ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মেসির বিদায়ের দিনে জাতীয় দল ছাড়ার কারণ জানালেন রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি: সংগৃহীত

লিওনেল মেসির বিদায়ের দিনে পর্তুগাল জাতীয় দল ছাড়ার নেপথ্যের কাহিনী প্রকাশ্যে এনেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এক বিবৃতিতে সরাসরি কোচ জর্জ জেসাসের বিরুদ্ধে ‘কথা না রাখার’ অভিযোগ তুললেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

প্রায় দুই হাজার শব্দের দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তার ক্ষোভের কারণও যথেষ্ট গুরুতর।

রোনালদোর অভিযোগ, জাতীয় দলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে জেসাসের সঙ্গে তার একটি গোপন পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে না খেললেও পর্তুগালেই থেকে যাওয়ার কথা ছিল না তার।

অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থরা যখন সফরে যাবে, তখন তিনি নিজে দেশে থেকে যাবেন—এমন কোনো ভুল বার্তা তৈরি করতে চাননি রোনালদো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বদলে যায়। জেসাস তাকে নরওয়ের বিরুদ্ধে অন্তত ৩০ মিনিট মাঠে নামানোর কথা জানান।

এই কিংবদন্তি ফুটবলারের দাবি, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে তিনি নিয়মমাফিক ওয়ার্ম-আপও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হয়নি। কোচের কথায় পূর্ণ আস্থা রেখেই তিনি প্রস্তুত হয়েছিলেন, অথচ সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। এখান থেকেই কোচের ওপর তার ‘বিশ্বাসের ভিত নড়ে যায়’ বলে জানিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

এরপরও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বটে। রোনালদোর দাবি, জেসাসের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে ঠিক হয়েছিল, ডেনমার্ক ম্যাচের আগের সাংবাদিক বৈঠকে কোচ পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করবেন এবং স্বীকার করবেন যে, রোনালদো নিজে থেকে খেলার জন্য কোনো জোর দেননি। কিন্তু সেই সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্য তাদের আগের কথাবার্তার সঙ্গে মিল ছিল না।

বরং কোচের আচরণে একধরনের ‘আগ্রাসন’ দেখেছিলেন তিনি। তার মতে, সেটাই ছিল কোচের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় বার কথা না রাখার ঘটনা।
এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেন রোনা তিনি। তবে নিজের এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন তিনি।
সতীর্থ ও দেশের কোটি কোটি সমর্থকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, রাগ বা অভিমানের বশে শিবির ছেড়ে চলে যাওয়া তার একদম উচিত হয়নি। এমনকি ফেডারেশন যদি তাকে কোনো শাস্তি দেয়, তিনিও তা মাথা পেতে নেবেন। অধিনায়ক হিসেবে তার দায়িত্ব আরও অনেক বেশি ছিল বলেও স্বীকার করেছেন রোনালদো।

তবে এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি লুকিয়ে রয়েছে অন্য জায়গায়। এই আল নাসর তারকা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পর্তুগালের হয়ে খেলার দরজা তার জন্য এখনই বন্ধ হয়ে যায়নি। দেশের হয়ে মাঠে নেমে জেতার খিদে তার আগের মতোই অটুট রয়েছে। ফলে কোচের সঙ্গে যতই সংঘাত বাড়ুক না কেন, দেশের জার্সিতে তার অধ্যায় যে এখনই শেষ হচ্ছে না, সেই বার্তাই তিনি দিয়ে রাখলেন।

সবমিলিয়ে, এই বিস্ফোরক বক্তব্যের সময়টাই যেন পুরো ঘটনাটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। একদিকে যেদিন মেসির বিদায়ে আবেগ, স্মৃতি আর অশ্রুতে সিক্ত হয়েছে বিশ্ব ফুটবল, ঠিক সেই দিনেই রোনালদো এই অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টি নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে।

এক মেগা তারকার বিদায়বেলায় যখন বিষাদের সুর, অন্য মেগা তারকার কণ্ঠে তখন রাগ, অভিমান আর হিসাব-নিকাশের কড়া সুর। বিশ্ব ফুটবলের দুই মহারথীর শেষ অধ্যায় যেন লেখা হচ্ছে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রনাট্যে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আর্সেনালকে বিদায় করে শেষ আটে চতুর্থ স্তরের দল ফ্লিটউড টাউন
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালকে স্তব্ধ করেছে ইংলিশ ফুটবলের চতুর্থ স্তরের দল ফ্লিটউড টাউন। কারাবাও কাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফ্লিটউড টাউনের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিয়েছে গানাররা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে ফ্লিটউডের হাইবারি স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিকরা। এই জয়ে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিগ টুতে খেলা দলটি। ম্যাচের ২১ মিনিটে অ্যারন লুপালো-বির গোলে এগিয়ে যায় ফ্লিটউড। প্রথমার্ধে আর কোনও গোল না হওয়ায় পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্সেনাল। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সফরকারীরা।  ৫০ মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেসের গোলে সমতায় ফেরে গানাররা। এরপর একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও নির্ধারিত সময়ে জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি তারা। ম্যাচের শেষ দিকে আরও চাপে পড়ে আর্সেনাল। ৮৫ মিনিটের দিকে ফ্লিটউডের হ্যারিসন নিলের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্সেনালের ১৬ বছর বয়সী ফুটবলার ম্যাক্স ডাউম্যান। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় দলটিকে। নির্ধারিত সময়ে সমতা না ভাঙায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে ফ্লিটউডের পাঁচটি শটই জালে পাঠান খেলোয়াড়েরা। অন্যদিকে আর্সেনালের হয়ে ব্রুনো গিমারায়েসের নেওয়া চতুর্থ শটটি ঠেকিয়ে দেন ফ্লিটউড গোলরক্ষক জে লিঞ্চ।  এরপর পঞ্চম শটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন কনর হগি। ৫-৩ ব্যবধানের এই জয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন ফ্লিটউডের সমর্থকেরা। আরটিভি/এসআর
আর্সেনালকে বিদায় করে শেষ আটে চতুর্থ স্তরের দল ফ্লিটউড টাউন
সাফে এক টিকিটে দুই ম্যাচ দেখার সুযোগ, কাটবেন যেভাবে
আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় পর্দা উঠতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টের এক টিকিটে দুটি করে ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেভারেশন (বাফুফে)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে সাফের কর্মকর্তা ও বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির সমন্বয় সভায় টিকিটের মূল্য, বিক্রির সময় ও পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম টিকিফাইয়ের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন দর্শকেরা। এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের টিকিট পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ১ হাজার টাকা। ক্লাব হাউসে বসে খেলা দেখতে খরচ হবে ৪ হাজার টাকা। ভিআইপি গ্যালারির টিকিট ৭ হাজার, রেড বক্সের ৮ হাজার এবং করপোরেট বক্সের টিকিট ১০ হাজার টাকা। তবে দর্শকদের জন্য একটি সুবিধাও থাকছে। গ্রুপ পর্ব ও সেমিফাইনালে প্রতিটি ম্যাচ-ডেতে দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। একটি টিকিট কিনলেই সেদিনের দুটি ম্যাচ দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকেরা। অর্থাৎ আলাদা দুটি ম্যাচের জন্য পৃথক টিকিট কিনতে হবে না। টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম টিকিফাই জানিয়েছে, একটি টিকিটে একজন দর্শক নির্দিষ্ট দিনের সব ম্যাচ দেখতে পারবেন। প্রতিদিন প্রথম ম্যাচ শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে স্টেডিয়ামের গেট খুলে দেওয়া হবে। তবে ১৭ নভেম্বরের ফাইনালের টিকিটের দাম পরিবর্তন হতে পারে। টিকিট কিনতে দর্শকদের টিকিফাইয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য আলাদা ইভেন্ট পেজ তৈরি করা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে পছন্দের গ্যালারি ও আসনের শ্রেণি বেছে টিকিট কেনা যাবে। টিকিটের কিউআর কোড গোপন রাখার পরামর্শও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কারণ একই টিকিটের কোড প্রথম যিনি ব্যবহার করবেন, তিনিই স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। উল্লেখ্য, খেলা দেখতে দর্শকদের সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। আর সবচেয়ে দামি করপোরেট বক্সের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা।  আরটিভি/এসআর
সাফে এক টিকিটে দুই ম্যাচ দেখার সুযোগ, কাটবেন যেভাবে
সাফের টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ১০ হাজার, সর্বনিম্ন কত?
আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় পর্দা উঠতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টের টিকিটের দাম ও বিক্রির সময় চূড়ান্ত করা হয়েছে। খেলা দেখতে দর্শকদের সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। আর সবচেয়ে দামি করপোরেট বক্সের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা।  মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে সাফের কর্মকর্তা ও বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির সমন্বয় সভায় টিকিটের মূল্য, বিক্রির সময় ও পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম টিকিফাইয়ের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন দর্শকেরা। এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের টিকিট পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ১ হাজার টাকা। ক্লাব হাউসে বসে খেলা দেখতে খরচ হবে ৪ হাজার টাকা। ভিআইপি গ্যালারির টিকিট ৭ হাজার, রেড বক্সের ৮ হাজার এবং করপোরেট বক্সের টিকিট ১০ হাজার টাকা। তবে দর্শকদের জন্য একটি সুবিধাও থাকছে। গ্রুপ পর্ব ও সেমিফাইনালে প্রতিটি ম্যাচ-ডেতে দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। একটি টিকিট কিনলেই সেদিনের দুটি ম্যাচ দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকেরা। অর্থাৎ আলাদা দুটি ম্যাচের জন্য পৃথক টিকিট কিনতে হবে না। টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম টিকিফাই জানিয়েছে, একটি টিকিটে একজন দর্শক নির্দিষ্ট দিনের সব ম্যাচ দেখতে পারবেন। প্রতিদিন প্রথম ম্যাচ শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে স্টেডিয়ামের গেট খুলে দেওয়া হবে। তবে ১৭ নভেম্বরের ফাইনালের টিকিটের দাম পরিবর্তন হতে পারে। টিকিট কিনতে দর্শকদের টিকিফাইয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য আলাদা ইভেন্ট পেজ তৈরি করা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে পছন্দের গ্যালারি ও আসনের শ্রেণি বেছে টিকিট কেনা যাবে। টিকিটের কিউআর কোড গোপন রাখার পরামর্শও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কারণ একই টিকিটের কোড প্রথম যিনি ব্যবহার করবেন, তিনিই স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। এদিকে টিকিটের মূল্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বাফুফের নয় বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস। তার ভাষ্য, টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করেছে সাফ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবারের সমন্বয় সভায় টিকিটের পাশাপাশি স্টেডিয়ামের প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দর্শকদের প্রবেশপথ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কার্টেল জানিয়েছেন, দর্শক ও অতিথিদের নির্বিঘ্নে স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আরটিভি/এসআর
সাফের টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ১০ হাজার, সর্বনিম্ন কত?
এস্তেভাওকে পেতে ছক কষছে পিএসজি, কঠিন শর্ত চেলসির
গত দুই মৌসুমে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে চ্যাম্পিয়নস লিগের জোড়া শিরোপা ঘরে তুলেছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তবে চলতি মৌসুমে আক্রমণ বিভাগে বেশিকিছু দুর্বলতা দেখা দিয়েছে তাদের। তাই জানুয়ারির দলবদলে চেলসির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এস্তেভাও উইলিয়ানকে দলে আনতে ছক কষছে ফরাসি ক্লাবটি। ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান তারকাকে পিএসজিতে নিয়ে আসতে মূল ভূমিকা রাখছেন স্বয়ং কোচ লুইস এনরিকে। পুরোপুরি না পেলেও এস্তেভাওকে ধারে (লোন) দলে নিতে চান তিনি।  সামনে রয়েছে দীর্ঘ ও কঠিন মৌসুম। তার ওপর খাভিচা কভারাৎসখেলিয়া ও উসমান দেম্বেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ তারকাদের চোটে পড়ার কারণে এনরিকের হাতে ফরোয়ার্ড অপশন একপ্রকার শেষ বললেই চলে।  চলতি মৌসুমে বড় কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে এগোনো পিএসজি কোনোভাবেই ঝুঁকিতে থাকতে চায় না। তাই জানুয়ারিতেই আক্রমণভাগ শক্তিশালী করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ক্লাবটি। মধ্যবর্তী এই দলবদলে চেলসির রত্ন খ্যাত ব্রাজিলিয়ান তরুণ এস্তেভাওকেই সবচেয়ে কার্যকর লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে পিএসজি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পালমেইরাস থেকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রথম একাদশে নিয়মিত জায়গা করতে লড়াই করছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এমনকি প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে শুরু থেকে (স্টার্টার হিসেবে) খেলার সুযোগ পাননি তিনি। ফরাসি ক্রীড়ামাধ্যম ফুট০১-এর মতে, লুইস এনরিকে এই তরুণের খেলার ধরনে ভীষণ মুগ্ধ। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, স্প্যানিশ এই কৌশলবিদ ও পিএসজির স্পোর্টিং অ্যাডভাইজর লুইস কাম্পোস দুজনেই এস্তেভাওকে নিয়ে আগ্রহী।  পিএসজির প্রভাবশালী এই দুই কর্তাব্যক্তির সম্মতিতেই সম্ভাব্য এই লোন চুক্তির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে। ফ্রান্সে স্বল্পমেয়াদি এই সময়ের মধ্যে এস্তেভাওয়ের সেরাটা বের করে আনার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী এনরিকে। উভয় পক্ষের আগ্রহ থাকলেও, এই চুক্তির ব্যাপারে কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে চেলসি।  স্পোর্টস পোর্টাল টিমটক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই ক্লাবের মধ্যে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ব্রাজিলের তরুণ উইঙ্গারের চুক্তি, বেতন এবং মাঠে খেলার সময় নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বাধ্যবাধকতা চেয়েছে লন্ডনের দলটি। চেলসি তাকে কেবল শর্তহীন লোন (সোজা ধারে) দিতে চায়, কারণ তারা বিশ্বাস করে যে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এই ব্রাজিলিয়ানের দীর্ঘমেয়াদি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। এছাড়া পিএসজিকে খেলোয়াড়ের পুরো বেতন বহন করার দাবি জানিয়েছে তারা।  সেই সঙ্গে এস্তেভাও যেন প্যারিসে গিয়েও বেঞ্চে বসে না থাকেন, সে জন্য তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যক মিনিট না খেললে পিএসজির ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপের মতো কড়া ধারাও যুক্ত করতে চাইছে চেলসি। শর্তগুলো নিয়ে এখনো দরকষাকষি চলছে, তবে চেলসি মূলত এই শীতেই এস্তেভাওকে প্যারিসে পাঠানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে উভয় দলের জন্যই লাভজনক হবে। এস্তেভাও পাবেন সর্বোচ্চ স্তরে খেলার অভিজ্ঞতা, আর পিএসজিও শিরোপা লড়াইয়ের জন্য দলের গভীরতা বাড়িয়ে নিতে পারবে। আরটিভি/এসআর
এস্তেভাওকে পেতে ছক কষছে পিএসজি, কঠিন শর্ত চেলসির
ব্যালন ডি’অর পেলে কত টাকা পান ফুটবলাররা?
বিশ্বসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি ব্যালন ডি’অর। সোনালি ট্রফিটি হাতে তোলার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের প্রায় সব ফুটবলার। তবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেই আয়োজকদের কাছ থেকে সরাসরি কোনো অর্থ পুরস্কার পান না বিজয়ী। যদিও ক্লাব ও স্পনসরদের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লাখ লাখ ইউরো বোনাস পাওয়ার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি বাড়ে বিজ্ঞাপনমূল্য ও বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে আয়ের সম্ভাবনাও। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের আন্তর্জাতিক ফুটবল বিভাগের প্রধান আরিৎস গাবিলন্দোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্যালন ডি’অর এখন কেবল ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি নয়। এটি ফুটবলারদের বাণিজ্যিক মূল্য বাড়ানোরও বড় মাধ্যম। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এই পুরস্কার একজন খেলোয়াড়ের আর্থিক ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।  এএসের তথ্য অনুযায়ী, ব্যালন ডি’অরের সোনালি ট্রফিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ইউরো। তবে ট্রফিটির প্রকৃত গুরুত্ব এর আর্থিক মূল্যে নয়, বরং এটি জয়ের মাধ্যমে একজন ফুটবলারের সামনে তৈরি হওয়া সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক সুযোগে। ফুটবলারদের ক্লাব চুক্তিতে ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য বিশেষ বোনাসের শর্ত থাকতে পারে। ব্যালন ডি’অর জিতলে এসব শর্ত অনুযায়ী কোনো কোনো খেলোয়াড়ের বোনাসের পরিমাণ ৩০ লাখ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ নেইমার। ২০১৭ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) যোগ দেওয়ার পর ব্রাজিলিয়ান তারকার চুক্তিতে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য প্রায় ৩০ লাখ ইউরো বোনাসের শর্ত থাকার খবর প্রকাশ করেছিল ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়েন। পরে লেকিপও এ তথ্য জানায়। তবে পিএসজির হয়ে কখনো ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি নেইমার। ফলে ওই বোনাস পাওয়ার সুযোগও তৈরি হয়নি। ক্লাবের পাশাপাশি স্পনসরদের সঙ্গেও চুক্তিতে এমন বোনাসের শর্ত থাকতে পারে। ২০১৮ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ের পর ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নাইকির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রায় আট লাখ ইউরো বোনাস পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল লুকা মদ্রিচের। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল কনফিদেনসিয়াল সে সময় এ তথ্য জানিয়েছিল। মদ্রিচের অর্জনকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ সংস্করণের ফুটবল বুটও বাজারে এনেছিল নাইকি। অর্থাৎ, ব্যালন ডি’অর জয় শুধু ফুটবলারের জন্যই নয়, স্পনসর প্রতিষ্ঠানের জন্যও বাড়তি ব্যবসার সুযোগ তৈরি করে। তবে আর্থিক সুবিধা কেবল এককালীন বোনাসেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যালন ডি’অর জয়ের ফলে একজন ফুটবলারের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও বিজ্ঞাপনমূল্য বেড়ে যেতে পারে। নতুন স্পনসর পাওয়া, পুরোনো চুক্তি নবায়নের সময় বেশি অর্থ দাবি করা এবং বৈশ্বিক বাজারে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মেসি আটবার এবং রোনালদো পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমেও বিপুল আয় করেছেন এই দুই তারকা। তাদের জনপ্রিয়তা এখন ফুটবল মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মেসি-রোনালদোর পরবর্তী প্রজন্মের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালের সামনেও একই ধরনের বাণিজ্যিক অবস্থান তৈরির সুযোগ রয়েছে। ব্যক্তিগত অর্জন ও মাঠের সাফল্য কাজে লাগিয়ে বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারেন তারা। অবশ্য ব্যক্তিগত পুরস্কারকেন্দ্রিক এই প্রতিযোগিতা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। পিএসজির কোচ লুইস এনরিকের মতো অনেকে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাদের মতে, ফুটবল দলীয় খেলা; তাই একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত স্বীকৃতির চেয়ে পুরো দলের অর্জনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও ব্যালন ডি’অরের জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব ক্রমেই বেড়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অনুষ্ঠান বিশ্বের ১০৫টি দেশে সম্প্রচারিত হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পুরস্কারটি ঘিরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। সব মিলিয়ে, ব্যালন ডি’অর জিতলে আয়োজকদের কাছ থেকে সরাসরি নগদ অর্থ না পেলেও একজন ফুটবলারের সামনে বড় অঙ্কের বোনাস ও বাণিজ্যিক আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই আয় নির্ভর করে ক্লাব ও স্পনসরদের সঙ্গে চুক্তির শর্ত, খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা এবং ভবিষ্যতে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগের ওপর। তাই সোনালি ট্রফিটির চেয়েও সেটি জয়ের আর্থিক মূল্য অনেক বেশি হতে পারে।   আরটিভি/এসকে
ব্যালন ডি’অর পেলে কত টাকা পান ফুটবলাররা?
আরও পড়ুন
লিড নিয়েও পর্তুগালের কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ
যে কারণে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিলেন না রোনালদো
পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ
রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ২৫৫ ইউরো জরিমানা