ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলালের বিরুদ্ধে তদন্তে দুদক

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
বেলাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ও আওয়ামী দোসর ‎স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিইডির ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বলেন, বেলাল হোসেন প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পাওয়ার পর পুরো এলজিইডিতে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তাই এলজিইডিকে নিয়মতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে বেলাল হোসেনের মতো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত না করে আইনের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তারা।

‎সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ২৮মার্চ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে মো. আব্দুর রশীদ মিয়ার নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হয়। ফলে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফার স্থলাভিষিক্ত হয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (শিক্ষা) মো. বেলাল হোসেন সাময়িকভাবে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব পান। তবে এই দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জন, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে।

‎দুদকে এলজিইডিরই এক কর্মকর্তার করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বেলাল হোসেন সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর অস্বাভাবিকভাবে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। অভিযোগে বলা হয়, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্দেশনায় তিনি প্রায় ৪০টি প্রকল্পে বাস্তবে কাজ না করিয়েই শতভাগ বিল উত্তোলন করেন।
‎
‎পরবর্তীকালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব পালনকালে ওইসব অসম্পন্ন বা কাজবিহীন রাস্তায় পুনরায় বরাদ্দ প্রদান করে কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখান। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এখনো সে সময়ের বহু ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ বাস্তবে অসম্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে।
‎
‎অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) পদে থাকাকালে বেলাল হোসেন আওয়ামী লীগের সুপারিশে প্রায় ১ হাজার ১২৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে এলজিইডিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেন। এসব নিয়োগের বিপরীতে পদভেদে জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
‎
‎এছাড়া সার্ভেয়ারদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে), ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়নের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি কার্য সহকারীদেরও তিনি এসব পদে পদায়ন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এভাবে সারা দেশে প্রায় ৪১২ জনকে অবৈধভাবে পদোন্নতি দিয়ে তিনি আনুমানিক ৪০ থেকে ৬০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
‎
‎অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে তিনি বদলি বাণিজ্য পরিচালনা করতেন। তার দায়িত্বকালে এলজিইডির মাঠপর্যায়ের দুর্নীতি ‘স্বর্ণযুগে’ পৌঁছায় বলেও অভিযোগে বলা হয়। এ সময় ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও কাজ না করেই বিল উত্তোলনের বহু অভিযোগ উঠলেও তিনি একটিও বিভাগীয় মামলা দায়ের করেননি।
‎
‎এরই ধারাবাহিকতায় এক পর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বাধ্য হয়ে একযোগে তিনটি জেলায় অভিযান পরিচালনা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

‎অভিযোগে বলা হয়েছে, তার দায়িত্বকালে নিম্নমানের কাজ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর মতো অনিয়ম বেড়ে যায়। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সম্পদ অর্জনের অভিযোগও বেশ গুরুতর।
‎অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বেলাল হোসেন রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন।

এছাড়াও পূর্বাচলে ৫ কাঠার একটি প্লট, রংপুর জেলার ধাপ এলাকায় ৬ কাঠা জমির ওপর দুই ইউনিটের পাঁচতলা বাড়ি, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় প্রায় ২১০ বিঘা কৃষিজমি এবং রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের আরেকটি ফ্ল্যাটের মালিকানা তার নামে রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
‎
‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বেলাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
‎
‎এদিকে, দুদক সূত্র জানায়, প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একই দিনে দুই বিমানবন্দরে সোনা ও আইফোন জব্দ
ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও সোনারবার এবং একটি আইফোন জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
একই দিনে দুই বিমানবন্দরে সোনা ও আইফোন জব্দ
জার্মান পর্যটকের হারানো ল্যাপটপ হস্তান্তর, পুরস্কৃত দুই পুলিশ
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাপটপটি পর্যটকের কাছে হস্তান্তর করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
জার্মান পর্যটকের হারানো ল্যাপটপ হস্তান্তর, পুরস্কৃত দুই পুলিশ
মাদানী অ্যাভিনিউ / ১০০ ফুট সড়কের ৯০ ফুটই বেদখল
রাজধানীর নতুন বাজার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়কে বেপরোয়া অটোরিকশা, যত্রতত্র পার্কিং এবং টাফিক পুলিশের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এই এলাকায় চলাচলকারীদের দূর্ভোগের শেষ নেই।
১০০ ফুট সড়কের ৯০ ফুটই বেদখল
অনলাইনে আয়ের ফাঁদে ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৬
অনলাইনে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের শামীম আহমেদ (৩০) সহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার (১২ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান।  মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভুক্তভোগী বাদী একটি প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে আয়ের প্রলোভনে প্রতারণার শিকার হন। প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে।  একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তার অর্থ উত্তোলন করতে চাইলে প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগী বাদীকে সিকিউরিটি ফি জমা দেওয়ার কথা বলে আরও অর্থ আদায় করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে তার প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি মতিঝিল থানায় মামলা করেন। তদন্তের তথ্য জানিয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রতারক চক্রের দেওয়া একটি বেসরকারি ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে মোট ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। সেই অর্থ পরবর্তী সময়ে প্রতারক চক্রের নির্দেশিত অন্য একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তার শামীম আহমেদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারণাসংশ্লিষ্ট অর্থ লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। এসব অর্থের উৎস, গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব এবং প্রতারণার অর্থের চূড়ান্ত গন্তব্য শনাক্তে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ নিয়ে এই মামলায় শামীম আহমেদসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। আরটিভি/এসআর
অনলাইনে আয়ের ফাঁদে ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৬
পুরান ঢাকার আগুন ১২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে, ৪ ফায়ার ফাইটার হাসপাতালে 
পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোটকাটারার ইউসুফ খান প্লাজা মার্কেটে আগুন লাগে সোমবার বিকেলে। প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।
পুরান ঢাকার আগুন ১২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে, ৪ ফায়ার ফাইটার হাসপাতালে 
আরও পড়ুন
চরফ্যাশন হাসপাতালের প্রধান সহকারীর সম্পদের অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে অভিযোগ
যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য আনোয়ারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
দেশের বাইরে সিদ্দিকী নাজমুল, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চায় দুদক
দুদকের কর্মচারীদের ঝুঁকিভাতা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন