ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

এআই কোম্পানিগুলো ধ্বংস করছে ‘দুর্লভ বই’, উদ্বিগ্ন বিক্রেতারা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের প্রশিক্ষণের জন্য পুরোনো ও দুর্লভ বই সংগ্রহ ও স্ক্যানিং নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বই বিক্রেতাদের মধ্যে। ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে দুর্লভ ও পুরোনো বই ধ্বংস করার অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে একটি মামলার নথিতে এমন পদ্ধতির কথা প্রকাশ্যে আসার পর অস্ট্রেলিয়ার পুরোনো ও দুর্লভ বই বিক্রেতারাও বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে লেখকদের করা একটি মামলার নথিতে ‘ধ্বংসাত্মক স্ক্যানিং’-এর তথ্য উঠে আসে। এ পদ্ধতিতে ছাপা বই কিনে প্রথমে বইয়ের বাঁধাই কেটে ফেলা হয়। এরপর পাতাগুলো দ্রুত স্ক্যান করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। স্ক্যান শেষ হলে বইয়ের অবশিষ্ট অংশ ফেলে দেওয়া হয়।

আদালত অবশ্য এই প্রক্রিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট আইনের অধীনে বৈধ বলে বিবেচনা করেছেন। কারণ এটিকে ‘রূপান্তরমূলক ব্যবহার’ হিসেবে দেখা হয়েছে।

এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার পুরোনো বই বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় দুর্লভ বইও ধ্বংসের শিকার হতে পারে।

আরও পড়ুন

অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বই বিক্রেতা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তারা এমন কিছু বড় অর্ডার পেয়েছেন, যা তাদের স্বাভাবিক ক্রেতাদের আচরণের সঙ্গে মেলে না। কানাডার জুম বুকস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও কয়েকজন বিক্রেতা বিপুলসংখ্যক বইয়ের অর্ডার পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের পুরোনো বই পুনর্ব্যবহারকারী হিসেবে পরিচয় দেয়।

ভিক্টোরিয়ার বেনাল্লায় একটি পুরোনো বইয়ের দোকান পরিচালনা করেন ডেলফিনা ম্যানর। তিনি জানান, মে মাসে জুম বুকসের কাছ থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বইয়ের অর্ডার পেয়েছিলেন। বইগুলোর দাম ও ডাক খরচ নিয়ে ক্রেতার কোনো দর-কষাকষি না থাকলেও এতগুলো বই খুঁজে বের করা, প্যাকেট করা ও পাঠানোর কাজ তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

মেলবোর্নের আরেক বই বিক্রেতা জন সেইন্সবারিও একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একসঙ্গে অনেক বইয়ের অর্ডার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, বইগুলো বিভিন্ন বিষয়ের এবং দামের ক্ষেত্রেও বেশ বৈচিত্র্য ছিল। কিছু বই কয়েক দশক পুরোনো হলেও সেগুলো কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতার বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়নি।

বিক্রেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, জুম বুকস হয়তো কম দামে পুরোনো বই কিনে অন্য জায়গায় বেশি দামে বিক্রির প্রচলিত ব্যবসায়িক পদ্ধতি অনুসরণ করছে। তবে অর্ডারগুলোর ধরন তাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

দুর্লভ বই বিক্রেতা টিম হোয়াইট বলেন, সাধারণ কোনো বইয়ের অনেক কপি থাকলে সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি হয়তো খুব বেশি উদ্বিগ্ন হবেন না। কিন্তু কোনো বই যদি একটিমাত্র কপি হয় বা তার সঙ্গে বিশেষ কোনো ইতিহাস জড়িয়ে থাকে, তাহলে সেটি ধ্বংস করার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

বই বিক্রেতা নিক ডওয়েসের গুদামে প্রায় পাঁচ লাখ বই রয়েছে। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক বই কেউ কিনে নিয়ে গেলে ব্যবসায়িক দিক থেকে সেটি ভালো হতে পারে। কিন্তু কোনো বই যদি বিরল বা একমাত্র পরিচিত কপি হয় এবং সেটি কেটে ফেলার উদ্দেশ্যে কেনা হয়, তাহলে তিনি সেটি বিক্রি করতে চাইবেন না।

লাভের জন্য পুরোনো বই কেটে ফেলার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। কিছু বিক্রেতা দুর্লভ বই কিনে সেগুলোর ভেতরের ছবি আলাদা করে বিক্রি করেন। তবে বই বিক্রেতাদের কাছে এটি নিয়েও আপত্তি রয়েছে। তাদের মতে, একটি বই শুধু তার ভেতরের লেখা বা ছবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; বইটি নিজেও একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন হতে পারে।

এদিকে অ্যানথ্রপিকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি কখনো জুম বুকসের কাছ থেকে বই কেনেনি। তবে বড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দিতে বই সংগ্রহ করা এ শিল্পে বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি বলে তিনি জানান।

অ্যানথ্রপিক আরও জানিয়েছে, তারা সাধারণ বাণিজ্যিক বাজার থেকে বই সংগ্রহ করে এবং তাদের তথ্য সংগ্রহের কোনো কর্মসূচিতে দুর্লভ বা প্রাচীন বই কিনে ধ্বংস করা হয় না।

অন্যদিকে জুম বুকসও বই ধ্বংস করে ডিজিটাল রূপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা পুরোনো বই সংগ্রহ করে অক্ষত অবস্থায় আবার বিক্রি করে। কোনো বই আর পুনরায় বিক্রি করা সম্ভব না হলে সেটিকে দায়িত্বশীলভাবে পুনর্ব্যবহার করা হয়।

তবে জুম বুকস অক্ষত অবস্থায় কেনা বই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ধ্বংসাত্মক স্ক্যানিংয়ের জন্য বিক্রি করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের বাণিজ্যিক চুক্তিতে গোপনীয়তার শর্ত থাকায় ক্রেতাদের বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দিতে পারে না।

ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণের জন্য বই সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যেসব বইয়ের কপি খুব কম, সেগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তথ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বই বিক্রেতারা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’
দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আয়োজিত এ সামিটে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে।
ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’
চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধ সেবনে মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির পরামর্শে মৃগীরোগের ওষুধের মাত্রা কমিয়ে খিঁচুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এক তরুণী।
চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধ সেবনে মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
টিএমজিবির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের সাংবাদিকদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ (টিএমজিবি)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কালের কণ্ঠের ডেপুটি এডিটর ও বাণিজ্য এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রধান মো. মাসুদ রুমী। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার কুমার বিশ্বজিত রায়।
টিএমজিবির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন
ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বাংলা উইকিসম্মেলন
বাংলা ভাষায় মুক্ত জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা, উইকিপিডিয়া সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা উইকিসম্মেলন ২০২৬।
ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বাংলা উইকিসম্মেলন
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সার্চ প্রযুক্তির প্রভাবে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট।  বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য ১২ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় একদিনে বাজারমূল্য থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হারিয়েছে তারা। বুধবার প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যালফাবেট জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে তাদের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বিজ্ঞাপন খাতে প্রত্যাশার তুলনায় কম আয় বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। অ্যালফাবেটের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলার জানান, গুগলের এআই মোড প্রচলিত সার্চের বিজ্ঞাপন আয়ে প্রভাব ফেলছে। এই প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীরা কথোপকথনের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর পান। ফলে প্রচলিত সার্চ ফলাফলের পাশে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমছে। এর প্রভাবে বুধবারের ৩ দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বৃহস্পতিবার কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার আয় ধরে রাখাই এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে এআই খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও। অ্যামাজনের শেয়ার ৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের শেয়ার কমেছে ১ শতাংশেরও কম। বিশ্লেষকদের মতে, এআই থেকে শেষ পর্যন্ত কতটা আর্থিক সুফল পাওয়া যাবে, তা নিয়েই এখন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। আরটিভি/এসআর
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
আরও পড়ুন
খুবির প্রথম বই ভিত্তিক সংগঠন ‘বই বৃন্ত’ সভাপতি অপি ও সম্পাদক ওয়ালিদ
আজ বই উপহার দেওয়ার দিন
৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
বই ছাপায় অগ্রগতি, নভেম্বরেই শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য