ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর কি সত্যিই ধ্বংস হবে পৃথিবী?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
কাল্পনিক ছবি

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এমন একটি ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯৬০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন অধ্যাপক ও সাইবারনেটিকস বিশেষজ্ঞ হাইঞ্জ ফন ফোরস্টার এবং তার দুই শিক্ষার্থী প্যাট্রিসিয়া এম মোরা ও লরেন্স ডব্লিউ আমিট। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স-এ।

‘ডুমসডে: ফ্রাইডে, ১৩ নভেম্বর, এ.ডি. ২০২৬’ শিরোনামের ওই গবেষণায় গত দুই হাজার বছরের জনমিতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছিল, বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে তা সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছাবে। এর পরিণতিতে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে মানবজাতির অস্তিত্ব ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে।

গবেষণাটি প্রকাশের পর জনসংখ্যা বিস্ফোরণ ও মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে জিনতত্ত্ব, বাস্তুসংস্থান ও জনমিতিবিষয়ক বিভিন্ন আলোচনায় এই তত্ত্ব দীর্ঘদিন গুরুত্ব পেয়েছে। তবে গবেষণায় ব্যবহৃত তৎকালীন জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা পরবর্তী সময়ে বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকেনি।

কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান ম্যাকইচার্নের মতে, ১৯৬০ সালের সেই হিসাবের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ নেই। বাস্তবে গত কয়েক দশকে বিশ্বে জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে ১৯৬০ সালের গবেষণায় যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তব জনসংখ্যা সেই গতিতে বাড়েনি।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের পর থেকেই বাস্তব জনসংখ্যার প্রবণতার সঙ্গে ওই গবেষণার পূর্বাভাসের বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। অর্থাৎ গবেষণায় ব্যবহৃত গাণিতিক মডেল পরবর্তী কয়েক দশকের বাস্তব জনমিতিক পরিবর্তন সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে পারেনি।

ফন ফোরস্টারের ব্যক্তিজীবনও ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। জীবনের একটি পর্যায়ে তিনি মঞ্চে জাদুকর হিসেবেও কাজ করেছিলেন। তাঁর ১৯৬০ সালের গবেষণাকে অনেকে বৈজ্ঞানিক তথ্যের পাশাপাশি ব্যঙ্গাত্মক ও চমকপ্রদ উপস্থাপনার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখেন।

তবে পৃথিবী ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ষাটের দশকে আলোচনার কেন্দ্রে শুধু ফন ফোরস্টার ছিলেন না। একই সময়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মী ও ইউএফও গবেষক চ্যান থমাসের লেখা ‘দ্য অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ স্টোরি’ বইয়েও পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা বিপর্যয়ের আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছিল। বইটিতে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার বছর পরপর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে দাবি করা হয়। বইটি দীর্ঘ সময় গোপন রাখার পর ২০১৩ সালে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ তা অবমুক্ত করে।

তবে এসব পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণীর কোনোটিই ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী বা মানবজাতির নিশ্চিত ধ্বংসের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নয়। ফলে নির্দিষ্ট ওই দিনে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এমন আশঙ্কার পেছনে বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।

সূত্র: ডেইলি মেইল

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হলে উদ্ধার করবেন যেভাবে
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হলে ব্যক্তিগত কথোপকথন ও পরিচিত ব্যক্তিদের তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। শুধু তা–ই নয়, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কেউ আপনার পরিচয়ে বন্ধু, পরিবারের সদস্য ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠাতে পারে। তবে চাইলেই নিজের ফোন নম্বর ব্যবহার করে হ্যাকড হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা যায়।
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হলে উদ্ধার করবেন যেভাবে
এআই নিয়ে সর্তক করলেন বিল গেটস, আসছে বড় বিপর্যয়!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ আগামী দুই দশকে অর্থনীতি ও সমাজে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। 
এআই নিয়ে সর্তক করলেন বিল গেটস, আসছে বড় বিপর্যয়!
১ নভেম্বর থেকে ফোন এলেই দেখা যাবে কলারের নাম-পরিচয়
অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলেই এবার জানা যাবে কলারের পরিচয়। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ভারতে চালু হতে যাচ্ছে নতুন কলার শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ‘কলিং নেম প্রেজেন্টেশন’ (সিএনএপি)।
১ নভেম্বর থেকে ফোন এলেই দেখা যাবে কলারের নাম-পরিচয়
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের ‘বড় উদ্যোগ’ 
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব স্থাপন, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সাইবার অপরাধের মামলা তদন্তে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের ‘বড় উদ্যোগ’ 
বাইকে ভালো মাইলেজ পেতে গতি রাখবেন কত?
জ্বালানি সাশ্রয় করতে মোটরসাইকেলের মাইলেজের দিকে নজর দেন অনেক চালক। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বাড়লে কম খরচে বেশি পথ চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে বাইকের মাইলেজ বাড়াতে শুধু ধীরে চালালেই হবে না, জানতে হবে উপযুক্ত গতি, সঠিক গিয়ার ব্যবহার এবং চালানোর কৌশল।
বাইকে ভালো মাইলেজ পেতে গতি রাখবেন কত?