
ইউরোপ, আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর আমেরিকার একাংশ আজ সাক্ষী হচ্ছে এক ঐতিহাসিক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের। মহাজাগতিক এই বিরল দৃশ্যের সময় চাঁদের ছায়ায় সূর্য পুরোপুরি ঢাকা পড়লেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ থেকে এটি দেখার কোনো সুযোগ হয়নি।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই সূর্যগ্রহণ যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তখন দেশটির অধিকাংশ এলাকায় সূর্যের প্রায় ৯০ শতাংশ ঢেকে যায়। কর্নওয়ালে সূর্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদের আড়ালে চলে যায়।
১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম এবং ২১৯৬ সালের আগে শেষবারের মতো আইসল্যান্ডবাসী সরাসরি পূর্ণগ্রাস দেখার বিরল সুযোগ পাচ্ছেন। সবশেষে স্পেনের উত্তরাঞ্চল, পর্তুগাল ও বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের ঠিক আগে এই পূর্ণগ্রাস শেষ হবে।
আকাশ পরিষ্কার থাকায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ তুলনামূলকভাবে স্পষ্টভাবে গ্রহণটি দেখতে পান। স্কটল্যান্ড, উত্তর ইংল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকলেও বিখ্যাত বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড হলেও পৃথিবীর একটি বিশাল অংশে আংশিক সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের আকাশে সূর্যের ৯০ থেকে ৯৬ শতাংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়ছে। এ ছাড়া কানাডা, আলাস্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও আংশিক গ্রহণ দেখা যায়।
পূর্ণগ্রাস চলাকালীন চাঁদ যখন সূর্যকে পুরোপুরি আড়াল করে, তখন দিনের আলো কয়েক মিনিটের জন্য গোধূলির মতো অন্ধকার হয়ে আসে। এ সময় হুট করে তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত কমে যায় এবং এক ধরনের শীতল আমেজ তৈরি হয়। বিজ্ঞানীদের কাছে এই মুহূর্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ সময়ে সূর্যের তীব্র রশ্মির কারণে এর বাইরের বায়ুমণ্ডল বা ‘করোনা’ দেখা না গেলেও পূর্ণগ্রাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা সূর্যের গঠন ও রহস্য উন্মোচনে সহায়ক হয়।
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আকাশে এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা না গেলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে মানুষ এটি উপভোগ করতে পারছেন। এ ছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমেও এই গ্রহণ নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। গুগল অ্যাপ বা ক্রোম ব্রাউজারে ইংরেজিতে ‘solar-eclipse 2026’ লিখে সার্চ করলে ব্যবহারকারীরা বিশেষ গ্রাফিক্যাল দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
দুই বছর আগে উত্তর আমেরিকায় একটি ঐতিহাসিক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয়েছিল। এবারের গ্রহণটি ইউরোপের দেশগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক অঞ্চলে কয়েক দশক পর এমন দৃশ্য ফিরে এসেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, পরবর্তী কয়েক বছর এমন বড় মাপের মহাজাগতিক ঘটনা বিরল হতে পারে।
সামনে আরও তিনটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ
২০২৬ থেকে ২০২৮ সালকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য একটি ‘সোনালি সময়’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই তিন বছরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তিনটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ থাকবে।
তবে যুক্তরাজ্যের মানুষ এসব পূর্ণগ্রহণ দেখতে পারবেন না। ২০২৭ সালে দেশটির কিছু অঞ্চল থেকে সূর্যের সর্বোচ্চ প্রায় ৪৫ শতাংশ ঢাকা পড়া একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে। আর যুক্তরাজ্যে এবারের চেয়ে বেশি সূর্য ঢাকা পড়া গ্রহণ দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক দশক।
২০৮১ সালে দেশটির কিছু এলাকায় সূর্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ঢেকে যেতে পারে। আর যুক্তরাজ্য থেকে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০৯০ সালে।
অর্থাৎ এবারের দৃশ্যটি শেষ হয়ে গেলেও যুক্তরাজ্যের আকাশে এমন আরেকটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে অনেক প্রজন্মকেই অপেক্ষা করতে হবে।
আরটিভি/টিআর


