
ছয় ম্যাচ পাতানো, আরও ছয় ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং অন্য খেলোয়াড়দের দুর্নীতির চক্রে জড়ানোর অভিযোগে সার্বিয়ার টেনিস খেলোয়াড় স্টেফান মিলিচেভিচকে ২৪ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক টেনিস ইন্টেগ্রিটি এজেন্সি (আইটিআইএ)। একই সঙ্গে তাকে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে গত ৯ অক্টোবর থেকে, যা শেষ হবে ২০৫০ সালের ৮ অক্টোবর।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ শাস্তির কথা জানায় আইটিআইএ। ২৯ বছর বয়সী মিলিচেভিচের বিরুদ্ধে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টেনিসের দুর্নীতিবিরোধী নিয়ম গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইটিআইএর তদন্ত অনুযায়ী, ওই সময়ে ছয়টি ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন মিলিচেভিচ। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচে নিজেই খেলেছেন তিনি। পাশাপাশি আরও ছয়টি ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন এই সার্বীয় খেলোয়াড়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অন্য পেশাদার খেলোয়াড়দের দুর্নীতির চক্রে যুক্ত করা কিংবা যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন মিলিচেভিচ। তার মাধ্যমে আরও কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত হন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে সংশ্লিষ্ট ম্যাচগুলোর বিস্তারিত কিংবা অন্য খেলোয়াড়দের পরিচয় প্রকাশ করেনি আইটিআইএ।
চলতি বছর মিলিচেভিচের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি। তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন মাধ্যমে সাতবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তদন্তে সহযোগিতাও করেননি তিনি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর তদন্ত শেষে মিলিচেভিচকে গুরুতর অপরাধের আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেয় আইটিআইএ। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব দেননি তিনি। স্বাধীন শুনানির আবেদনও করেননি। ফলে সংস্থার বিধি অনুযায়ী, ২৪ বছরের নিষেধাজ্ঞা ও ৭০ হাজার ডলার জরিমানা কার্যকর হয় ৯ অক্টোবর থেকে।
শাস্তির আওতায় শুধু প্রতিযোগিতামূলক টেনিস থেকেই দূরে থাকতে হবে না মিলিচেভিচকে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এটিপি, ডব্লিউটিএ, গ্র্যান্ড স্ল্যাম, ওয়ার্ল্ড টেনিস কিংবা জাতীয় টেনিস সংস্থাগুলোর আয়োজিত বা অনুমোদিত কোনো প্রতিযোগিতায় খেলতে, কোচিং করাতে কিংবা দর্শক হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারবেন না তিনি।
বিশ্ব টেনিসে বড় কোনো তারকা ছিলেন না মিলিচেভিচ। ২০১৪ সালের আগস্টে এককের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ারসেরা ১ হাজার ৩৩৮তম স্থানে উঠেছিলেন তিনি। মূলত পেশাদার টেনিসের নিচের স্তরের প্রতিযোগিতাগুলোয় খেলতেন এই সার্বীয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে চার বছর টেনিস খেলেছেন মিলিচেভিচ। পরে ২০২১-২২ মৌসুমে শিকাগোর ডিপল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ টেনিস দলের সহকারী কোচ হিসেবেও কাজ করেন তিনি।
২০৫০ সালের ৮ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে মিলিচেভিচের বয়স হবে ৫৩ বছর। ফলে এই শাস্তিতে তার পেশাদার টেনিস ক্যারিয়ার কার্যত শেষ হয়ে গেল।
আরটিভি/এসকে




