ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় উদ্যান চিরিকাহুয়া, যেভাবে যাবেন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় বছর পর যুক্ত হলো নতুন জাতীয় উদ্যান। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চিরিকাহুয়া ন্যাশনাল মনুমেন্টকে গত ২০ অক্টোবর জাতীয় উদ্যানে রূপান্তরিত করা হয়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিরিকাহুয়া ন্যাশনাল পার্ক অ্যাক্টে স্বাক্ষরের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৬৪তম জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

প্রায় ১২ হাজার একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই উদ্যান ‘ওয়ান্ডারল্যান্ড অব রকস’ নামেও পরিচিত। স্থানীয় অ্যাপাচি জনগোষ্ঠীর কাছে এলাকাটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অদ্ভুত আকৃতির পাথুরে স্তম্ভ, পাহাড়ি বনভূমি ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের জন্য চিরিকাহুয়া দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পরিচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী ডগ বার্গাম এক বিবৃতিতে বলেন, চিরিকাহুয়ার সুউচ্চ পাথুরে স্তম্ভ, অ্যাপাচি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ একে দেশটির উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যগুলোর একটি করে তুলেছে। জাতীয় উদ্যানের স্বীকৃতি পাওয়ায় এলাকাটি আরও বেশি পর্যটকের কাছে পরিচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে।

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে তৈরি ভূদৃশ্য

অ্যারিজোনার উইলকক্স শহরের কাছে অবস্থিত চিরিকাহুয়া জাতীয় উদ্যান। প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ বছর আগে এক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এ অঞ্চলের স্বতন্ত্র ভূপ্রকৃতি তৈরি হয়। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই ও অন্যান্য উপাদান জমে শক্ত হয়ে রাইওলাইট শিলায় পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে ক্ষয়প্রক্রিয়ায় এসব শিলা বিচিত্র আকৃতির সুউচ্চ স্তম্ভ ও পাথুরে গঠন তৈরি করেছে।

উদ্যানের পাহাড়ি ভূদৃশ্যের সঙ্গে রয়েছে পাইনগাছের বন, উপত্যকা ও নানা ধরনের উদ্ভিদ। সব মিলিয়ে এলাকাটি ভূতত্ত্ব, বন্য প্রাণী ও প্রকৃতির বৈচিত্র্য জানতে আগ্রহী ভ্রমণকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্থান।

চিরিকাহুয়া পর্বতমালা ‘স্কাই আইল্যান্ডস’ নামে পরিচিত ৫৫টি পর্বতশ্রেণির অংশ। আশপাশের মরুভূমি ও তৃণভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন এসব পাহাড়ি অঞ্চলে এমন অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে, যেগুলো নিচু ও অপেক্ষাকৃত শুষ্ক এলাকায় সহজে টিকে থাকতে পারে না। এই স্বতন্ত্র পরিবেশের কারণে এখানে জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ সমাহার দেখা যায়।

১৯২৪ সালে চিরিকাহুয়াকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর জাতীয় উদ্যানের স্বীকৃতি পাওয়ায় এলাকাটির সংরক্ষণ ও পর্যটন নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কীভাবে যাবেন

চিরিকাহুয়া জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি শহর উইলকক্স। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারস্টেট ১০ (আই-১০) মহাসড়ক থেকে দক্ষিণ দিকে গাড়িতে প্রায় ৪৫ মিনিটে উদ্যান এলাকায় পৌঁছানো যায়। অ্যারিজোনার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে গাড়িতে যাতায়াত সুবিধাজনক। তবে যাত্রার আগে উদ্যানের প্রবেশপথ, সড়কের অবস্থা ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট থেকে হালনাগাদ তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।

বোনিতা ক্যানিয়ন ড্রাইভে পাহাড়ি সৌন্দর্য

উদ্যান ঘোরার অন্যতম উপায় আট মাইল দীর্ঘ বোনিতা ক্যানিয়ন ড্রাইভ ধরে গাড়ি চালানো। এই পথ পাথুরে গঠন ও পাইনবনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে। পথের শেষ দিকে রয়েছে মাসাই পয়েন্ট। এখান থেকে চারপাশের পাহাড়, উপত্যকা ও পাথুরে ভূদৃশ্যের ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য দেখা যায়। ছবি তোলা ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের জন্য জায়গাটি উল্লেখযোগ্য।

হাইকিং, পাখি দেখা ও বন্য প্রাণী পর্যবেক্ষণ

চিরিকাহুয়া জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ১৭টি হাইকিং ট্রেইল। পথের দৈর্ঘ্য ও কঠিনতার মাত্রা ভিন্ন হওয়ায় নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও হাতে থাকা সময় অনুযায়ী ট্রেইল বেছে নেওয়া যায়। হাঁটার সময় পর্যাপ্ত পানি, আরামদায়ক জুতা ও আবহাওয়ার উপযোগী পোশাক সঙ্গে রাখা জরুরি।

পাখিপ্রেমীদের জন্যও উদ্যানটি বেশ সমৃদ্ধ। এখানে ২০০টিরও বেশি প্রজাতির পাখির উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। পাখি দেখার জন্য বোনিতা ক্রিক ট্রেইল, ইকো পার্ক ও সিলভার স্পার মিডো ট্রেইল উল্লেখযোগ্য স্থান। এ ছাড়া বনাঞ্চলে বন্য প্রাণী পর্যবেক্ষণ করা যায়। তবে প্রাণী দেখার নিশ্চয়তা নেই; দূর থেকে তাদের পর্যবেক্ষণ করা এবং খাবার না দেওয়াই উচিত।

উদ্যানটিতে ঘোড়ায় চড়া ও বনভোজনের ব্যবস্থাও রয়েছে। এসব সুবিধা কোথায় এবং কখন পাওয়া যায়, তা ভ্রমণের আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো।

তারাভরা আকাশ দেখার সুযোগ

দিনের বেলা পাহাড়ি পথ ও পাথুরে ভূদৃশ্য ঘুরে দেখার পাশাপাশি সন্ধ্যার পরও সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে চিরিকাহুয়ায়। রাতের আকাশের স্বাভাবিক অন্ধকার ও স্বচ্ছতার কারণে এটি আন্তর্জাতিক ডার্ক স্কাই পার্কের স্বীকৃতি পেয়েছে। কৃত্রিম আলোর দূষণ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় পরিষ্কার আবহাওয়ায় আকাশের তারা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

এখানে সন্ধ্যায় আকাশ পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়া যায়। তবে এসব আয়োজনের সময়সূচি আগে থেকে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। রাতের বেলা ঠান্ডা বাড়তে পারে বলে গরম পোশাক সঙ্গে রাখা ভালো।

প্রাচীন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে তৈরি পাথুরে স্তম্ভ, পাহাড়ি বন, বৈচিত্র্যময় পাখি ও তারাভরা রাতের আকাশসহ চিরিকাহুয়া জাতীয় উদ্যান প্রকৃতি ও ভূপ্রকৃতিতে আগ্রহী ভ্রমণকারীদের জন্য এক স্বতন্ত্র স্থান। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যানের তালিকায় নতুন সংযোজন হিসেবে এর স্বীকৃতি এলাকাটির পরিচিতি আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দ্রুত বদলে যাচ্ছে বিশ্বের ৫ শহর, কেন ঘুরতে যাবেন
নিউইয়র্ক, লন্ডন ও প্যারিসের বাইরে ভ্রমণে নতুন আকর্ষণ হতে পারে তুলুজ, হো চি মিন সিটি, ওয়ারশ, মেডেলিন ও আবুধাবি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, খাবার ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে শহরগুলো টানছে পর্যটকদের।
দ্রুত বদলে যাচ্ছে বিশ্বের ৫ শহর, কেন ঘুরতে যাবেন
চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় দর্শনার্থীদের ঢল
চাঁদপুর জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জন্য কোন ধরণের বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদসহ অন্যান্য উৎসবে ভ্রমন প্রিয় লোকজন ভিড় জমায় শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে। এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই স্থানে ছুটে আসছে বিভিন্ন বয়সী লোকজন। যার ফলে তিন নদীর মোহনা এখন দর্শনার্থীদের পদাচরণায় মুখর হয়ে উঠেছে। শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মানুষ উপভোগ করছেন মোহনার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিন নদীর মোহনা বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে বিকেলে সূর্যাস্তের সময় এই স্থানটি খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। আর ওই মুহুর্তটি অনেকেই প্রিয়জনদের নিয়ে উপভোগ করেন। এদিকে তিন নদীর মোহনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ থানা ও সদর মডেল থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সাদা পোষাকেও রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। মোহনা এলাকা ঘুরে ও দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাঁদপুর ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন সময় কাটাতে এসেছেন। কেউ নদীর পাড়ে বসে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন, কেউবা মোবাইল ক্যামেরায় স্মৃতিবন্দি করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত। অনেকে আবার ট্রলার ও নৌকায় করে ঘুরে আসছেন মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে। যা স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। তবে মোহনার এই মনোরম পরিবেশে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। শিশুদের হাসি, তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ মিলিয়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।   চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন সময় কাটাতে। তিনি বলেন, এই স্থান ছাড়া আমাদের সময় কাটানোর আর ভালো বিনোদন কেন্দ্র নেই। যে কারণে বারবার এখানে সময় কাটাতে আসি। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানিকগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে একটু ভিন্ন পরিবেশে সময় কাটাতে চাঁদপুরে এসেছি। তিন নদীর মোহনার সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে ঈদের ছুটিতে আবারো পরিবার নিয়ে আসার চেষ্টা করবো। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন পাঁচ বন্ধু। তাদের একজন মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সময় পেলে এই স্থানে ঘুরতে আসি। ঈদে সময় কাটানোর জন্য বন্ধুরা মিলে এসেছি। এই স্থানে আসলে কিছু সময় হলেও আনন্দ উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে তিন নদীর মিলনস্থলের ঢেউ সকলের নজর কাড়ে। কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা কলেজ শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, অনেকদিন ধরেই বড় স্টেশন মোলহেডে আসার ইচ্ছা ছিল। ঈদের ছুটিতে সুযোগ পেয়ে চলে এসেছি। নদীর মাঝখানে ট্রলারে ঘোরাঘুরি আর বালুচরে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা দারুণ। চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ঈদ উৎসব কেন্দ্রিক মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় তিনটি টহল টিম কাজ করছে। এছাড়া বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিন নদীর মোহনায় আলাদা একটি টিম রয়েছে। এছাড়া সড়কের প্রতিটি মোড়ে আলাদা ট্রাফিক টিম রয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এবং ঘুরতে পারে এজন্য পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে। আরটিভি/এসএস
চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় দর্শনার্থীদের ঢল
দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে যেসব পর্যটন স্পট
বাংলাদেশের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে আবারও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসুদের সবচেয়ে পছন্দের দেশ হিসেবে উঠে এসেছে মালয়েশিয়ার নাম।  দেশের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন ও এভিয়েশন প্রকাশনা ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’ পরিচালিত এক দেশব্যাপী পাঠক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।  গত ২০ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এই অনলাইন জরিপে প্রায় ১৫ হাজার ২০০ নিয়মিত ভ্রমণকারী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী অংশ নেন। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান পর্যটন শিল্পের গতিপ্রকৃতি এবং পর্যটকদের পরিবর্তিত রুচির এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে এই জরিপের ফলাফল। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশীয় গন্তব্য হিসেবে কক্সবাজার বিশাল ব্যবধানে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা চায়ের দেশ সিলেট দ্বিতীয় এবং পাহাড় ও ঝরনার শহর বান্দরবান তৃতীয় জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন চতুর্থ এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি কুয়াকাটা পঞ্চম স্থানে রয়েছে।  এছাড়া, ঐতিহ্যের টানে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পুরান ঢাকা। শীর্ষ ১০টি জনপ্রিয় দেশীয় স্থানের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সোনারগাঁ, রাঙামাটি, দিনাজপুর এবং টেকনাফ স্থান করে নিয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রগুলোকে নির্দেশ করে। আরও পড়ুন পাকিস্তানে ফিরে জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে যা বললেন আয়াজ সাদিক আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া শীর্ষস্থান দখল করার পেছনে দেশটির সহজ ভিসা নীতি, উন্নত বিমান যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে কেনাকাটা, বিনোদন এবং উন্নত চিকিৎসা পর্যটনের সুযোগ বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ার প্রতি বেশি আকৃষ্ট করছে। জনপ্রিয়তার এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে নীল জলরাশির দেশ মালদ্বীপ।  এ ছাড়া বিনোদন, ব্যবসা ও ধর্মীয় ভ্রমণের চাহিদার ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরব যথাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে নেপাল, ভারত, ভুটান এবং ইন্দোনেশিয়া। পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপের ফলাফল পর্যটকদের অভিজ্ঞতামূলক এবং টেকসই পর্যটনের প্রতি ক্রমবর্ধমান ঝোঁককে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রতিযোগিতামূলক খরচ এবং বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার সুযোগ থাকায় মানুষ এখন আঞ্চলিক গন্তব্যগুলোর প্রতি বেশি আগ্রহী হচ্ছে।  ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’-এর অংশ হিসেবে এই জরিপটি পরিচালিত হয়। প্রতি বছর এই আয়োজনের মাধ্যমে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়, যা দেশের সামগ্রিক পর্যটন খাতকে আরও উৎসাহিত করছে। আরটিভি/এসএইচএম
দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে যেসব পর্যটন স্পট
আরও পড়ুন
চিকিৎসকের ব্যঙ্গাত্মক কথা ফোনে রেকর্ড করে মামলা, রোগী জিতলেন ৫ লাখ ডলার
৬৩ বছরের দাম্পত্য, আজও একা খেতে বসেন না বৃদ্ধ
কম সিজিপিএতেও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, আবেদন যেভাবে
যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে রাজি পুতিন