ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

দ্রুত বদলে যাচ্ছে বিশ্বের ৫ শহর, কেন ঘুরতে যাবেন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক, লন্ডন ও প্যারিসের বাইরে ভ্রমণে নতুন আকর্ষণ হতে পারে তুলুজ, হো চি মিন সিটি, ওয়ারশ, মেডেলিন ও আবুধাবি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, খাবার ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে শহরগুলো টানছে পর্যটকদের।

বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন শহরগুলোর বাইরে নতুন গন্তব্য খুঁজছেন ভ্রমণপিপাসুরা। তাদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে ফ্রান্সের তুলুজ, ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি, পোল্যান্ডের ওয়ারশ, কলম্বিয়ার মেডেলিন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও খাবারের বৈচিত্র্যে বদলে যাচ্ছে শহরগুলোর পরিচিতি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের পরিচিত শহরগুলোর পাশাপাশি নজর দেওয়ার মতো ২৮টি শহর চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখান থেকে পাঁচটি শহর বেছে নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে শহরগুলোর পরিবর্তন ও পর্যটন আকর্ষণ।

তুলুজ, ফ্রান্স

ফ্রান্সের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোর একটি তুলুজ। আগামী চার বছরে শহরটির জনসংখ্যা ৫৭ হাজার বাড়তে পারে। স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় ও উন্নত জীবনমানের কারণে তরুণ এবং দক্ষ পেশাজীবীদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে শহরটি।

লন্ডনে ১০ বছর থাকার পর তুলুজে ফেরা এলোদি পারামেলের মতে, বড় শহরের প্রাণচাঞ্চল্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি এখানে শান্ত জীবন উপভোগের সুযোগ রয়েছে। ক্যাফে, ককটেল বার ও ভালো খাবারের জায়গার সংখ্যাও বাড়ছে।

প্যারিসে সাত বছর কাটিয়ে তুলুজে ফেরা মেলোদি টাইলার বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরটি অনেক বদলেছে। হাঁটা ও সাইকেল চালানোর পরিবেশ আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। ঐতিহাসিক কেন্দ্রের বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হচ্ছে।

মহাকাশ ও উড়োজাহাজশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত তুলুজ। এয়ারবাসের বৈশ্বিক সদর দপ্তরসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। মহাকাশ সম্পর্কে জানতে পর্যটকেরা ঘুরে দেখতে পারেন সিতে দ্য লেসপাস মহাকাশ জাদুঘর। আর উড়োজাহাজের ইতিহাস জানতে যেতে পারেন অ্যারোস্কোপিয়া জাদুঘরে।

হো চি মিন সিটি, ভিয়েতনাম

ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় শহর হো চি মিন সিটি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে শহরটি বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল ৫০টি শহরের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে এর অর্থনীতি জার্মানির বার্লিনের সমপর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

শহরটির পরিবর্তনের অন্যতম নিদর্শন প্রথম মেট্রোরেল। ২০২৪ সালের শেষ দিকে চালু হওয়া প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ শহরের কেন্দ্রের বেন থান বাজার থেকে সুয়ি তিয়েন থিম পার্ক পর্যন্ত বিস্তৃত।

আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপনা ও স্থানীয় সংস্কৃতিও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ঘুরে দেখা যায় সেন্ট্রাল পোস্ট অফিস, অপেরা হাউস ও ওয়ার রেমন্টস জাদুঘর।

খাবারের বৈচিত্র্য উপভোগ করাও ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। পর্যটকেরা চেখে দেখতে পারেন ভিয়েতনামি ব্যাগেট স্যান্ডউইচ বান মি, ভাঙা চাল দিয়ে তৈরি কোম তাম ও মুচমুচে প্যানকেক বান সেও।

কেন্দ্রীয় জেলা-১-এর বাইরেও রয়েছে ঘোরার মতো জায়গা। ঐতিহাসিক চায়নাটাউন চো লোনের বাজার, মন্দির ও ওষুধের দোকান যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি থাও দিয়েন এলাকায় রয়েছে বুটিক, গ্যালারি ও স্থানীয় ব্র্যান্ডের দোকান।

ওয়ারশ, পোল্যান্ড

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জীবনমানের উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে শহরটি ১০০টির বেশি ধাপ এগিয়ে ৬১তম অবস্থানে উঠেছে। জীবনমানের সূচকে লন্ডন, নিউইয়র্ক ও টোকিওর চেয়েও এগিয়ে রয়েছে শহরটি।

পোলিশ-অস্ট্রেলীয় কনরাড ওয়ারজেচার মতে, গত দুই দশকে ওয়ারশর পরিবর্তন অসাধারণ। নতুন রাস্তা, মহাসড়ক ও আকাশচুম্বী ভবন শহরের চেহারা বদলে দিয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তাঘাটের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তারও উন্নতি হয়েছে।

প্রথমবার ওয়ারশ গেলে প্যালেস অব কালচার অ্যান্ড সায়েন্স থেকে ঘোরাঘুরি শুরু করা যেতে পারে। সেখান থেকে নোভি শভিয়ান্ত সড়ক ধরে পৌঁছানো যায় ঐতিহাসিক পুরোনো শহরে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।

শহর ঘুরতে ঘুরতে খেয়ে দেখতে পারেন পোলিশ ডোনাট পঁচকি। স্থানীয় বার মিলেচনি বা সাধারণ খাবারের দোকানেও মিলবে ঘরোয়া স্বাদের খাবার। পানীয়সহ তিন পদের খাবারের জন্য খরচ হতে পারে প্রায় ১৩ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই হাজার ১০০ টাকা।

মেডেলিন, কলম্বিয়া

একসময় বিপজ্জনক শহর হিসেবে পরিচিত মেডেলিন এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও ব্যবসাকেন্দ্র হয়ে উঠছে। গত ২০ বছরে শহরটির ব্যবসা ও আর্থিক সেবাখাতে কর্মসংস্থান দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪০-এর দশকে মেডেলিনের গড় আয় বুয়েনস এইরেস ও সাও পাওলোর চেয়ে বেশি হতে পারে।

গত ১০ বছর ধরে শহরটিতে বসবাস করা প্যাট্রিক কুইন বলেন, একসময় মূলত দুঃসাহসী পর্যটকেরা মেডেলিনে আসতেন। এখন শহরটি পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের জন্য রয়েছে মেট্রোকেবল। খাবার, শিল্প ও নকশার জগতেও বাড়ছে শহরটির পরিচিতি।

শহরের স্থানীয় সংস্কৃতি জানতে পর্যটকেরা যেতে পারেন পেরপেতুও সোকোরো এলাকায়। সেখানে রয়েছে নকশার দোকান, গ্যালারি ও কফির দোকান।

একসময় বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে পরিচিত কোমুনা ১৩ এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় গাইডের সঙ্গে এলাকাটি ঘুরে দেখলে দেয়ালচিত্র, চলন্ত সিঁড়ি ও সংগীতের পেছনের ইতিহাস জানা যায়। এ ছাড়া পবলাদো ও লরেলেস এলাকাও ঘুরে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত

একসময় তেলনির্ভর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আবুধাবি এখন প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আবাসন ও আর্থিক খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সূচকে কর্মীদের দক্ষতা ও শিক্ষার দিক থেকে শহরটির অবস্থান ষষ্ঠ। তেলবহির্ভূত অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও শহরটি আরও এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবুধাবি ও শারজায় বসবাস করা মার্কিন নাগরিক মুনা আবু-হিজলেহের মতে, দুবাই বা শারজার তুলনায় আবুধাবি বেশি শান্ত ও খোলামেলা। এখান থেকে সহজেই সমুদ্রসৈকত, ম্যানগ্রোভ বন ও নিরিবিলি আবাসিক এলাকায় যাওয়া যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা জেরেমি সাভরির মতে, দুবাইয়ের জাঁকজমকের পাশাপাশি আবুধাবি তুলনামূলক স্থিতিশীল জীবনযাপনের বিকল্প। শহরটিতে সাংস্কৃতিক আয়োজনও বাড়ছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবুধাবির সাদিয়াত দ্বীপে ২০২৫ সালে চালু হয়েছে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম আবুধাবি ও জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম। স্থপতি ফ্র্যাঙ্ক গেরির নকশায় নির্মিত গুগেনহাইম আবুধাবি ২০২৬ সালের ১১ ডিসেম্বর উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

শহরটিকে বুঝতে পর্যটকদের অন্তত এক দিন ধীরেসুস্থে কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন আবু-হিজলেহ। স্থানীয় ক্যাফেতে নাশতা করা কিংবা শপিং মলে ঘোরার মধ্য দিয়েও এখানকার জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়া সম্ভব।

বাইরে থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অত্যাধুনিক মনে হলেও আকাশচুম্বী ভবন ও বিলাসবহুল হোটেলের আড়ালে মানুষের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই সাধারণ আবুধাবির এই বৈচিত্র্যও পর্যটকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা হতে পারে।

নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে

আধুনিক অবকাঠামো, ঐতিহাসিক স্থাপনা, স্থানীয় খাবার ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য সব মিলিয়ে এই পাঁচ শহর ভ্রমণপিপাসুদের সামনে খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে গিয়ে স্থানীয় জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখতে চাইলে শহরগুলো হতে পারে ভ্রমণের তালিকায় রাখার মতো গন্তব্য।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় দর্শনার্থীদের ঢল
চাঁদপুর জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জন্য কোন ধরণের বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদসহ অন্যান্য উৎসবে ভ্রমন প্রিয় লোকজন ভিড় জমায় শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে। এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই স্থানে ছুটে আসছে বিভিন্ন বয়সী লোকজন। যার ফলে তিন নদীর মোহনা এখন দর্শনার্থীদের পদাচরণায় মুখর হয়ে উঠেছে। শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মানুষ উপভোগ করছেন মোহনার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিন নদীর মোহনা বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে বিকেলে সূর্যাস্তের সময় এই স্থানটি খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। আর ওই মুহুর্তটি অনেকেই প্রিয়জনদের নিয়ে উপভোগ করেন। এদিকে তিন নদীর মোহনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ থানা ও সদর মডেল থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সাদা পোষাকেও রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। মোহনা এলাকা ঘুরে ও দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাঁদপুর ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন সময় কাটাতে এসেছেন। কেউ নদীর পাড়ে বসে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন, কেউবা মোবাইল ক্যামেরায় স্মৃতিবন্দি করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত। অনেকে আবার ট্রলার ও নৌকায় করে ঘুরে আসছেন মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে। যা স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। তবে মোহনার এই মনোরম পরিবেশে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। শিশুদের হাসি, তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ মিলিয়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।   চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন সময় কাটাতে। তিনি বলেন, এই স্থান ছাড়া আমাদের সময় কাটানোর আর ভালো বিনোদন কেন্দ্র নেই। যে কারণে বারবার এখানে সময় কাটাতে আসি। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানিকগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে একটু ভিন্ন পরিবেশে সময় কাটাতে চাঁদপুরে এসেছি। তিন নদীর মোহনার সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে ঈদের ছুটিতে আবারো পরিবার নিয়ে আসার চেষ্টা করবো। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন পাঁচ বন্ধু। তাদের একজন মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সময় পেলে এই স্থানে ঘুরতে আসি। ঈদে সময় কাটানোর জন্য বন্ধুরা মিলে এসেছি। এই স্থানে আসলে কিছু সময় হলেও আনন্দ উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে তিন নদীর মিলনস্থলের ঢেউ সকলের নজর কাড়ে। কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা কলেজ শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, অনেকদিন ধরেই বড় স্টেশন মোলহেডে আসার ইচ্ছা ছিল। ঈদের ছুটিতে সুযোগ পেয়ে চলে এসেছি। নদীর মাঝখানে ট্রলারে ঘোরাঘুরি আর বালুচরে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা দারুণ। চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ঈদ উৎসব কেন্দ্রিক মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় তিনটি টহল টিম কাজ করছে। এছাড়া বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিন নদীর মোহনায় আলাদা একটি টিম রয়েছে। এছাড়া সড়কের প্রতিটি মোড়ে আলাদা ট্রাফিক টিম রয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এবং ঘুরতে পারে এজন্য পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে। আরটিভি/এসএস
চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় দর্শনার্থীদের ঢল
দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে যেসব পর্যটন স্পট
বাংলাদেশের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে আবারও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসুদের সবচেয়ে পছন্দের দেশ হিসেবে উঠে এসেছে মালয়েশিয়ার নাম।  দেশের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন ও এভিয়েশন প্রকাশনা ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’ পরিচালিত এক দেশব্যাপী পাঠক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।  গত ২০ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এই অনলাইন জরিপে প্রায় ১৫ হাজার ২০০ নিয়মিত ভ্রমণকারী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী অংশ নেন। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান পর্যটন শিল্পের গতিপ্রকৃতি এবং পর্যটকদের পরিবর্তিত রুচির এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে এই জরিপের ফলাফল। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশীয় গন্তব্য হিসেবে কক্সবাজার বিশাল ব্যবধানে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা চায়ের দেশ সিলেট দ্বিতীয় এবং পাহাড় ও ঝরনার শহর বান্দরবান তৃতীয় জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন চতুর্থ এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি কুয়াকাটা পঞ্চম স্থানে রয়েছে।  এছাড়া, ঐতিহ্যের টানে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পুরান ঢাকা। শীর্ষ ১০টি জনপ্রিয় দেশীয় স্থানের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সোনারগাঁ, রাঙামাটি, দিনাজপুর এবং টেকনাফ স্থান করে নিয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রগুলোকে নির্দেশ করে। আরও পড়ুন পাকিস্তানে ফিরে জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে যা বললেন আয়াজ সাদিক আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া শীর্ষস্থান দখল করার পেছনে দেশটির সহজ ভিসা নীতি, উন্নত বিমান যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে কেনাকাটা, বিনোদন এবং উন্নত চিকিৎসা পর্যটনের সুযোগ বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ার প্রতি বেশি আকৃষ্ট করছে। জনপ্রিয়তার এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপ।  এ ছাড়া বিনোদন, ব্যবসা ও ধর্মীয় ভ্রমণের চাহিদার ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরব যথাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে নেপাল, ভারত, ভুটান এবং ইন্দোনেশিয়া। পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপের ফলাফল পর্যটকদের অভিজ্ঞতামূলক এবং টেকসই পর্যটনের প্রতি ক্রমবর্ধমান ঝোঁককে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রতিযোগিতামূলক খরচ এবং বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার সুযোগ থাকায় মানুষ এখন আঞ্চলিক গন্তব্যগুলোর প্রতি বেশি আগ্রহী হচ্ছে।  ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’-এর অংশ হিসেবে এই জরিপটি পরিচালিত হয়। প্রতি বছর এই আয়োজনের মাধ্যমে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়, যা দেশের সামগ্রিক পর্যটন খাতকে আরও উৎসাহিত করছে। আরটিভি/এসএইচএম
দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে যেসব পর্যটন স্পট