ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকাবাসীর জন্য বড় দুঃসংবাদ, ‘দুর্যোগপূর্ণ’ তিন অঞ্চল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
ফাইল ছবি

বিশ্বের জলবায়ু বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের কবলে বাংলাদেশের মেগাসিটি ঢাকাও। সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় নিয়মিতই উপরের দিকে অবস্থান করছে শহরটি।

আজ বুধবারও (১১ ফেব্রুয়ারি) এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এদিন বেলা সোয়া ১১টার দিকে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক বায়ুমান বিষয় ওয়েবসাইট আইকিউএয়ারে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে দেখা গেছে ঢাকার নাম।

এ সময়ে শহরটির একিউআই (ইয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) স্কোর ছিল ২৬৭। এই বায়ুমান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত। একই সময়ে বচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিল্লি। শহরটির বায়ুমান স্কোর এ সময়ে ছিল ৩৪০, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বা ‘বিপর্যয়কর’ বলে বিবেচিত।

আরও পড়ুন

এদিকে বায়ুদূষণে বিশ্বের শহরগুলোর তালিকায় আজ তৃতীয় স্থানে রয়েছে আরেক প্রতিবেশী দেশ নেপালের কাঠমুন্ডু, যার স্কোর ১৯১। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভারতের আরেক শহর কলকাতা; বায়ুমান স্কোর ১৮৮। আর পঞ্চম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি, যার বায়ুমান স্কোর ১৮১।

এদিকে, ঢাকার আশেপাশের তিন অঞ্চলের বায়ুমান আজ দেখা গেছে খুবই উদ্বেগজনক। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা টঙ্গীর। ঢাকার সঙ্গে লাগোয়া এই অঞ্চলটির একিউআই স্কোর ৪২৬। অন্যদিকে গাজীপুরের বায়ুমান স্কোর ৩৯৪ এবং সাভারের বায়ুমান স্কোর ৩৪৩। আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, এই তিন অঞ্চলের বায়ুমানই আজ ‘দুর্যোগপূর্ণ’।

একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়।

আর ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ এক মারাত্মক সমস্যা। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই বায়ুদূষণের ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং দিন দিন এ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো আরও বেড়েই চলছে।

বায়ুদূষণের ফলে স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। ধুলাবালি নাক-মুখ দিয়ে শ্বাসতন্ত্রে আক্রান্ত করে বেশি। প্রথমেই চোখ-নাক আক্রান্ত হওয়ার ফলে চোখ লাল হয়, পানি ঝরে, এলার্জি হয়।

নাকে প্রবেশ করে নাক বন্ধ হওয়া, নাকে পানি, অনবরত হাঁচি, নাকে এলার্জি বা রাইনাইটিস, সাইনোসাইটিস এমনকি নাকে রক্তক্ষরণও হতে পারে। মুখে প্রবেশ করলে টনসিল, ফ্যারিংস, ল্যারিংসে প্রদাহ হয়ে কাশিসহ গলার স্বর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বায়ুদূষণে এলার্জি, সোরিয়াসিসসহ বিভিন্ন চর্ম রোগের জন্য হতে পারে মারাত্মক। শ্বাসনালি ও ফুসফুসে আক্রান্তের ফলে সাধারণ কাশি, অ্যাজমা বা হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, এমফাইসিমা, সিওপিডি, নিউমোনিয়াসহ অন্য ভাইরাল ইনফেকশনের প্রকোপ বাড়তে পারে। এভাবে দীর্ঘদিন দূষিত বায়ুর গ্রহণের প্রভাবে ফুসফুসের ক্যানসারসহ অন্য রোগ যেমন-হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, মস্তিষ্ক, লিভার ও কিডনিসহ অন্য অঙ্গের রোগ হতে পারে।

বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বয়স্ক, শিশু ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষরা। সবচেয়ে ক্ষতি হয় শিশুদের, বায়ুতে অতিরিক্ত সিসার উপস্থিতি শিশুদের মানসিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ব্যাহত হয় এবং স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ এখন বায়ুদূষণ।

বিশ্বে এ বয়সে যত শিশুর মৃত্যু হয়, তার এক চতুর্থাংশের বেশির জন্য দায়ী বায়ুদূষণ। গর্ভবতী মহিলাদের শারীরিক ক্ষতি, গর্ভের সন্তানের ওজন কম হওয়া ও অকাল প্রসব, জন্মগত ত্রুটি, মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয়ে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ার মতো ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এ ছাড়া বায়ুতে সিসার পরিমাণ বেশি থাকলে স্নায়ুতন্ত্রের রোগ, পেটের পীড়াসহ রক্তশূন্যতার মতো জটিল রোগের আশঙ্কা বেশি হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর বিশ্বে বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যু হয় প্রায় ৭০ লাখ মানুষের। এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, সিওপিডি, ফুসফুসের ক্যানসার এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ। এর মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ। প্রতিবছর প্রায় ৩২ লাখ মানুষ রান্নাবান্না ও গৃহস্থালিজনিত বায়ুদূষণের শিকার হয়ে মারা যায়।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকার যেসব এলাকায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বৃহস্পতিবার
ঢাকার ধামরাইয়ে ৩৩ কেভি লাইনের তার আপগ্রেডেশন ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
ঢাকার যেসব এলাকায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বৃহস্পতিবার
ডেসকোর প্রি-পেইড গ্রাহকদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি
প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটারের সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কারণে টানা ২৪ ঘণ্টা রিচার্জ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ অথবা বিঘ্নিত হতে পারে।
ডেসকোর প্রি-পেইড গ্রাহকদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি
ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে একদিনে ২ হাজারের বেশি মামলা
বুধবার (৪ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে একদিনে ২ হাজারের বেশি মামলা
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৫৪৭ জন ধরা
বুধবার (৪ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৫৪৭ জন ধরা
আগারগাঁওয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
পুরোনো গবেষণার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারও মানুষ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়ে তারা বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সিগন্যালে অবস্থান নেন। সেখানে সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।  এদিকে সড়ক অবরোধের পাশাপাশি আজ শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।  এর আগে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর সব ধরনের ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সব ব্যাচের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।  গত ২৭ অক্টোবর থেকে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে তা হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে চলমান মাটি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তারা। পরদিন মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ২৯ অক্টোবর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।  এর মধ্যে ওই দিনই জাতীয় যুবমেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তবে মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে মাঠটি চাষ করে নিজেদের দখলে নেন আন্দোলনকারীরা।  আরটিভি/এসআর
আগারগাঁওয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
আরও পড়ুন
ঢাকার যেসব এলাকায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বৃহস্পতিবার
ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে একদিনে ২ হাজারের বেশি মামলা
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৫৪৭ জন ধরা
ঢাকাসহ ৩ বিভাগের জন্য দুঃসংবাদ