
বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের স্থাপনাকে জীবন্ত অবস্থায় অনলাইনে দেখার এক যুগান্তকারী সুযোগ তৈরি করেছেন জার্মানির একদল গবেষক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সমন্বয়ে তারা তৈরি করেছেন ‘গ্লোবাল বিল্ডিং অ্যাটলাস’ নামের একটি ত্রিমাত্রিক (থ্রি-ডি) মানচিত্র। এই বিশালাকার ডিজিটাল মানচিত্রে বিশ্বের প্রায় ২৭৫ কোটি স্থাপনার নিখুঁত থ্রি-ডি মডেল যুক্ত করা হয়েছে, যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। খবর ডেইলি মেইলের।
জার্মান গবেষকদের এই দলটি ২০১৯ সালে মহাকাশ থেকে তোলা প্রায় আট লাখ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ছবি বিশ্লেষণ করে এই মানচিত্র তৈরি করেছেন। যেসব এলাকায় স্যাটেলাইট চিত্র অস্পষ্ট ছিল, সেখানে উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পার্শ্ববর্তী ভবনের উচ্চতা ও আয়তন অনুযায়ী ডিজিটাল মডেল তৈরি করা হয়েছে। ফলে লন্ডন থেকে বেইজিং—যেকোনো শহরের অলিগলি এখন কম্পিউটারের পর্দায় একদম বাস্তব হয়ে উঠবে।
মানচিত্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি স্থাপনা রয়েছে এশিয়া মহাদেশে। এখানকার প্রায় ১২২ কোটি ভবন এই মানচিত্রে স্থান পেয়েছে, যা বিশ্বের মোট স্থাপনার প্রায় অর্ধেক। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকা (৫৪ কোটি), ইউরোপ (৪০ কোটি), উত্তর আমেরিকা (২৯ কোটি) এবং দক্ষিণ আমেরিকা (২৬ কোটি)। ওশেনিয়া অঞ্চলে স্থাপনার সংখ্যা সবচেয়ে কম, মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ।
গবেষকদের মতে, এই মানচিত্র কেবল দেখার জন্যই নয়, বরং এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব অপরিসীম। দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নত নগরায়ণ পরিকল্পনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজ দ্রুততর করতে এই থ্রি-ডি মডেল দারুণ কাজ দেবে। ইতিমধ্যে জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টার দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সহায়তা দেওয়ার জন্য এই মানচিত্র ব্যবহার শুরু করেছে। সার্চ বারে নির্দিষ্ট ঠিকানা লিখলেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে কাঙ্ক্ষিত ভবনের ত্রিমাত্রিক রূপ।
আরটিভি/এআর




