
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ওয়েব সিকিউরিটি ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের সাম্প্রতিক এক বিশাল বিভ্রাটে বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল স্থবিরতা নেমে এসেছিল। এই বিপর্যয়ের ফলে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার), চ্যাট জিপিটি, জেমিনি, ক্যানভা, এমনকি লীগ অব লেজেন্ডসের মতো অনলাইন গেমগুলোও সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ে।
এমনকি বিভ্রাটের মাত্রা এতই প্রকট ছিল যে, বিভ্রাট শনাক্তকারী জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘ডাউন ডিটেক্টর’ নিজেও কিছু সময়ের জন্য অচল হয়ে যায়, কারণ তারাও ক্লাউডফ্লেয়ারের অবকাঠামো ব্যবহার করে থাকে। এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে যে, আধুনিক ইন্টারনেটের বিশাল একটি অংশ কেন মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর এতটা নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাউডফ্লেয়ার মূলত ইন্টারনেটের পর্দার আড়ালের একটি গোপন স্তম্ভ। ওয়েবসাইট দ্রুত লোড করা, সার্ভার সুরক্ষা, ক্ষতিকর বট ও ভুয়া ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং ডিডস আক্রমণ ঠেকানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো তারা করে থাকে।
বর্তমানে ইন্টারনেটের প্রায় ২০ শতাংশ ওয়েবসাইট তাদের সেবা গ্রহণ করছে এবং বিশ্বজুড়ে ৩৩০টি শহরে তাদের নেটওয়ার্ক সেন্টার রয়েছে। ফলে এই বিশাল নেটওয়ার্কের সামান্য বিচ্যুতিও পুরো ইন্টারনেটে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়।
সাম্প্রতিক এই আউটেজের কারণ হিসেবে ক্লাউডফ্লেয়ারের নির্বাহী প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) ডেইন নেক্ট জানিয়েছেন, এটি কোনো সাইবার আক্রমণ ছিল না। মূলত একটি ‘ল্যাটেন্ট বাগ’ বা দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থাকা সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এই বিপর্যয় ঘটে।
একটি রুটিন কনফিগারেশন পরিবর্তনের পর সেই বাগটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তাদের বট মিটিগেশন সিস্টেমের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, যা ধীরে ধীরে পুরো নেটওয়ার্ককে ক্র্যাশ করতে বাধ্য করে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তারা জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, আজকের বিশ্ব মাত্র কয়েকটি বড় কোম্পানির ওপর কতটা অসহায়ভাবে নির্ভরশীল।
আরটিভি/এএইচ




