ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

তাপমাত্রা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল বাংলাদেশ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ছয়টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।

ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।

বিজ্ঞানীরা উচ্চ রেজুলেশনের জলবায়ু ও জনসংখ্যাভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে তাপপ্রবাহের এই ঝুঁকি নিরূপণ করেছেন। গবেষণায় ‘কুলিং ডিগ্রি ডেইজ’ (CDD) নামক একটি সূচক ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূলত ঘরের ভেতর আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় রাখতে কতটা কৃত্রিম শীতলীকরণ (যেমন—এসি বা ফ্যান) প্রয়োজন, তা পরিমাপ করে।

এই সূচক অনুযায়ী, কোনো এলাকায় বছরে ৩ হাজারের বেশি সিডিডি থাকলে তাকে ‘চরম তাপপ্রবণ’ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই মানদণ্ডে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় ভারত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে বাংলাদেশকেও ওপরের দিকে রাখা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি। তবে অক্সফোর্ডের এই নতুন গবেষণা বলছে, এখন ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে চরম তাপমাত্রা; যা শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, বরং দেশের কৃষি, অর্থনীতি এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপর নজিরবিহীন প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জেসাস লিজানা বলেন, আমাদের গবেষণা বলছে যে, বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার আগেই হিটিং এবং কুলিং ব্যবস্থার চাহিদায় আমূল পরিবর্তন আসবে। এর মোকাবিলায় আমাদের অনেক আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই হয়তো অনেক বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার লাগানোর প্রয়োজন পড়বে। কিন্তু তাপমাত্রা যদি ২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তবে এই উষ্ণতা দীর্ঘকাল অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-জিরো কার্বন নিঃসরণের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে, আমাদের ভবন নির্মাণ খাতকে কার্বনমুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে আরও কার্যকর ও টেকসই অভিযোজন কৌশল তৈরি করতে হবে।

অক্সফোর্ড মার্টিন ফিউচার অব কুলিং প্রোগ্রামের প্রধান এবং স্মিথ স্কুল অব এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাধিকা খোসলা সতর্ক করে বলেন, আমাদের গবেষণার ফলাফলগুলো একটি চরম সতর্কবার্তা বা ‘ওয়েক-আপ কল’। তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে অভিবাসন এবং কৃষিকাজ-সবকিছুর ওপর নজিরবিহীন প্রভাব পড়বে। ক্রমাগত উত্তপ্ত হতে থাকা দিনগুলোর এই প্রবণতা পাল্টে দেওয়ার একমাত্র উপায় হলো নেট-জিরো ও টেকসই উন্নয়ন। রাজনীতিবিদদের এখনই এই লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

গবেষণায় আরও জানানো হয়, চরম তাপপ্রবাহের আশঙ্কাজনক বৃদ্ধির ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য শক্তির চাহিদা এবং সেই সংশ্লিষ্ট কার্বন নিঃসরণ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

অন্যদিকে কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে ঘর গরম রাখার (হিটিং) প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই চিত্র স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আসন্ন দশকগুলোতে ভবনের নকশা পরিবর্তন এবং টেকসই শীতলকরণ প্রযুক্তি গ্রহণ করা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এখন সময়ের দাবি।

সূত্র: অক্সফোর্ডের গবেষণা

আরটিভি/এএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দেশের ২ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আভাস
দেশের দুই জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) আবহাওয়াবিদ এ কে এম নজমুল হকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এ সতর্কতা প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়। এদিকে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।  একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তা এবং আগামী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আরটিভি /এসআর
দেশের ২ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আভাস
ঝড় ও ভারী বর্ষণ নিয়ে যে নতুন বার্তা দিলো আবহাওয়া অফিস
বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়েছে। বর্তমানে এটি লঘুচাপ আকারে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এই অবস্থায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালের মধ্যেই দেশের ২ জেলার উপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে।
ঝড় ও ভারী বর্ষণ নিয়ে যে নতুন বার্তা দিলো আবহাওয়া অফিস
আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।
আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া
দুপুর ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, ৩ বন্দরে সতর্কসংকেত
দেশের কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দুপুর ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, ৩ বন্দরে সতর্কসংকেত
পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের শঙ্কা
মিয়ানমার ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তর তথ্য অনুসারে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এ সময়ে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ভারী বৃষ্টির কারণে এসব জেলার পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আরটিভি/এসআর
পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের শঙ্কা
আরও পড়ুন
জাতীয় দলে নতুন সহকারী কোচ 
ভিসা আবেদনে সহায়তা কর‌তে ঢাকায় আসছে রোমানিয়ার প্রতিনিধিদল
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের বড় জয়
ইংলিশ পরীক্ষা দিয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের, দেখে নিন পূর্ণাঙ্গ সূচি