ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশের এলএনজি জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচলে বাধা নেই: ইরানি রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। একই সঙ্গে মক্কা প্যাক্টের সদস্য দেশগুলোর জাহাজও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন।

জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেন, বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হবে না। মক্কা প্যাক্টের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাহাজও এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে বলে তিনি জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব থাকায় সম্ভাব্য নৌ-নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কাতারএনার্জি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ বা চুক্তিগত দায়মুক্তির সময়সীমা সেপ্টেম্বরের পরও বাড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল নিয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমদানি করা এলএনজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের দীর্ঘস্থায়ী নৌ-নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশেও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সাক্ষাৎ শেষে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মক্কা প্যাক্টে ইরানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও কথা বলেন ইরানি রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, ইরান মক্কা প্যাক্টকে নিজেদের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না। বরং আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলে ইরান এই উদ্যোগে অংশ নেয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেন, ইরান মক্কা প্যাক্টকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, ইরান কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা ক্যাম্পে হামলা করেছে এবং কোনো ইসলামি রাষ্ট্রে হামলা করেনি। মক্কা প্যাক্টে ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলে দেশটি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলেছে দূতাবাস
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলেছে দূতাবাস
এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন
এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন
মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো এমপিদের শেষ পরিণতি যা হয়েছিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরুর পরে এ পর্যন্ত দুইজন সংসদ সদস্য ভিন্ন কারণে বিতর্কে জড়ালেন।
মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো এমপিদের শেষ পরিণতি যা হয়েছিল
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালকের ৫১ কোটি টাকার আমানত, বেরিয়ে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সুকুমার রায়। ২০১৭ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন সরকারের তৃতীয় গ্রেডের এই কর্মকর্তা। সরকারি হিসাব অনুসারে চাকরির শেষ সময়ে তার মাসিক বেতন-ভাতা মিলিয়ে ছিল প্রায় ৯০ হাজার টাকা। এই বেতনের চাকরি করে গড়েছেন সম্পদের এক মহা সাম্রাজ্য।  সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, জমি ও ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু সোনালী ব্যাংকেই সুকুমার রায়ের নামে কমপক্ষে ৫১ কোটি টাকা আমানত রয়েছে। নিজের নামে রয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টাকার সঞ্চয়পত্র। এছাড়া ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রামদিয়া মৌজায় তার নামে ২২০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ—দুটি জমির তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার পল্টন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ফরিদপুর সদর এলাকায় আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সুকুমার রায় খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক পদ থেকে ২০১৭ সালে অবসরে যান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অবসরের পর তিনি এককালীন প্রায় ৮০ লাখ টাকা পেনশন পেয়েছেন। চাকরিজীবনে তার মোট বেতন-ভাতা ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা।  অর্থাৎ চাকরিকালীন আয় ও পেনশন মিলিয়ে একজন তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা আয় করতে পারেন। কিন্তু তার ব্যাংক হিসাবে কমপক্ষে ৫১ কোটি টাকা আমানত রেখেছেন বলে জানা গেছে এত টাকা ও জমি তিনি কোন প্রদীপের আলো আয় করেছেন তার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা নেই। সুকুমার রায়ের আয়কর নথিতেও কোনো তথ্য নেই এসব সম্পদের। এসব অভিযোগের বিষয়ে দেশের বেসরকারি এক গণমাধ্যমকে সুকুমার জানিয়েছেন, ‘আমার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ আছে। তাতে আপনাদের কী? আপনি খুঁজে দেখেন আমার আরো অনেক সম্পদ রয়েছে।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। এদিকে সুকুমার রায়ের স্ত্রী বনশ্রী বোস নিজেকে একজন গৃহিণী হিসেবে নিজেকে দাবি করলেও তার নামে থাকা সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার আমানত। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকেও রয়েছে তার হিসাব যার নাম্বার ০১৯০৩১৫২৭৩-৮১১। এই হিসাবটি খুলতে তিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন চাকুরিজীবী হিসেবে। কিন্তু কোথায় চাকরি করেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। জানা গেছে, বনশ্রী বোসের নামে রয়েছে ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। এরমধ্যে ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আমানত রয়েছে ৫ লাখ টাকার। এছাড়া পরিবার সঞ্চয়পত্র হিসেবে রয়েছে ৩০ লাখ টাকা। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক আমানত হিসেবে আরো রয়েছে ১০ লাখ টাকা। বনশ্রী বোসের নামে রয়েছে ফরিদপুর সদরের শ্রীঅংগন দক্ষিণ পল্লী এলাকায় বাড়ি। এ ছাড়াও বনশ্রী বোসের সোনালী ব্যাংকের ৪টি অ্যাকাউন্টের তথ্য থেকে জানা গেছে, হিসাব নাম্বার ২০১১০৫০৫০০০৭৪০ এর বিপরীতে ২ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) হিসেবে রয়েছে। ২০১১০৫০৫০০০৮১৩ হিসাব নাম্বারের বিপরীতে রয়েছে আরো ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর। ২০১১০৫০৫০০০১৯১ হিসাব নাম্বারের বিপরীতে রয়েছে ১১ কোটি টাকা এবং ২০১১০৫০৫০০০২১৭ হিসাবে আছে আরো ১০ কোটি টাকার এফডিআর। এসব এফডিআর করার সময়ে দেখানো হয়েছে বাবার বাড়ি থেকে প্রাপ্ত সম্পদ এবং জমি বিক্রয়ের টাকা। কিন্তু বনশ্রী বোসের ট্যাক্স ফাইলে নেই এসব সম্পদের কোনো বিবরণ। সুকুমারের স্ত্রী ছাড়াও তার সুকুমার রায়ের বড় ছেলে সৌমেন রায়ের অ্যাকাউন্টেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, সৌমেন রায়ের অ্যাকাউন্টে ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে তার মা বনশ্রী বোসের আইএফআইসি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে। ফলে খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক এই পরিচালকে বিপুল সম্পদের তথ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমের খবর প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার কথা জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ। আরটিভি/এসআর
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালকের ৫১ কোটি টাকার আমানত, বেরিয়ে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য
বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি বহনকারী রুশ বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে ঢাকাভিত্তিক পাকিস্তান হাইকমিশন।
বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান