
মায়ের দিক থেকে জার্মান-বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান যেন উড়ছেন। চলতি মাসেই ১৭ বছরে পা দিতে যাওয়া এই মিডফিল্ডার একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছেন মেজর লিগ সকারে (এমএলএস)।
সান ডিয়েগো এফসির বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয়ে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন সুলিভান। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচডের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ১৬ বছর ৩৫১ দিন বয়সে এই পুরস্কার জিতে এমএলএস ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের কীর্তি গড়েছেন এই তরুণ।
এমএলএসে এবারই প্রথম এক ম্যাচে দুই গোল করলেন সুলিভান। শুধু তাই নয়, শেষ সাত ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত একটি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। এমএলএসের ইতিহাসে কোনো কিশোর ফুটবলারের টানা গোল-অবদানের এটিই দীর্ঘতম ধারা।
চলতি মৌসুমে সুলিভানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বদলে গেছে ফিলাডেলফিয়ার ভাগ্যও। বিশ্বকাপের বিরতির পর টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত দলটি জয় ৮টি, ড্র ২টি। একসময় ইস্টার্ন কনফারেন্সের তলানিতে থাকা ফিলাডেলফিয়া এখন উঠে এসেছে সপ্তম স্থানে, জায়গা করে নিয়েছে অডি এমএলএস কাপ প্লে-অফের অবস্থানে।
এ মৌসুমে সুলিভানের গোল-অবদান দাঁড়িয়েছে ১৭টি ৬ গোল ও ১১ অ্যাসিস্ট। এমএলএস ইতিহাসে কোনো কিশোরের এক মৌসুমে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে এটি যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবদান।
সান ডিয়েগোর বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে দুর্দান্ত ব্যাকহিল ফ্লিকে দলকে এগিয়ে দেন সুলিভান। এরপর ৬২তম মিনিটে বক্সের ভেতর বল পেয়ে গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। মাত্র পাঁচ মিনিট পর ডিফেন্সচেরা চিপ পাসে ফ্রাঙ্কি ওয়েস্টফিল্ডকে খুঁজে নেন সুলিভান। তাঁর সেই পাস থেকেই ব্রুনো দামিয়ানিকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন ওয়েস্টফিল্ড।
পরে আনিবাল গোদোয়ের আত্মঘাতী গোল এবং মালিক জাকুপোভিচের লক্ষ্যভেদে ৫-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে ফিলাডেলফিয়া।
ক্লাব ফুটবলে এমন দুর্দান্ত ফর্মের পর এখন সুলিভানের চোখ জাতীয় দলে। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন এই তরুণ। বিশ্বকাপের পর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পেরুর বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচ। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ম্যাচের দল ১৭ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করবেন পচেত্তিনো। সেখানে জায়গা করে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় কাভান সুলিভান।
আরটিভি/এসকে




