
পদত্যাগের দাবি উঠলেও ২০২৭ সালের নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো ফিফা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তে অটল জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ফিফা সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। বরং ২০২৭ সালের নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো সভাপতি পদে লড়াই করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন তিনি। ফিফার মুখপাত্রও জানিয়েছেন, গত এপ্রিলে পুনর্নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যে ঘোষণা ইনফান্তিনো দিয়েছিলেন, সেটিই বহাল আছে।
গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল প্রশাসনে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো। বিশেষ করে ফিফার বড় ইভেন্টগুলোতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের পর তার পদত্যাগের দাবি ওঠে ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার কয়েকটি প্রভাবশালী কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে।
গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন ইভেন্টে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অংশীদারত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা সামনে এনেছিল সংস্থাটি। তবে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও ফুটবল প্রশাসনের ভেতরে তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা।
এরপর ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ কনফেডারেশন তার পদত্যাগের দাবি জানায়। এত বিরোধিতার পরও পদ ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।
ফিফার মুখপাত্র জানিয়েছেন, আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ইনফান্তিনো আবারও প্রার্থী হবেন। বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী এই সভাপতির প্রার্থিতার পক্ষে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন রয়েছে বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত ২০২৭ সালের নির্বাচনে তার বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী নিজের নাম ঘোষণা করেননি।
চলমান বিতর্ক নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও নীরব থাকেননি ইনফান্তিনো। শনিবার পোল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি।
গত ছয় সপ্তাহের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে জানতে চাইলে ইনফান্তিনো বলেন, এ বিষয়ে তার অনেক কিছু বলার আছে। তবে সব কথা বলার জন্য উপযুক্ত সময় ও জায়গার প্রয়োজন।
ফিফা সভাপতি বলেন, অনেক কিছুই বলার আছে, কিন্তু সবকিছু বলার একটা সঠিক জায়গা ও সময় আছে। কিন্তু আজ না, এখানে না। আজ আমরা সবাই এখানে ফুটবল উপভোগ করতে এসেছি।
ফলে একদিকে প্রভাবশালী কয়েকটি কনফেডারেশনের প্রকাশ্য বিরোধিতা, অন্যদিকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বীর আবির্ভাব না হওয়া এই দুই বাস্তবতার মধ্যেই ২০২৭ সালের নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছেন ইনফান্তিনো। তার চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত হবে কি না, সেটিই এখন ফুটবল প্রশাসনের বড় প্রশ্ন।
আরটিভি/এসকে




