ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ  

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

আবার দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষা। গুরু-সান্নিধ্য আর মরমি সাধনায় একাত্ম হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সমবেত হয়েছিলেন দেশ-বিদেশের হাজারো সাধু-গুরু ও লালন অনুসারী।

অধিবাস, বাল্য সেবা ও পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে রোববার (১৮ অক্টোবর) শেষ হয়েছে সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা। পূর্ণ সেবা শেষে বিদায় বেলায় ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আখড়াবাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন সাধুরা। তবে মূল মঞ্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলা চলবে সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত।

বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত তিনদিনের উৎসবের দ্বিতীয় দিনেই ভাঙতে শুরু করেছে সাধুদের মিলন মেলা। লালনের মানবতাবাদী দর্শন, আত্মশুদ্ধি ও মরমি সাধনার চর্চায় একত্রিত হওয়া সাধুরা পূর্ণ সেবার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছেন। রেখে যাচ্ছেন আবারও ফিরে আসার প্রত্যাশা।

রোববার সকালে বাল্য সেবা ও দুপুরে পূর্ণ সেবা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সাধু সঙ্গের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। বিকেল থেকেই অধিকাংশ সাধু আখড়াবাড়ি ছেড়ে চলে যান। কেউ কেউ গুরুকার্য সম্পন্ন করে সোমবার সকালে বিদায় নেবেন বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধা থেকে আসা নিজাম ফকির বলেন, আমরা প্রতিবছর সাঁইজির ধামে আসি। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু-গুরুরা একত্রিত হয়ে সাধুসঙ্গ করি। অধিবাস, রাখাল সেবা, বাল্য সেবা ও পূর্ণ সেবার মধ্যদিয়ে আমাদের সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। আজ অশ্রুসিক্ত নয়নে সাঁইজির আখড়াবাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আবারও আগামী বছর আসব। এই মিলন মেলায় সবার সঙ্গে দেখা হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মামুন সাধু বলেন, সাঁইজির ধামে এলে আমরা সবাই এক পরিবারের মতো মিলিত হই। সাধুসঙ্গের মধ্য দিয়ে গুরু-সান্নিধ্য লাভ করি এবং লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী দর্শন ও মরমি ভাবধারার চর্চা করি। পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় এখন বিদায়ের পালা। মনটা খুব ভারী হয়ে আছে। আবারও আগামী বছর সাঁইজির ধামে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকব।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা এক নারী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে বলেন, আজ এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য লালন সাঁইয়ের দার্শনিক ভাবনা সম্পর্কে জানা ও তা উপলব্ধি করা। বিশেষ করে সমাজের বৈষম্যবিরোধী যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা আমাদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। তার দর্শন ও চিন্তাধারা কাছ থেকে অনুভব করা এবং বোঝার সুযোগ পাওয়া সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথাগুলোর মতো গানগুলোও মনের গভীরে দাগ কাটে। আশা করি, আজকের এই আয়োজন থেকে আমরা সবাই মানবতা, সাম্য ও ইতিবাচক চিন্তার সুন্দর বার্তা নিয়ে ফিরতে পারব।

সাধুদের বিদায়ে আখড়াবাড়িতে সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও উৎসবের আমেজ এখনো কাটেনি। মূল মঞ্চে লালন অ্যাকাডেমির শিল্পী ও দেশ বরেণ্য লালন শিল্পীদের পরিবেশনায় চলবে মরমি সংগীত। পাশাপাশি আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণের তিনদিনের গ্রামীণ মেলাও চলবে সোমবার পর্যন্ত। ফলে সাধুদের বড় একটি অংশ ফিরে গেলেও লালন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা অব্যাহত রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের কেউ লালনের দর্শন জানতে, কেউ তার মানবতাবাদী চিন্তায় জীবনের অর্থ খুঁজতে, আবার কেউ আত্মিক প্রশান্তির আশায় ছুটে এসেছেন এই ধামে। লালনের প্রেম, মানবিকতা ও আত্ম শুদ্ধির বাণীকে ধারণ করেই ভক্ত-অনুসারীদের এই মিলনমেলা।

ঐতিহাসিক এ উৎসব নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস শুধু একটি স্মরণোৎসব নয়, এটি তার মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। এ উৎসবে দেশ-বিদেশের লালনভক্ত, সাধু-গুরু ও দর্শনার্থীরা একত্রিত হন।

উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। লালনের মানবতাবাদী দর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক ফকির লালন সাঁইয়ের মৃত্যুর পর থেকে তার স্মরণে ভক্ত-অনুসারীরা স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছেন। পরবর্তী সময়ে লালন অ্যাকাডেমি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আয়োজন বিস্তৃত রূপ পায়। প্রতিবছর তিরোধান দিবসে লালনের দর্শন, মানবতাবাদী ভাবধারা ও মরমি সংগীতের টানে ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে সমবেত হন দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত, সাধু ও দর্শনার্থী।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তরুণ কবি বাবুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত
তরুণ কবি শহীদুল ইসলাম বাবুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতার মাঝে জীবনের গল্প’ প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যাঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেছেন। ৬০টি চতুর্দশপদী কবিতায় উঠে এসেছে প্রেম-ভালোবাসা, বিরহ, আনন্দ, দেশ ও প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গ।
তরুণ কবি বাবুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত
একুশে বইমেলার তারিখ ঘোষণা 
ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি।
একুশে বইমেলার তারিখ ঘোষণা 
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৭০তম জন্মবার্ষিকী আজ
‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের স্রষ্টা তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র আজ ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) ৭০তম জন্মবার্ষিকী।
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৭০তম জন্মবার্ষিকী আজ
‘সার্ক-ফোসওয়াল’ আজীবন সম্মাননা পেলেন কবি নূরুল হক
কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক ‘সার্ক–ফোসওয়াল আজীবন সম্মাননা পুরস্কার ২০২৬’ (SAARC–FOSWAL Lifetime Achievement Award 2026)-এ ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক নূরুল হক।
‘সার্ক-ফোসওয়াল’ আজীবন সম্মাননা পেলেন কবি নূরুল হক
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
সাহসী ও উদ্ভাবনী সাতিহ্যকর্মের জন্য এ বছর নোবেলে পেয়েছেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন। সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্যে প্রাচীন ঐতিহ্যকে নতুন করে ফুটিয়ে তোলা এবং তার উদ্ভাবনী ও বৈচিত্র্যময় লেখার আধুনিক সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করায় তাকে এ বছর নোবেল দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সুইডিশ একাডেমি।
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
আরও পড়ুন
লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি থেকে টাইম বোমা উদ্ধার
বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত
সাধুসঙ্গে নিজেকে ও অজানাকে জানছেন লালন ভক্তরা
বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন