে বেশকয়েকটি ম্যাচ রয়েছে। ক্রিকেট আবুধাবি টেস্ট, ৫ম দিন বাংলাদেশ-আফগানিস্তান দুপুর ১২টা, টি স্পোর্টস ডারবান টেস্ট, ৫ম দিন দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া বেলা ১-৩০ মি., ট্যাপম্যাড ৩য় টি-টোয়েন্টি পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা সন্ধ্যা ৭টা, পিটিভি স্পোর্টস ফুটবল উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ সাবাহ-স্লাভিয়া প্রাহা রাত ১০-৪৫ মিনিট, সনি টেন ১ লেন্স-স্পোর্তিং সিপি রাত ১০-৪৫ মিনিট, সনি টেন ২ আর্সেনাল-লিল রাত ১টা, সনি টেন ১ অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ-ম্যানইউ রাত ১টা, সনি টেন ২ গ্যালাতাসারাই-বার্সেলোনা রাত ১টা, সনি টেন ৫ আরটিভি/এসআর
বাংলাদেশের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট, ড্রয়ের আশায় আফগানিস্তান
শুরুতেই এবাদত-হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দুই উইকেট তুলে নিলেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে চোখ রাঙাতে থাকে রহমত শাহ ও সেদিকুল্লাহ আতালের ব্যাট। আবারও সেই জুটি ভেঙে দেন এবাদত। এরপরও ড্রয়ের স্বপ্ন দেখছে আফগানিস্তান। এদিকে জিততে হলে পঞ্চম ও শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার আরও ৭ উইকেট। চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছে আফগানিস্তান। ফলে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ভাঙে আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। টাইগার পেসার এবাদত হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন আব্দুল মালিক। আউট হওয়ার আগে করেন ২ রান। পরের উইকেটে নামা শহীদুল্লাহকে ১৪ রানে আউট করেন হাসান মাহমুদ। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে চাপ সামলে নেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ও অভিজ্ঞ রহমত শাহ। দেখে-শুনেই খেলছিলেন এই দুই ব্যাটার। তবে এই জুটি দিন শেষ করতে পারেনি আফগানরা। বাংলাদেশি পেসার এবাদত হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন রহমত। আউট হওয়ার আগে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১২৪ বলে ৫১ রান। এরপর হাশমতউল্লাহ শহীদিকে নিয়ে দিন শেষ করেন আতাল। ১২৬ বলে ৩৫ রানে আতাল ও ২৭ বলে ১৯ রানে হাশমত অপরাজিত থাকেন। এদিকে তৃতীয় দিন শেষ বিকেলের ঝড়ে ১১ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ২২৩ রানে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে তারা। ৫ রানে অপরাজিত লিটনের সঙ্গে নামেন মিরাজ, তখনও তিনি রানের খাতা খোলেননি। এই দুজনের জুটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে দলীয় স্কোর তিনশ পার করেন এবং লিড ছাড়ায় চারশ রানের। লিটন ১৪ ও ২৬ রানে জীবন পেয়ে ৬১ বলে এক টেস্টে টানা দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের ২২তম হাফ সেঞ্চুরি করেন। একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বেশ আগ্রাসী ছিলেন তিনি। ধীরে এগোতে থাকেন মিরাজ। এর আগে দুইবার জীবন পাওয়া লিটন দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ রান হতেই ৯ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলকে পৌঁছান। কায়েস আহমেদের বলেই দুইবার জীবন পান তিনি। প্রথমবার স্লিপের ফিল্ডার কামাল ক্যাচ ফেলে দেন। তারপর কায়েস নিজেই ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন, ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায় তাকে। বড় লিড এনে দেওয়ার পথে বড় জুটি গড়েন লিটন-মিরাজ। সপ্তম উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার মিলে তোলেন ১৪৯ রান। তাতেই লিডের পাহাড় গড়ে সফরকারীরা। ফিফটি করেই থামেননি লিটন। ১১৫ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। এরপর আর বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। ১০২ রানে সাজঘরের পথ ধরেন। ১১৭ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ১৪টি চারে সাজানো। এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মিরাজও। তিনি অপরাজিত থাকেন ৯৭ বলে ৫২ রানে। ৭ উইকেটে ৩৭২ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাট করতে নামবে স্বাগতিক আফগানিস্তান। এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে। তারপর হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে সফরকারী দল। আরটিভি/ এসকেডি
শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট, ড্রয়ের আশায় আফগানিস্তান
আরও পড়ুন
লংগদুতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন 
আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে দেশব্যাপী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজিত হবে
কোকোর নামে বগুড়ায় ২০ একর জমিতে জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স হবে: আমিনুল হক
কোকোর উদ্যোগের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের ক্রিকেট: আমিনুল হক