ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ফোর-জি গ্রাহক বেড়েছে ৮৪ লাখ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ এএম
মোবাইল হাতে গ্রাহকরা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের টেলিকম বাজারে পুরোপুরি ফোর-জি সংযোগের দিকে একটি স্পষ্ট রূপান্তর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মোট ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধির হার মূলত মোবাইল ইন্টারনেটেই কেন্দ্রীভূত এবং ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের অগ্রগতি ধীরগতির হওয়া সত্ত্বেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে ফোর-জি গ্রাহক বেড়েছে ৮৪ লাখ ৩০ হাজার।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যানুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে মোট মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা যেখানে ছিল ১৮ কোটি ৫৮ লাখ, তা জুলাই মাসে ৪৬ লাখ ৪০ হাজার বা ২.৫০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৪ লাখ ৪০ হাজারে।

তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মোবাইল ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে। এই খাতে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ১০ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার থেকে বেড়ে ১০ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজারে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে মোবাইল ব্রডব্যান্ডের বিস্তার ৫৭.৭০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১.৬০ শতাংশ এবং মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার ৬৪.৮৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮.৭৯ শতাংশ হয়েছে।

প্রযুক্তির এই রূপান্তরটি মূলত থ্রি-জি ও ফোর-জি গ্রাহক সংখ্যার বিপরীতমুখী পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

এ বিষয়ে রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম জানান, তার প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালেই থ্রি-জি সেবা বন্ধ করে দিয়েছে এবং বর্তমানে তাদের নেটওয়ার্ক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ফোর-জি ও টু-জি সেবার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রবির প্রায় ৭০ শতাংশ গ্রাহক ফোর-জি সেবা ব্যবহার করছেন এবং বাকি গ্রাহকরা টু-জি সেবার ওপর নির্ভরশীল। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত রবির মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৭০ হাজারে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সক্রিয় থ্রি-জি গ্রাহক সংখ্যা জানুয়ারি মাসের ২১ লাখ ২০ হাজার থেকে জুলাই মাসে ১০ লাখ ৫০ হাজারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, এই সাত মাসে থ্রি-জি গ্রাহক কমেছে ১০ লাখ ৭০ হাজার বা ৫০.৪৭ শতাংশ। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের এখনও থ্রি-জি সেবা চালু রয়েছে এবং ৩জি ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই এই দুটি অপারেটরের গ্রাহক।

এর বিপরীতে, ফোর-জি গ্রাহক সংখ্যা জানুয়ারি মাসের ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার থেকে ৭.৪৩ শতাংশ (৮৪ লাখ ৩০ হাজার) বেড়ে জুলাই মাসে ১২ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

একই সময়ে দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ৬.০২ শতাংশ বা ৭৭ লাখ ৬০ হাজার বেড়েছে। ফলে, গত জানুয়ারিতে ইন্টারনেট গ্রাহক যেখানে ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার ছিল, তা জুলাইয়ে ১৩ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে মোট ইন্টারনেট বিস্তার ৭৩.২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধির এই ধারা মূলত মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমেই চালিত হয়েছে, যার গ্রাহক সংখ্যা জানুয়ারির ১১ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার থেকে জুলাই মাসে ১২ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

এর তুলনায়, আইএসপি ও পিএসটিএন-ভিত্তিক ফিক্সড ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।

মোবাইল ব্রডব্যান্ডের বিস্তার বেড়ে যেখানে ৬১.৬০ শতাংশ হয়েছে, তার বিপরীতে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের বিস্তার গত জানুয়ারি মাসের ৮.৩৯ শতাংশ থেকে জুলাই মাসে সামান্য বেড়ে ৮.৬৩ শতাংশ হয়েছে।

টেলিকম অপারেটরভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি অপারেটরগুলোর গ্রাহক বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা জানুয়ারি মাসের ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২৬ লাখ ৮০ হাজার বেড়ে জুলাই মাসে ৮ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, রবি আজিয়াটার গ্রাহক সংখ্যা ৫ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১৫ লাখ ৩০ হাজার বৃদ্ধি পেয়ে ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে বাংলালিংক তাদের গ্রাহক সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার বাড়িয়ে ৩ কোটি ৭৪ লাখ থেকে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪০ হাজারে উন্নীত করেছে। তবে, সরকারি অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যায় কিছুটা হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে; প্রতিষ্ঠানটি জানুয়ারি মাসের ৬৮ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক থেকে ১০ হাজার গ্রাহক হারিয়ে জুলাই মাস শেষে ৬৮ লাখ ২০ হাজারে এসে ঠেকেছে।

ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা মিলিয়ে সামগ্রিক টেলিডেন্সিটি জানুয়ারি মাসের ১০৫.৭১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে জুলাই মাসে ১০৭.৯৭ শতাংশ হয়েছে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টিএমজিবির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের সাংবাদিকদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ (টিএমজিবি)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কালের কণ্ঠের ডেপুটি এডিটর ও বাণিজ্য এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রধান মো. মাসুদ রুমী। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার কুমার বিশ্বজিত রায়।
টিএমজিবির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ গঠন
ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বাংলা উইকিসম্মেলন
বাংলা ভাষায় মুক্ত জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা, উইকিপিডিয়া সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা উইকিসম্মেলন ২০২৬।
ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বাংলা উইকিসম্মেলন
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সার্চ প্রযুক্তির প্রভাবে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট।  বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য ১২ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় একদিনে বাজারমূল্য থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হারিয়েছে তারা। বুধবার প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যালফাবেট জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে তাদের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বিজ্ঞাপন খাতে প্রত্যাশার তুলনায় কম আয় বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। অ্যালফাবেটের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলার জানান, গুগলের এআই মোড প্রচলিত সার্চের বিজ্ঞাপন আয়ে প্রভাব ফেলছে। এই প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীরা কথোপকথনের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর পান। ফলে প্রচলিত সার্চ ফলাফলের পাশে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমছে। এর প্রভাবে বুধবারের ৩ দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বৃহস্পতিবার কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার আয় ধরে রাখাই এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে এআই খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও। অ্যামাজনের শেয়ার ৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের শেয়ার কমেছে ১ শতাংশেরও কম। বিশ্লেষকদের মতে, এআই থেকে শেষ পর্যন্ত কতটা আর্থিক সুফল পাওয়া যাবে, তা নিয়েই এখন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। আরটিভি/এসআর
এআইয়ের কারণে একদিনে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হারাল গুগল!
প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে ওঠে পৃথিবী, ৬০ বছরেও হয়নি অজানা রহস্যের সমাধান
পৃথিবীতে প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর ঘটে মৃদু এক ধরনের ভূকম্পন। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এই রহস্য নিয়ে গবেষণা করলেও এখনো এর সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করতে পারেননি।
প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে ওঠে পৃথিবী, ৬০ বছরেও হয়নি অজানা রহস্যের সমাধান
অপতথ্য মোকাবিলায় সচেতনতার বিকল্প নেই: জাহেদ উর রহমান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য, ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় গণমাধ্যম ও ডিজিটাল বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
অপতথ্য মোকাবিলায় সচেতনতার বিকল্প নেই: জাহেদ উর রহমান
আরও পড়ুন
ব্যাংকের নামে ফোন, কণ্ঠস্বর নকল করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার ডলার
প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জ নিয়ে গ্রাহকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
বন্ধ মিটারে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখিয়ে বিল ২৯ হাজার!
৫ মাসে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে সাড়ে ৫০ লাখের বেশি