
এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আগামী ১২ আগস্ট বুধবার ঘটতে যাচ্ছে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে গ্রহণটি দেখা গেলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর দৃশ্যমানতায় থাকবে বড় ধরনের পার্থক্য।
প্রায় ১৮০ মাইল বা ২৯০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি নির্দিষ্ট পথের বাসিন্দারা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন। এ সময় চাঁদ পুরোপুরি সূর্যকে ঢেকে দেবে এবং সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে পূর্ণগ্রাস। পূর্ণগ্রাসের বাইরে ইউরোপের বেশিরভাগ এলাকায় গভীর আংশিক গ্রহণ এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে তুলনামূলক কম মাত্রার আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে।
পূর্ণগ্রাসের মূল পথটি পূর্ব গ্রিনল্যান্ড, পশ্চিম আইসল্যান্ড ও উত্তর-পূর্ব স্পেনের ওপর দিয়ে বিস্তৃত। এসব অঞ্চলে দিনের বেলাতেই গোধূলির মতো অন্ধকার নেমে আসবে। একই সঙ্গে আকাশে উজ্জ্বল তারা ও গ্রহ দেখা যেতে পারে এবং সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা খালি চোখে দৃশ্যমান হবে।
গ্রিনল্যান্ডের স্কোরসবিতে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে। আইসল্যান্ডের রিকিয়াভিকে বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে শুরু হবে পূর্ণগ্রাস। আর স্পেনের লিওন, সোরিয়া ও মলরকার এস আরেনালে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৮ মিনিট থেকে ৮টা ৩১ মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে। তবে পূর্ণগ্রাসের পথের সামান্য বাইরে থাকা মাদ্রিদে সূর্যের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ ঢেকে গেলেও পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে না।
উত্তর আমেরিকায় মূলত আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। কানাডার উত্তর ও পূর্বাঞ্চল, আলাস্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গ্রহণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকবে।
কানাডার ইকালুইতে দুপুর ১টা ২৪ মিনিটে সূর্যের প্রায় ৬১ শতাংশ এবং সেন্ট জনসে বিকেল ৩টার দিকে ৫৩ শতাংশ ঢেকে যাবে। আলাস্কার ফেয়ারব্যাংকসে সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে প্রায় ৩৭ শতাংশ এবং অ্যাঙ্করেজে সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ২৮ শতাংশ সূর্য আচ্ছাদিত থাকবে। এছাড়া বস্টন, কুইবেক সিটি, মন্ট্রিল ও নিউইয়র্কে প্রায় ৯ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে।
ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দারাও বড় মাত্রার আংশিক সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবেন। স্পেনের মাদ্রিদে সূর্যের প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বার্সেলোনায় ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ ঢেকে যাবে।
এছাড়া আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে প্রায় ৯৬ শতাংশ, ফ্রান্সে ৯৫ শতাংশ, পর্তুগালের লিসবন ও আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ৯৪ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন, কার্ডিফ ও বেলফাস্টে প্রায় ৯১ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত সূর্য আচ্ছাদিত হবে।
সূর্যগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আংশিক গ্রহণের সময় কোনো অবস্থাতেই খালি চোখে বা সাধারণ রোদচশমা পরে সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
আংশিক গ্রহণ দেখার জন্য অবশ্যই প্রত্যয়িত সোলার ফিল্টার বা বিশেষ গ্রহণের চশমা ব্যবহার করতে হবে। কেবল পূর্ণগ্রাসের নির্দিষ্ট মুহূর্তে, যখন চাঁদ পুরোপুরি সূর্যকে ঢেকে দেয়, তখনই সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ।
পূর্ণগ্রাসের পথের বাইরে থাকা মানুষ চাইলে নাসা ও ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) অফিশিয়াল সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স
আরটিভি/এসকে



