
খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০২৬ বরণের উৎসব রূপ নিল আতঙ্কে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কঠোর নিষেধাজ্ঞা থোড়াই কেয়ার করে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা বাজার সাথে সাথেই বিকট শব্দে আতশবাজি, পটকা ও ফানুসে ছেয়ে যায় রাজধানীর আকাশ। উচ্চশব্দে গান-বাজনা আর শব্দদূষণে অতিষ্ঠ নাগরিকরা প্রতিকার চেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ৩৮১টি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এদিকে ওড়ানো ফানুস থেকে মিরপুরের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানিয়েছেন, বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর মধ্যে ঢাকা মহানগর থেকেই এসেছে ৯৬টি ফোন। বাকি ২৮৫টি অভিযোগ এসেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও উৎসবের উন্মাদনায় সরকারি আদেশ একপ্রকার চাপা পড়ে যায়।
রাত ১২টা বাজার পরপরই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আকাশজুড়ে শত শত ফানুস উড়তে দেখা যায়। এর ফলে মিরপুর ৭ নম্বর এলাকায় একটি বহুতল ভবনের ছাদে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলে বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পদহানি এড়ানো সম্ভব হয়। তবে এই ঘটনায় পুরো এলাকায় মুহূর্তেই হাহাকার ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আতশবাজির শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে ঘরের জানালা-দরজা পর্যন্ত কাঁপছিল।
নিরাপত্তার স্বার্থে ডিএমপির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে, উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি, আতশবাজি বা ফানুস ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উচ্চশব্দে হর্ন বাজানো বা গণ-উপদ্রব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পাড়া-মহল্লায় রাতভর চলেছে বাজি ফোটানো ও উচ্চশব্দে গান-বাজনা। শব্দদূষণের ফলে অসুস্থ বৃদ্ধ ও শিশুদের ভোগান্তি ছিল চরমে।
নতুন বছরের শুরুতে আনন্দ করতে গিয়ে জননিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখানোর এই সংস্কৃতি নিয়ে এখন সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও কেন প্রতিবছর একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরটিভি/এআর


