
ফুটবল মাঠে অসাধারণ নৈপুণ্য, গোলের পর গোল আর একের পর এক ঐতিহাসিক অর্জন এসব মিলিয়েই পেলে হয়ে উঠেছেন বিশ্ব ফুটবলের অবিসংবাদিত কিংবদন্তিদের একজন। ব্রাজিলকে তিনবার বিশ্বকাপ জেতানো এই মহাতারকা শুধু নিজের সময়েই নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফুটবলপ্রেমীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।
আজ ২৩ অক্টোবর, ফুটবলের রাজার জন্মদিন। এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো যিনি বিশ্বজুড়ে পেলে নামেই পরিচিত তার বর্ণাঢ্য জীবন ও ক্যারিয়ারে রয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় অধ্যায়। মাঠের কীর্তির বাইরেও তার জীবনের নানা ঘটনা আজও কৌতূহল জাগায়। জন্মদিনে জেনে নেওয়া যাক এই কিংবদন্তিকে ঘিরে ১০টি অজানা গল্প।
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন সৃষ্টি করেন পেলে। এরপর ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ জিতে গড়েন বিরল এক ইতিহাস। তিনটি বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় হিসেবে তার অর্জন আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। অসাধারণ গোল করার ক্ষমতা, দৃষ্টিনন্দন ড্রিবলিং ও সতীর্থদের দিয়ে খেলা তৈরি করার দক্ষতায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন অনন্য। আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যুগেও পেলের ঐতিহাসিক কীর্তিগুলো ফুটবলবিশ্বে বিশেষ মর্যাদা নিয়ে টিকে আছে।
দারিদ্র্য থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো পেলের গল্প কেবল সাফল্যের নয়, অধ্যবসায় ও প্রতিভারও। ক্লাব ফুটবল থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ সব জায়গাতেই নিজের সামর্থ্যের ছাপ রেখেছেন তিনি। তার ক্যারিয়ারের বহু ঘটনা এখনো অনেকের অজানা, আবার কিছু কীর্তি আজও বিস্ময় জাগায়। ফুটবলকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল অসামান্য। জন্মদিনে তাই ফিরে দেখা যাক পেলের জীবনের সেই ১০টি চমকপ্রদ গল্প, যা আরও একবার মনে করিয়ে দেবে কেন তিনি ফুটবলের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।
থমাস এডিসনের নামে নাম
আমেরিকান উদ্ভাবক থমাস এডিসনের নাম অনুসারে তার নাম রাখা হয়েছিল এডসন। তবে ছোটবেলায় পাওয়া ‘পেলে’ ডাকনামটিই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে।
নিজের ডাকনাম পছন্দ ছিল না
শৈশবে পাওয়া ‘পেলে’ নামটি নাকি তার খুব একটা পছন্দ ছিল না। সহপাঠীদের দেয়া এই নামই পরে হয়ে ওঠে বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত এক নাম।
তিন বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র ফুটবলার
১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ এই তিন বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন পেলে। খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি এখনো তার একার।

মাত্র ১৭ বছরেই বিশ্বজয়
১৯৫৮ সালে সুইডেন বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে শিরোপা জেতেন পেলে। ফাইনালে স্বাগতিকদের বিপক্ষে করেছিলেন দুটি গোল।
এক ম্যাচে আট গোল
১৯৬৪ সালে সান্তোসের হয়ে বোতাফোগোর বিপক্ষে এক ম্যাচে আট গোল করেছিলেন পেলে। ম্যাচটি ১১-০ ব্যবধানে জিতেছিল তার দল।
গোলের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান
পেলের ক্যারিয়ারে গোলসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন হিসাব রয়েছে। প্রীতি ও অনানুষ্ঠানিক ম্যাচসহ তার গোলের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৩ বলে প্রায়ই উল্লেখ করা হয়। ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক গোল করেছেন ৭৭টি।
হাজারতম গোল
১৯৬৯ সালের ১৯ নভেম্বর পেনাল্টি থেকে ক্যারিয়ারের হাজারতম গোল করেন পেলে। ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদ্যাপন করতে মাঠে নেমে পড়েন সমর্থকেরা।
গারিনচার সঙ্গে অজেয়
ব্রাজিল জাতীয় দলে পেলে ও গারিনচা একসঙ্গে খেললে দলটি কোনো ম্যাচ হারেনি—ফুটবল ইতিহাসে বহুল আলোচিত একটি পরিসংখ্যান এটি।
দুই দলের হয়ে বিদায়ী ম্যাচ
১৯৭৭ সালে পেশাদার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে নিউইয়র্ক কসমস ও সান্তোসের হয়ে খেলেছিলেন পেলে। প্রথমার্ধে কসমস এবং দ্বিতীয়ার্ধে সান্তোসের জার্সি পরেন তিনি।
ফুটবলের বাইরেও পেলে
১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পেলে। ফুটবল ছাড়িয়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডেও রেখেছেন নিজের ছাপ।
২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৮২ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান পেলে। তবে ফুটবলকে ঘিরে তৈরি করা অসংখ্য স্মৃতি তাকে অমর করে রেখেছে।
আরটিভি/এসকে


