ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করেছে ক্রিকইনফো: তৈয়্যব

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিন আগে নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে সবচেয়ে বেশি জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করছে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো। এ ছাড়াও জুয়ার বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে ক্রিকইনফোকে চিঠিও পাঠানোর হয়েছিল।

সেই চিঠি আমলে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে জুয়ার বিজ্ঞাপন সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বুধবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

আরটিভির পাঠকদের সুবিধার্থে পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

ইএসপিএন ক্রিকইনফো জুয়ার বিজ্ঞাপন সাময়িক বন্ধ করেছে বলে জানানো হয়েছে।

১। দেশের সব পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল সহ যে কোন স্থানীয় এবং আঞ্চলিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সংস্থা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং সেলিব্রেটিদের প্রতি আহ্বান জানানো জানানো যাচ্ছে যে- তারা যেনো কোনোভাবেই জুয়া, বেটিং, পর্নোগ্রাফি বা অনৈতিক পণ্য ও সেবার প্রচারে অংশগ্রহণ না করেন এবং এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকেন।

আরও পড়ুন



২। প্রতিষ্ঠান গুলোকে ওয়েবসাইট, পত্রিকা ও নিউজ পোর্টাল, এপ ইত্যাদি ডিফল্ড এডসেন্স এ না চালিয়ে বরং কাস্টমাইজড করতে হবে যাবে যাতে জুয়া পর্ণ গ্যাম্বলিং এবং এতদসংক্রান্ত গেইমিং বিজ্ঞাপন বা পপ-আপ না আসে।

৩। মোবাইল কোম্পানি, আইএসপি, গুগল অ্যাডসেন্স, মেটা অ্যাড সহ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মগুলোকেও বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও নৈতিকতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় আইন, পপ-আপ ব্লকিং ও ফিল্টারিং নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিছু পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল, টেকনোলোজি প্ল্যাটফর্ম, ইন্টারনেট সেবাদাতা, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, স্পোর্টস সাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এমনকি কিছু ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি বিষয়ক বিজ্ঞাপন ও প্রোমোশনাল কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এই ধরনের কার্যকলাপ বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সরাসরি পরিপন্থী।

জুয়ার বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে এবং প্রচলিত আইন ভঙ্গ করলে জনমত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ব্লক করার বিষয় সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে, এবং এব্যাপারে পাবলিক কমিউনিকেশন করা হবে।

বাংলাদেশ সরকার দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ, নৈতিক ও প্রজন্ম বান্ধব রাখতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রযুক্তির জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে
নতুন বছর ২০২৬ প্রযুক্তির জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তিবিদ ও বিখ্যাত ম্যাগাজিনগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী বছর জেনারেটিভ এআই, ডিজিটাল টুইন এবং হাইপার অটোমেশনের মতো প্রযুক্তিগুলো আমাদের দৈনন্দিন ও কর্মজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআই এখন আর কেবল চ্যাটবট বা ছবি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্মে রূপ নিতে যাচ্ছে। এর ফলে রিপোর্ট লেখা থেকে শুরু করে ডেটা বিশ্লেষণ ও কোড তৈরির মতো জটিল কাজগুলোতে এআই সরাসরি মানুষের সহকারী হিসেবে কাজ করবে। এমনকি ওপেনএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই-প্রস্তুত কর্মী বাহিনী তৈরির লক্ষ্যে বিশেষ সার্টিফিকেশন ও দক্ষতা উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম চালু করার পরিকল্পনা করছে। একইভাবে ২০২৬ সালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি। কোনো বাস্তব বস্তু বা সিস্টেমের হুবহু ভার্চুয়াল কপি তৈরির এই পদ্ধতিটি কারখানা, ভবন বা বিমানের রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও কাজের গতি সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে সক্ষম হবে। এটি মূলত শিল্প খাতের জন্য একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-পাইলট হিসেবে কাজ করবে, যা উৎপাদন ও অবকাঠামো খাতকে আরও দক্ষ ও নিরাপদ করে তুলবে। এর পাশাপাশি হাইপার অটোমেশন প্রযুক্তির ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন ও এআই এজেন্টদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করা। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা ও গ্রাহক সেবায় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আরও পড়ুন ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সারাবছর উদ্বেগে ছিল তরুণরা প্রযুক্তিগত এই অগ্রগতির মিছিলে ২০২৬ সালে বিশেষ নজর কাড়বে ডোমেন-স্পেসিফিক ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা ডিএসএলএম। সাধারণ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এই মডেলগুলো স্বাস্থ্য, আইন কিংবা ব্যাংকিংয়ের মতো নির্দিষ্ট খাতের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করবে, যা সাধারণ এআই-এর তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল ফলাফল দেবে। উদাহরণস্বরূপ, স্বাস্থ্য খাতের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ডিএসএলএম সাধারণ এআই-এর চেয়ে চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যে অনেক বেশি পারদর্শী হবে। অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে সাইবার নিরাপত্তায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হবে জিরো ট্রাস্ট আর্কিটেকচার। ‘কাউকে বিশ্বাস না করে যাচাই করা’—এই মূলমন্ত্রে পরিচালিত এই নিরাপত্তা মডেলে প্রতিটি অ্যাকসেস অনুরোধ আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এই মডেলটি গ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সাল হবে প্রযুক্তির আরও পরিণত ও ব্যবহারিক রূপের বছর, যা মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে। আরটিভি/এএইচ
প্রযুক্তির জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে
আইফোনে আড়ি পাতলে শনাক্ত করবেন যেভাবে
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সংরক্ষিত থাকে অসংখ্য সংবেদনশীল তথ্য। তবে ফোনের মাইক্রোফোন, ক্যামেরা বা লোকেশন ব্যবহার করে কোনো অ্যাপ আপনার ওপর নজরদারি করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের আইওএস সিস্টেমে এমন কিছু শক্তিশালী নিরাপত্তা ফিচার রয়েছে, যার মাধ্যমে খুব সহজেই গোপন নজরদারি শনাক্ত করা এবং তা বন্ধ করা সম্ভব। আইফোন ব্যবহারের সময় পর্দার ওপরের অংশে হঠাৎ কমলা বা সবুজ রঙের বিন্দু দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। যদি পর্দার ওপরের দিকে ছোট একটি কমলা রঙের বিন্দু দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে ফোনের মাইক্রোফোনটি সক্রিয় রয়েছে এবং শব্দ ধারণ করছে। অন্যদিকে, সবুজ বিন্দুর অর্থ হলো ফোনের ক্যামেরাটি বর্তমানে চালু আছে। কল করা বা ভিডিও ধারণের সময় এই সংকেতগুলো স্বাভাবিক হলেও, কোনো কারণ ছাড়া এগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে কোনো অ্যাপ গোপনে আপনার কথা শুনছে বা ভিডিও করছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কন্ট্রোল সেন্টার পরীক্ষা করে কোন অ্যাপটি এই সুবিধাগুলো ব্যবহার করছে তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। আরও পড়ুন ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সারাবছর উদ্বেগে ছিল তরুণরা ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইফোনের ‘অ্যাপ প্রাইভেসি রিপোর্ট’ একটি অত্যন্ত কার্যকর টুল। সেটিংসের প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি অপশন থেকে এটি চালু করলে সহজেই জানা যায় কোন অ্যাপ কতবার আপনার লোকেশন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেছে। এছাড়া ‘ফাইন্ড মাই অ্যাপ’ ফিচারের মাধ্যমে আপনার অবস্থান বা লোকেশন অজান্তে অন্য কারো সাথে শেয়ার করা হচ্ছে কি না, তাও নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পুরনো পরিচিত কেউ যাতে আপনার চলাচলের ওপর নজর রাখতে না পারে, সেজন্য এই সেটিংসটি যাচাই করা নিরাপদ। জরুরি পরিস্থিতিতে তথ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইওএসে ‘সেফটি চেক’ নামক একটি বিশেষ ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। সেটিংসের প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি মেনুর অধীনে থাকা এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী দেখতে পারেন কোন কোন ব্যক্তি বা অ্যাপের সঙ্গে তার তথ্য শেয়ার হচ্ছে। যদি মনে হয় কোনো অ্যাপ সন্দেহজনকভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে, তবে এর ‘ইমার্জেন্সি রিসেট’ বাটন চেপে মুহূর্তের মধ্যেই সব ধরনের তথ্য শেয়ারিং বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব। প্রযুক্তির এই সাধারণ কিন্তু শক্তিশালী ফিচারগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আইফোন ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন। আরটিভি/এএইচ
আইফোনে আড়ি পাতলে শনাক্ত করবেন যেভাবে
নির্বাচনের আগে সিম কার্ড নিয়ে ‘নতুন সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে সরকার
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক ব্যক্তির নামে সিম কার্ডের সংখ্যা আরো কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ পাঁচটি নতুন সিম নিবন্ধন করতে পারবেন।  বর্তমানে যাদের নামে ছয় থেকে ১০টি সিম কার্ড রয়েছে, সেগুলোর সংখ্যাও ধাপে ধাপে পাঁচে নামিয়ে আনা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে আগের মতোই আপত্তি জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটররা। এদিকে সিম ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। এ তালিকায় বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে সিম কেনার সময় কিছু অসাধু বিক্রেতা গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করা হচ্ছে। এই অনিয়মের বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক এক দিনেই দুইটির বেশি সিম কিনছেন, যা স্বাভাবিক নয়। বিটিআরসির সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে দেশে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবির ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং টেলিটকের ৬৬ লাখ ৭০ হাজার। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৯৯ লাখ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ছিল ১৮ কোটি ৯৬ লাখ, ২০২২ সালে ১৮ কোটি ১৬ লাখ এবং ২০২১ সালে ১৮ কোটি ১৩ লাখ। গত ১০ বছরে দেশে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। ২০১৫ সালে যেখানে ব্যবহারকারী ছিলেন ১৩ কোটি ৩৭ লাখ, তা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটিতে।সিম ব্যবহারের অপব্যবহার রোধে সরকার ইতিমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত আগস্টে এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে নিজ দায়িত্বে বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। সংস্থার একটি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ২৬ কোটি ৬৩ লাখ নিবন্ধিত সিম রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয় এবং বাকি সিমগুলো নিবন্ধিত হলেও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। গত আগস্ট পর্যন্ত এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম ছিল প্রায় ৬৭ লাখ। গত তিন মাসে এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। এখনো প্রায় ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম বাতিল হয়নি। এসব সিম গ্রাহকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল না করায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, তিন মাস সময় দেওয়ার পরও যারা ডি-রেজিস্ট্রেশন করেননি, তাদের সক্রিয় সিম বাতিল করা হবে। কত সংখ্যক সিম এখনো বাতিল হয়নি তা পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, পয়লা জানুয়ারি থেকে নতুন করে সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে একজন গ্রাহকের নামে পাঁচটির বেশি সিম নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না। আরটিভি/এএ 
নির্বাচনের আগে সিম কার্ড নিয়ে ‘নতুন সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে সরকার
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সারাবছর উদ্বেগে ছিল তরুণরা
২০২৫ সালে বাংলাদেশের তরুণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে—আর তা হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ডিভাইস সুরক্ষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ। শিল্প পর্যবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, স্মার্টফোন এখন আর কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষা, আর্থিক লেনদেন, পেশাগত কাজ ও বিনোদনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠায় এর নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর গবেষণা বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্মার্টফোন চুরি, ফিশিং বা অনলাইন প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণরাই মোবাইল ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় ভোক্তা। বিশ্লেষকদের মতে, অনিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, অনিরাপদ চার্জিং অভ্যাস এবং দুর্বল প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রণের কারণে ডিভাইসগুলো দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই বাস্তবতায় দেশের বাজারে সক্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোও এখন কেবল ফিচারের দিকে না তাকিয়ে ডিজিটাল সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। ইনফিনিক্স জানিয়েছে, ২০২৫ সাল জুড়ে তরুণ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তারা ডিভাইস ও ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা ও উদ্বেগ লক্ষ্য করেছে। সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস ও গেমিং প্ল্যাটফর্মে তরুণদের উপস্থিতি এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। টেলিকম খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাড়তি নির্ভরতার কারণেই ব্যবহারকারীরা এখন স্মার্টফোনের ক্যামেরা বা পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ডেটা সুরক্ষা, ব্যক্তিগত ফাইলের গোপনীয়তা এবং অ্যাপের ‘পারমিশন’ বা অনুমতি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। খুচরা স্মার্টফোন বাজারের তথ্যও একই ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন ফোন কেনার সময় এখন ক্রেতারা ডিজিটাল সিকিউরিটি ফিচার নিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করছেন। আরও পড়ুন ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বেতনে নিয়োগ দেবে চ্যাটজিপিটি বিশ্লেষকদের মতে, এটি ব্যবহারকারীদের আচরণগত পরিবর্তনের একটি বড় প্রমাণ, যেখানে ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক ডেটার সুরক্ষাকে তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্র্যান্ড তাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফোনের চুরি সতর্কতা ব্যবস্থা, নিরাপদ ফাইল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ডিভাইস প্রোটেকশন মোড এবং আধুনিক চার্জিং প্রযুক্তির মতো ফিচারগুলো সচেতন অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হলে দৈনন্দিন ডিজিটাল ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কেবল উন্নত প্রযুক্তি থাকলেই পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট দেওয়া, সন্দেহজনক সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ পারমিশন বন্ধ রাখা এবং বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় নিরাপদ চার্জিং অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে ডিজিটাল জীবনযাত্রা যত বেশি বিস্তৃত হচ্ছে, স্মার্টফোন সুরক্ষার বিষয়টি ততই অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা বলছে, নিরাপদ প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতাই আগামী দিনে তরুণদের ডিজিটাল জীবনকে সুরক্ষিত রাখার মূল চাবিকাঠি হবে। আরটিভি/এএইচ
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সারাবছর উদ্বেগে ছিল তরুণরা
টিকটক নিয়ে সুখবর
চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক ঘিরে চলা অনিশ্চয়তার অবসান হতে যাচ্ছে। ডেটা নিরাপত্তা ও চীনা মালিকানার কারণে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম চালু রাখার পথ তৈরি করেছে জনপ্রিয় এই ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ। চীনা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কার্যক্রমের একটি বড় অংশ হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত সপ্তাহে একদল মার্কিন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য TikTok USDS Joint Venture LLC নামে একটি নতুন যৌথ প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানই অ্যাপটির দৈনন্দিন পরিচালনা, ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা, অ্যালগরিদম তদারকি ও কনটেন্ট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। নতুন বিনিয়োগকারী দলে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল, প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম সিলভার লেক এবং বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এমজিএক্স। তাদের সম্মিলিত মালিকানা হবে ৪৫ শতাংশ। বাইটড্যান্সের হাতে থাকবে প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার, আর বাকি অংশ থাকবে অন্যান্য অংশীদারদের কাছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বরাতে জানা গেছে, টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশের বাজারমূল্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। নতুন প্রতিষ্ঠানটি অ্যালগরিদম নিরাপত্তা, সফটওয়্যার যাচাই এবং জাতীয় নিরাপত্তা–সংক্রান্ত শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করবে। চুক্তি অনুযায়ী, বাইটড্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের কোনো ডেটায় প্রবেশ করতে পারবে না এবং অ্যালগরিদম পরিচালনায় তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আলাদা একটি অ্যালগরিদম তৈরি করা হবে, যেখানে বাইটড্যান্সের সম্পৃক্ততা থাকবে না। ওরাকল এই উদ্যোগে প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত অডিট পরিচালনা করবে এবং চুক্তির শর্তগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করবে। বাইটড্যান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে চলবে এবং মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য টিকটক চালু রাখবে। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে ২২ জানুয়ারি ২০২৬। এদিকে ব্লুমবার্গ জানায়, চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ব্যবহৃত টিকটক অ্যাপটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের নতুন একটি প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করা হতে পারে। তবে নতুন অ্যাপটির ফিচার বা কাঠামো সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাও নতুন করে সামনে আনবে। আরটিভি/এসকে
টিকটক নিয়ে সুখবর
আরও পড়ুন
ডা. তাহেরের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ ৫ গুণ বেশি
বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে
মালয়েশিয়ায় ঝটিকা অভিযান, ২৭ বাংলাদেশিসহ আটক ১৩৩
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শিল্পকলার সব অনুষ্ঠান তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা