
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিও আসল, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি তা নিয়ে সন্দেহ হলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করেই প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব। মুখের অভিব্যক্তি, ঠোঁটের নড়াচড়া, হাতের গঠন, পেছনের দৃশ্য এবং ভিডিওর মূল উৎস যাচাই করে শনাক্ত করা যেতে পারে সম্ভাব্য অসংগতি। তবে এসব লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে ভিডিওকে ভুয়া বলা যায় না।
মুখ, চোখ ও ঠোঁটের নড়াচড়া খেয়াল করুন
ভিডিওতে কোনো ব্যক্তি থাকলে প্রথমেই তার মুখের অভিব্যক্তি, চোখের পলক এবং ঠোঁটের নড়াচড়া লক্ষ করুন। এআই দিয়ে তৈরি কিছু ভিডিওতে মুখের আকৃতি অস্বাভাবিকভাবে বদলে যেতে পারে। কান, চুল কিংবা চোয়ালের আশপাশে ঝাপসা ভাবও দেখা যেতে পারে। কেউ কথা বলার সময় ঠোঁটের নড়াচড়ার সঙ্গে কণ্ঠস্বরের মিল না থাকলেও সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
তবে চোখের পলক, ত্বকের মসৃণতা কিংবা ঠোঁটের নড়াচড়ার সামান্য অসংগতি একাই ভিডিওটি নকল হওয়ার প্রমাণ নয়। ক্যামেরার মান, আলো ও সম্পাদনার কারণেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হাত ও আঙুলের গঠন পরীক্ষা করুন
এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে কখনো হাতের আঙুলের সংখ্যা, আকৃতি কিংবা অবস্থানে অসংগতি দেখা যায়। কোনো বস্তু ধরার সময় আঙুল একটির সঙ্গে আরেকটি মিশে যাওয়া, হাতের গঠন বদলে যাওয়া কিংবা বস্তু হঠাৎ আকৃতি পরিবর্তন করার মতো বিষয় খেয়াল করুন।
পেছনের দৃশ্য ও আলো-ছায়া দেখুন
ভিডিওতে শুধু মূল ব্যক্তির দিকে নজর না দিয়ে আশপাশের দৃশ্যও পরীক্ষা করুন। দরজা, জানালা, গাছপালা কিংবা আসবাবের আকৃতি ভিডিওর বিভিন্ন অংশে অস্বাভাবিকভাবে বদলে যাচ্ছে কি না, তা দেখুন। একইভাবে আলো ও ছায়ার মধ্যে অসংগতি রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
ভিডিওর মূল উৎস খুঁজুন
ভিডিওটি কে প্রকাশ করেছেন, কোথা থেকে এসেছে এবং অন্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে একই ঘটনার তথ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে ভিডিও ছড়ালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কিংবা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেখুন।
ভিডিওর স্থিরচিত্র ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে আগের কোনো ছবি বা ভিডিওর সঙ্গে মিল খোঁজা যেতে পারে। পাশাপাশি, কনটেন্টটি এআই দিয়ে তৈরি কি না, সে বিষয়ে কোনো লেবেল বা উৎস-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে সম্পাদনা বা আপলোডের সময় এ ধরনের তথ্য হারিয়ে যেতে পারে।
৩০ সেকেন্ডের পরীক্ষাই চূড়ান্ত নয়
দ্রুত এসব বিষয় পরীক্ষা করলে ভিডিওতে সন্দেহজনক লক্ষণ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু আধুনিক এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও এতটাই বাস্তবসম্মত হতে পারে যে তাতে দৃশ্যমান কোনো অসংগতি থাকে না। আবার বাস্তব ভিডিওও কমপ্রেশন, খারাপ আলো কিংবা সম্পাদনার কারণে অস্বাভাবিক দেখাতে পারে।
বিশেষ করে নারীর আপত্তিকর বা নগ্ন ভিডিও, রাজনৈতিক বক্তব্য, দুর্ঘটনার দৃশ্য কিংবা কোনো ব্যক্তির নামে প্রচারিত বিতর্কিত ভিডিওর ক্ষেত্রে যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এমন ভিডিও সত্যতা যাচাই না করে শেয়ার করাও এড়িয়ে চলতে হবে।
ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করতে মূল উৎস, প্রাসঙ্গিক তথ্য এবং একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র মিলিয়ে দেখা জরুরি। মনে রাখতে হবে, ৩০ সেকেন্ডে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হলেও ভিডিওটি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি, তা নিশ্চিত করতে আরও যাচাই প্রয়োজন।
আরটিভি/এসকে



