ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

আইসিসি বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি ইংল্যান্ড

কার ঘরে উঠছে প্রথম শিরোপা?

অরণ্য গফুর, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০৯:৫০ পিএম
বিশ্বকাপ ট্রফিসহ ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান ও কিউই দলপতি কেন উইলিয়ামসন

২৩ বছর পর নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পর ষষ্ঠ দল হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরবে ছন্দময় ইংল্যান্ড অথবা উজ্জীবিত নিউজিল্যান্ড। ক্রিকেটের জনকদের সামনে সুযোগটা এসেছে এটা নিয়ে চতুর্থবার। আর দ্বিতীয়বার চূড়ান্ত লড়াইয়ের মওকা পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।

বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী এ লড়াইতে কাল (১৪ জুলাই) মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। হোম অফ ক্রিকেট- লন্ডনের লর্ডসে ফাইনালটি শুরু হবে বেলা সাড়ে তিনটায়। এ লড়াইতে নিউজিল্যান্ডের চোখ গেলোবার ফাইনালে হারার হতাশা ভুলে শিরোপা উৎসব করা। আর বেদনাময় দীর্ঘ প্রতীক্ষা অবসানের প্রত্যাশা ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের।

১৯৭৯, ১৯৮৭ ও ১৯৯২ সালে তিনবারই ফাইনাল থেকে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে ইংলিশদের। প্রথমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়া ও তৃতীয়বার ইংলিশদের কাঁদিয়েছে পাকিস্তান। এরপর হতাশা নিমজ্জিত পরবর্তী ২৭ বছর আর শেষ লড়াইতে উঠতেই পারেনি থ্রি-লায়ন্সরা।

অনুশীলনে ইংলিশদের চার কাণ্ডারি (বাঁ থেকে বেন স্টোকস, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট ও ইয়ন মরগান)

তবে এবার যেন পুনরুত্থিত হয়েছে ইংলিশ ক্রিকেট। ইয়ন মরগানের সেনাপতিত্বে একঝাঁক ক্রিকেট সৈন্য রয়েছে এই রেনেসাঁর পেছনে। ব্যাট হাতে এ বাহিনীর পরীক্ষিত সম্মুখ সৈন্য জনি বেয়ারস্টো ও জেসন রয়। প্রতিটি ম্যাচেই দারুণ শুরু এনে পরবর্তী ব্যাটিং সৈন্যদের কাজটা সহজ করে দেন দুজন।

তাদের পরেই ভিত্তি হয়ে রয়েছেন এবারের ক্রিকেট যুদ্ধে ৫৪৯ রান সংগ্রহ করা জো রুট। ফাইনালে একটি ম্যাজিক ফিগারের দেখা পেলে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারের দাবিও করতে পারবেন রুট। বেন স্টোকস ও জস বাটলার শত্রুদের আতঙ্কের কারণ বনে যেতে পারেন যে কোনো সময়।

বল হাতে আক্রমণ শানাতে এ আসরে ইংলিশদের রয়েছে একাধিক অস্ত্র। ক্রিস ওকসের শৃঙ্খলিত বোলিং রান আটকাতে দ্ব্যর্থহীন। তীক্ষ্ম বোলিংয়ে ১৯ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ শিকারির তালিকায় তৃতীয় জোফরা আর্চার। ১৭ উইকেট নিয়ে নীরব ঘাতকের ভূমিকায় মার্ক উড। প্রয়োজনের সময় শত্রু বধ করার মুন্সীয়না দেখিয়েছেন লিয়াম প্লাঙ্কেট। আর আদিল রশীদের স্পিন যেন রহস্যময় মিসাইল।

চাপমুক্ত থাকতে অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে কিউইরা

২০১৫ বিশ্বকাপের আগে ছয়বার সেমিফাইনালে উঠলেও ফাইনালে পা রাখতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। একাদশ আসরে সবাইকে অবাক করে উঠে যায় শিরোপা নির্ধারণী লড়াইতে। কিন্তু মেলবোর্নে প্রতিবেশি অজিদের কাছে হেরে চূড়ান্ত মঞ্চে প্রথমবারের মত স্বপ্ন ভঙ্গ হয় কিউইদের।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো আখেরি লড়াইয়ের মঞ্চে নিউজিল্যান্ড। সেমিফাইনালে টেবিল টপার ভারতকে হারিয়ে বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে ব্ল্যাক-ক্যাপসরা। হারের বৃত্ত ভেঙে উজ্জীবিত করেও নিয়েছেন নিজেদের।

কিন্তু বরাবরই ব্যর্থতায় বন্দী নিউজিল্যান্ডের অগ্রবর্তী ব্যাটিং সৈন্যরা। শুরুর ব্যর্থতা ঢাকতে সেনাপতি হয়েও লড়াইতে সম্মুখ সমরে হাজির হন কেন উইলিয়ামসন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দলকে শক্ত-হাতে সামলানোর পথে ৫৪৮ রান করেছেন কিউই দলপতি।

ব্যাট হাতে উইলিয়ামসনের যোগ্য সহযোদ্ধা হয়ে আছেন রস টেইলর। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩৫ রান তাঁর। বাকিরা ব্যাটিং যুদ্ধে কখনো জয়ী তো কখনো পরাস্ত।

নিজের শেষ বিশ্বকাপে ব্যর্থতা ঘুচিয়ে ফাইনালে দলকে ভালো শুরু এনে দিতে হবে মার্টিন গাপটিলকে

কিন্তু ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে জিততে শুরুটা ভাল হওয়া জরুরি। তাই অ্যাডাম গিলক্রিস্ট থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারের মার্টিন গাপটিল। ২০০৭ আসরে পুরো টুর্নামেন্টে নিজের ছায়া হয়ে থাকলেও গিলক্রিস্ট অজিদের শিরোপা এনে দেন ফাইনালে সেঞ্চুরি করে। কিউইরাও গাপটিলের কাছ থেকে এমনটাই প্রত্যাশা করছে।

তবে নিউজিল্যান্ডের ফাইনাল পর্যন্ত আসার মূল কারিগর বোলাররা। ১৮ উইকেট শিকার করে তালিকার চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক লুকি ফার্গুসন। আর ১৭ উইকেট নিয়ে তার ঠিক পেছনেই আছেন ট্রেন্ট বোল্ট। সেমিফাইনালে ভারত বধের প্রধান যোদ্ধা ম্যাট হেনরিও বল হাতে আরও একবার শত্রু নিশ্চিহ্নের অপেক্ষায়। ইংলিশ ব্যাটিং দুর্গ ভাঙতে জ্বলে উঠতেই হবে এই পেসার ত্রয়ীকে।

১৯৭৫ থেকে ২০১৯; দীর্ঘ পথচলার কতশত উত্থান-পতন পেরিয়ে শেষ ধাপে এসে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। হাত-ছোঁয়া দূরত্বে থাকা চূড়ান্ত সফলতার মুকুটটি পরতে দুদলকেই জপতে হবে চাপমুক্তির মন্ত্র। কারণ অতীত বলছে- চাপকে জয় করতে পারলেই করা যায় বিশ্ব জয়।

অগ/পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শক্তিশালী রাজশাহীকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় রংপুরের
এ নিয়ে টানা দুই হার রাজশাহী রয়ালসের। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় জয় রংপুর রেঞ্জার্সের। আন্দ্রে রাসেলের নেতৃত্বে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলে আসছে দলটা। কিন্তু নিজেদের সপ্তম ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে ৭৪ রানে হারের পর আজ হেরেছে রংপুর রেঞ্জার্সের কাছে। প্রথম দুই ম্যাচ খেলার পর তৃতীয় ম্যাচে জায়গা হারান, চতুর্থ ম্যাচে আবারও ফেরেন একাদশে। তিন ম্যাচে উইকেট শূন্য থাকায় পঞ্চম, ষষ্ঠ আর সপ্তম ম্যাচেও দলে জায়গা হয়নি তাসকিন আহমেদের। অথচ এই তাসকিন গত বিপিএলে ১২ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি! টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না রংপুর রেঞ্জার্সের। তাসকিন দলে ফিরেই হারিয়ে দিলেন শক্তিশালী রাজশাহী রয়ালসকে। টস জিতে ফিল্ডিং করাটা যেন নিয়ম করে ফেলেছে রাজশাহী। আজও ঘটেনি ব্যতিক্রম। ঢাকায় তৃতীয় পর্বে শেষ দিনের শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে পাঠায় রংপুর রেঞ্জার্সকে। ব্যাট করতে নেমে রংপুরের ওপেনার শেন ওয়াটসন হতাশ করলেন এই ম্যাচেও। তার ব্যাটে রান যেন সোনার হরিণ। আজ মাত্র ৭ রানেই সাজঘরে ফেরেন আফিফ হোসেনের বলে ক্যাচ দিয়ে। আরেক ওপেনার নাঈম শেখ ধরে রেখেছেন ধারাবাহিকতা। ৪৭ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে ক্যাচ এন্ড বোল্ড হয়ে বিদায় নেন কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ক্যামেরুন ডেলপোর্টের ১৭ বলে ৩১, লুইস গ্রেগরির ১৭ বলে ২৮ আর শেষদিকে জহুরুল ইসলাম অমির ৮ বলে ১৯ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তুলে ফেলে রংপুর। রাজশাহীর হয়ে ২টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান ও আফিফ। ১টি করে উইকেট নেন রাব্বি ও ফরহাদ রেজা। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা রংপুর আজ যেন ফুলকির মতো জ্বলে উঠলেন। বল হাতে দুর্দান্ত তাসকিন, সঙ্গে মোস্তাফিজের আঁটসাঁট বোলিং কাবু করে ফেলে রাজশাহীর ব্যাটারদের। রাজশাহীর হয়ে অলোক কাপালির ব্যাটে আসে সর্বোচ্চ ৩১ (২৮) রান। এছাড়া রাবি বোপারার ২৮, নাহিদুল ইসলামের ১৯ রানের সঙ্গে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হোন আন্দ্রে রাসেল। ৭ বলে ১৭ রানের ইনিংস খেলে রান আউটে কাটা পড়েন রয়ালস অধিনায়ক। ততোক্ষণে রাজশাহীর জয়ের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৫ রান পর্যন্ত তুলতে পারে রয়ালসরা। ৪৭ রানের জয়ে মাঠ ছাড়ে রংপুর। তাসকিন নেন ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট। মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ১ মেডেন নিয়ে দেন মাত্র ১৬ রান। লুইস গ্রেগরি নেন ২ উইকেট, মোহাম্মদ নাবী নেন ১ উইকেট। এমআর/ এমকে
শক্তিশালী রাজশাহীকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় রংপুরের
আত্মবিশ্বাসই ম্যাচ জিতিয়েছে: আবু হায়দার
ডেভিড মালানের ৫১ বলে ৭৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসকেও ছাপিয়ে গেছে আবু হায়দার রনির ৮ বলে ১২ রান। রনির এই ১২ রানের জাদুকরি ইনিংসে ভর করেই আসরের তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ২৭তম ম্যাচে টস হেরে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স আগে ব্যাট করে ১৬০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় ওয়ারিয়র্সদের সামনে। ব্যাটিংয়ে নেমে ৫১ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন কুমিল্লার অধিনায়ক ডেভিড মালান। টিকে থাকেন শেষ ওভারের পঞ্চম বল পর্যন্ত। মূলত মালানের ব্যাটে ভর করেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কুমিল্লা। লিয়াম প্লাঙ্কেটের করা ইনিংসের শেষ ওভারে কুমিল্লার প্রয়োজন ১৬ রান। প্রথম বলে ১ রান নিয়ে স্ট্রাইকে গিয়েই বাউন্ডারি হাঁকান আবু হায়দার রনি। পরের বলে আর বাউন্ডারি নয়, লং-অনে ওভার বাউন্ডারি আসে রনির ব্যাটে। চার নম্বর বলে প্রান্ত বদল করে স্ট্রাইকে যান মালান। পঞ্চম বলে দুই রান নিতে গিয়েই ঝামেলা বাঁধান অধিনায়ক। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে। তার ব্যাটে আসে ৫১ বলে ৭৪ রান। শেষ বলে ৩ রান লাগে। নতুন ব্যাটসম্যান মুজিব উর রহমানের বাউন্ডারিতে ২ উইকেটের (সানজামুলের রিটায়ার্ড হার্ট) জয় নিশ্চিত করে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স।  এতে নায়ক বনে যান আবু হায়দার রনি। উপস্থিত হোন সংবাদ সম্মেলনেও। এমন ব্যাটিংয়ের রহস্যটাও জানালেন তিনি। তার মতে, আত্নবিশ্বাসই এমন ব্যাটিং করার রহস্য। ৮ বলে ১২ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংসটাকে অবিশ্বাস্য মনে করছেন না এই বোলার। ‘হ্যাঁ, আমার আত্মবিশ্বাস ছিল কারণ আমি পাওয়ার ব্যাটিং নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবত কাজ করছি। এইরকম অবস্থায় কিভাবে কাজ করা যায় সেটা জেনেছি। আর মালান ছিল। একটা সাহস ছিল যে পারব আমরা।’ তবে রনির পরিকল্পনায় ছিল মালানকে কিভাবে স্ট্রাইক দেয়া যায়। কেন না, সেট ব্যাটসম্যান হিসেবে মালানের পক্ষে কাজটা যত সহজ ছিল রনির পক্ষে ততোটা না। ‘আমার পরিকল্পনা ছিল মালানকে কিভাবে স্ট্রাইক দেওয়া যায়। শেষ ওভারে যখন খেলা চলে এসেছে এক দেয়ার অবস্থা ছিল না। কারণ রান ছিল ১৬। আমিও চেষ্টা করেছি মেরে রান নেয়ার।’ এমআর/ওয়াই                                                                                                       
আত্মবিশ্বাসই ম্যাচ জিতিয়েছে: আবু হায়দার
কাউকে অনুকরণ করার ইচ্ছা নেই: শান্ত
  অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকেই নির্বাচকদের নজরে নাজমুল হোসেন শান্ত। এরইমধ্যে জাতীয় দলের হয়েও অভিষেক ঘটেছে ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের। পুরাদস্তুর ব্যাটসম্যান হলেও দলের প্রয়োজনে করেন বোলিংও। দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন দুটি। এই কটা ম্যাচে কতই বা আর তুলে ধরতে পেরেছেন নিজেকে। তরুণ শান্ত তাই শেখার দিকেই দিয়েছেন পুরোপুরি মনোযোগ। এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএলে খেলছেন খুলনা টাইগার্সের হয়ে। দলের হয়ে সব ম্যাচেই খেলেছেন। যদিও আশানুরূপ ব্যাটিংটা করতে পারেননি এখনও। ছয় ম্যাচে নেই একটিও পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস। সবশেষ ম্যাচে সিলেট থান্ডারের বিপক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে শতরানের ওপেনিং জুটি গড়লেও করতে পেরেছিলেন মাত্র ৪১ রান। এর আগের পাঁচ ম্যাচে করেছেন ৪, ০, ১, ০ আর ৩০ রান। তবে কি টি-টোয়েন্টির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে শান্তর?  ‘না আমার কাছে ওইরকম মনে হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ৪০-৫০টা ম্যাচের মতো খেলেছি। এ বছরের শুরুর দিকের কয়েকটা ম্যাচ যদি দেখেন, প্রথম কয়েকটি ম্যাচে আমি দ্রুত আউট হয়ে গেছি। এক-দুই বলের মধ্যেই, তাই সেভাবে ইনিংসটা সাজানোর সুযোগই পাইনি। তো আমার কাছে ওইরকম কিছু মনেই হচ্ছে না। শেষ দুইটা ম্যাচে ভালো শুরু পেয়েছে, বাকি ম্যাচগুলোতে যদি এটা করতে পারি তাহলে বড় রান করার প্রত্যাশা করছি।’ বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দল, এই সময়টায় সেভাবেই গড়ে তোলা হয়েছে তাকে। তাই প্রত্যাশাটাও বেশি। শান্ত বলছেন, প্রত্যাশা না থাকাটাই ভালো। ‘আসলে প্রত্যাশা না থাকা ভালো। সকলেরই প্রত্যাশা থাকে, নিজের থাকে, পরিবারের থাকে। এটা নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি না করে প্রক্রিয়াটা মেনে চললেই আমার মনে হয় ভালো করা সম্ভব। ভালো করলে এমনেই প্রত্যাশা পূরণ হবে।’ খুলনা টাইগার্সের হয়ে খেলছেন রিলে রুশো, রাবি ফ্রাইলিঙ্কের মতো ক্রিকেটাররা। শান্ত শিখছেন তাদের থেকেও। ‘আলাদাভাবে ওইরকম কোনও কথা হয়নি। তবে রুশো খুব ভালো টাচে আছে। শেষ দুই তিন বছর বিপিএলে খুব ভালো খেলছেন। তাকে দেখে অনেক কিছু শেখা যায়। অনেক সময় অনুশীলনে দেখা হয়, কথা হয়। অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, যা আমার জন্য ভালো।’ জাতীয় দল কিংবা বিপিএল। বড় সব ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলে তাদের থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করছেন বলেও জানান এই ওপেনার। তবে অনুকরণ করেন না বলেও জানান তিনি। ‘আমি সবার খেলা দেখেই কিছু না কিছু নেয়ার চেষ্টা করি। আমার নিজের একটা ধরন আছে খেলার, সেটার সঙ্গে মিল রেখেই কাজ করি। নির্দিষ্ট করে কাউকে অনুকরণ করার ইচ্ছা নেই।’ এমআর/ওয়াই
কাউকে অনুকরণ করার ইচ্ছা নেই: শান্ত
রাজশাহীর বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করছে রংপুর
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রয়্যালসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে রংপুর রেঞ্জার্স। মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জেতার পর রংপুরকে ব্যাট করতে পাঠায় রাজশাহীর অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। ৭ খেলায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার চার নম্বরে অবস্থান করছে রয়্যালসরা। বলতে গেলে সুবিধাজনক স্থানেই রয়েছে লিটন দাস-আফিফ হোসেনরা। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রেঞ্জার্সদের অবস্থান ষষ্ঠ। তাই জয়ের বিকল্প নেই শেট ওয়াটসন নেতৃত্বাধীন দলটির সামনে। দিনের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ে তিন উইকেটের জয় পেয়েছে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। রংপুর রেঞ্জার্স শেন ওয়াটসন (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নাঈম, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, লুইস গ্রেগরি, ফজলে মাহমুদ, মোহাম্মদ নবী, জহুরুল ইসলাম অমি, আল আমিন হোসেন জুনিয়র, আরাফাত সানি, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ। রাজশাহী রয়্যালস  লিটন দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, শোয়েব মালিক, অলক কাপালি, রবি বোপারা, আন্দ্রে রাসেল (অধিনায়ক), নাহিদুল ইসলাম, ফরহাদ রেজা, তাইজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মোহাম্মদ ইরফান।  ওয়াই
রাজশাহীর বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করছে রংপুর
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে চট্টগ্রামকে হারাল কুমিল্লা
আসরের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স দুর্দান্ত খেলে আসছে। আজ কুমিল্লার বিপক্ষে ম্যাচটির আগে ৮ ম্যাচে জিতেছিল ছয়টিতে। বলা যায়, শেষ চারে এক পা দিয়েই রেখেছে দলটি। পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বর দলও চট্টগ্রাম। অন্যদিকে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের অবস্থান পাঁচ নম্বরে। সাত ম্যাচে মাত্র দুই জয়ে ছিটকে পড়ার মতো অবস্থা টুর্নামেন্ট থেকে। জয়টা আজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল সৌম্য-সাব্বিরদের। ঢাকাইয় তৃতীয় পর্বের শেষদিনের প্রথম খেলায় টস জিতে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। ব্যাট করতে নেমে চট্টলার দুই ওপেনার লেন্ডল সিমন্স আর জুনাইদ সিদ্দিকি দুইদিক থেকেই দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন। সিমন্স মাত্র ৩৪ বলে ৫৪ রান করে সৌম্য সরকারের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। এরপর ৩৭ বলে ৪৫ রান করে রান আউটের ফাঁদে পরেন জুনাইদ সিদ্দিক। দলের ব্যাটিং লাইন-আপের বেহাল দশা শুরু হয় এখান থেকেই। একের পর এক বিদায়ে রানের চাকা যখন থেমে যাবার উপক্রম, তখন হাল ধরেন এবারের বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা জিয়াউর রহমান। অথচ ড্রাফটে দলই পাননি জিয়া। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২১ বলে ৪ ছয়ে খেলেন ৩৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ২০ ওভার শেষে চট্টগ্রামের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৫৯ রান। সৌম্য সরকার নেন ২ উইকেট। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন সানজামুল ইসলাম, ডেভিড উইজ ও আল-আমীন। চট্টগ্রামের দেয়া ১৬০ রানে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩০ রানের মাথায় ২২ রান করে বিদায় নেন কুমিল্লার ওপেনার স্টিয়ান ভ্যান জিল। এরপর ৬১ রানের মাথায় ১৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার রবিউল ইসলাম। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকার আজ ঝড় তুলতে পারেননি চার-ছয়ের। মাত্র ৬ রান করেই ক্যাচ দেন জিয়াউর রহমানের বলে। চার নম্বর জুটিতে সাব্বির রহমান ও ডেভিড মালানের জুটি নতুন করে আশা জাগাতে শুরু করে চট্টগ্রামকে হারানোর। দুইজনের জুটি থেকে আসে ৬৪ রান।মালান দ্রুত রান তুলতে পারলেও সাব্বির ১৫ বলে ১৭ রান করে ক্যাচ দেন রায়ান বার্লের বলে। মালান তবু চেষ্টা করে গেছেন শেষ পর্যন্ত। লিয়াম প্লাঙ্কেটের করা ইনিংসের শেষ ওভারে কুমিল্লার প্রয়োজন ১৬ রান। প্রথম বলে ১ রান নিয়ে স্ট্রাইকে গিয়েই বাউন্ডারি হাঁকান আবু হায়দার রনি। পরের বলে আর বাউন্ডারি নয়, লং-অনে ওভার বাউন্ডারি আসে রনির ব্যাটে। চার নম্বর বলে প্রান্ত বদল করে স্ট্রাইকে যান মালান। পঞ্চম বলে দুই রান নিতে গিয়েই ঝামেলা বাঁধান মালান। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে। তার ব্যাটে আসে ৫১ বলে ৭৪ রান। শেষ বলে ৩ রান লাগে, নতুন ব্যাটসম্যান মুজিব উর রহমানের বাউন্ডারিতে ২ উইকেটের (সানজামুলের রিটায়ার্ড হার্ট) জয় নিশ্চিত করে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। চট্টগ্রামের হয়ে ২ উইকেট নেন রুবেল হোসেন। ১টি করে উইকেট নে মেহেদী হাসান রানা, লিয়াম প্লাঙ্কেট, জিয়া ও বার্ল। এমআর/
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে চট্টগ্রামকে হারাল কুমিল্লা
আরও পড়ুন
প্রোটিয়া পেসে পেরে উঠতে পারল না ইংলিশরা
জোকারকে হারিয়ে সেমিতে থিয়েম
অবিশ্বাস্য ম্যাচের নায়ক বেন স্টোকস
প্রথম ইনিংসে ৯০ রানের লিড ইংল্যান্ডের