ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

স্মার্ট ও সবুজ নগরী গড়তে ডিএসসিসির ১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকার পরিকল্পনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৪ এএম
ধানমন্ডি লেক। পুরনো ছবি

রাজধানীর দক্ষিণ অংশকে আধুনিক, যানজটমুক্ত, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৯০৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

এ পরিকল্পনায় সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল, কাঁচপুরে বাস টার্মিনাল উন্নয়ন, ধানমন্ডি লেকের পরিবেশগত উন্নয়ন এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্য, পরিবেশের ভারসাম্য, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নগরের নান্দনিকতা নিশ্চিত করেই দক্ষিণ ঢাকাকে একটি ‘স্মার্ট ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

ডিএসসিসির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন বাবদ মোট ১ হাজার ৯০৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৯৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন। এ খাতে এবার ৮০৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে মূল বরাদ্দ ছিল ৭২৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে তা দাঁড়ায় ৭২৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো উন্নয়নে চলতি অর্থবছরে গত বছরের মূল বরাদ্দের তুলনায় ৭৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি রাখা হয়েছে।

এই বরাদ্দের বড় অংশই যাচ্ছে সড়ক ও মহাসড়ক উপখাতে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে সর্বোচ্চ ৫২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ সিটি এলাকার সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এবারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় শুধু প্রচলিত অবকাঠামো উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকছে না ডিএসসিসি। নগরের যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির ২২টি ইন্টারসেকশনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের জন্য ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। যানবাহনের চাপ ও চলাচলের ধরন বিশ্লেষণ করে এআইভিত্তিক ট্রাফিক সিগন্যাল পরিচালনা করা গেলে যানজট কমানোর পাশাপাশি নগরবাসীর মূল্যবান সময়ও সাশ্রয় হবে।

নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আরেকটি বড় উদ্যোগ হচ্ছে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তরের প্রস্তুতি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ লক্ষ্যে কাঁচপুর বাস টার্মিনালের প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন, শেড, টিকিট কাউন্টার ও টয়লেট নির্মাণে চলতি অর্থবছরে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ডিএসসিসির সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কার্যক্রম কাঁচপুরে স্থানান্তর করা সম্ভব হলে রাজধানীর ভেতরে দূরপাল্লার বাসের প্রবেশ ও চলাচল কমবে। এতে যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরের অভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহনের চাপও কমানো সম্ভব হবে।

নগরের পরিবেশ ও নাগরিক বিনোদনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এবারের উন্নয়ন পরিকল্পনায়। ধানমন্ডি লেকের অবকাঠামো ও পরিবেশগত উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

লেকটি আরও নান্দনিক ও নাগরিকবান্ধব করে তোলার পাশাপাশি এর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

আরও পড়ুন

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগরের উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তা ও ভবন নির্মাণকে বোঝালে হবে না। নাগরিকদের হাঁটাচলা, বিনোদন এবং নির্মল পরিবেশ পাওয়ার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। এ কারণে ধানমন্ডি লেকসহ নগরের উন্মুক্ত স্থান ও সবুজ এলাকার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

‘স্মার্ট ঢাকা’র পাশাপাশি ‘গ্রিন ঢাকা’ গড়ার পরিকল্পনাতেও এবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন খাতে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ‘জিরো সয়েল’ কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন সড়কের মিডিয়ানে বৃক্ষরোপণ ও ঘাস লাগানো হয়েছে।

পাশাপাশি ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগ থেকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন মিডিয়ান ইজারা দিয়ে সেখানে নান্দনিক গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও টেকসই করতে ওসমানী উদ্যানে ডিএসসিসির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে একটি স্থায়ী নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক জানান, ইতোমধ্যে সেখানে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের প্রায় ১ হাজার ৪০০টি গাছের চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী বছর এ নার্সারি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

শুধু ওসমানী উদ্যানেই নয়, নগর ভবনের দক্ষিণ পাশে আরও একটি নার্সারি স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলছে। ফলে ভবিষ্যতে ডিএসসিসির নিজস্ব নার্সারি থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণের জন্য প্রয়োজনীয় চারা সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণকে সবুজ করতে শুধু বড় বড় প্রকল্প নিলেই হবে না; সড়কের মিডিয়ান, পার্ক, খোলা জায়গা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগাতে হবে। এজন্য নিজস্ব নার্সারি গড়ে তুলে প্রয়োজনীয় চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি ঢাকা চাই, যেখানে উন্নয়ন হবে দৃশ্যমান, যোগাযোগ হবে আধুনিক, পরিবেশ হবে সবুজ এবং নাগরিকরা স্বস্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন। এজন্য উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।’

ডিএসসিসির প্রশাসক আরও বলেন, নগর উন্নয়নের সুফল তখনই স্থায়ী হবে, যখন এর সঙ্গে নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা যুক্ত হবে। সড়ক, ফুটপাত, পার্ক, লেক কিংবা সবুজায়নের অবকাঠামো রক্ষায় নগরবাসীকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

ডিএসসিসির এবারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় একদিকে যেমন বড় অঙ্কের অর্থ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রযুক্তি, পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, উন্নয়নের লক্ষ্য হবে মানুষের জীবনকে সহজ করা। সেই লক্ষ্যেই সড়ক থেকে ট্রাফিক, পরিবেশ থেকে বিনোদন-সব ক্ষেত্রকে সমন্বিত করে কাজ করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গাড়িতে লেখা ‘প্রেস’, ৫২০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ভুয়া সাংবাদিক
রাজধানীর কদমতলীতে ৫ হাজার ২০০ পিস ইয়াবাসহ হোসাইন শরীফ ওরফে সোহেল (৪৫) নামের এক ভুয়া সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।  তার গাড়িতে ‘প্রেস’ লেখা স্টিকার ও ক্যামেরা-বুম থাকলেও তিনি কোনো গণমাধ্যমে কাজ করেন না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে আজ মঙ্গলবার সকালে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। পরিদর্শক মো. লোকমান হোসেনের নেতৃত্বে অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল অভিযানে অংশ নেয়। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় কক্সবাজার থেকে আসা একটি সাদা রঙের নোয়া (NOAH) মাইক্রোবাস ঘেরাও করা হয়। গাড়িটিতে ‘প্রেস’ লেখা স্টিকার সাঁটানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হোসাইন শরীফ কোনো গণমাধ্যমে কর্মরত থাকার বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তার গাড়ি ও শরীর তল্লাশি করা হয়। এ সময় গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের পাশের বক্স থেকে ২১টি পলি প্যাকেটে ৪ হাজার ২০০ পিস এবং তার প্যান্টের ডান পকেট থেকে আরও ৫টি প্যাকেটে ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়। জব্দ তালিকার অন্যান্য আলামতের মধ্যে রয়েছে—একটি প্যানাসনিক ভিডিও ক্যামেরা, দুটি বুম, তিনটি মোবাইল ফোন এবং এশিয়ান টেলিভিশনের একটি স্টিকার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছেন, তিনি আগে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে সাংবাদিকতা ছেড়ে ক্যামেরা, বুম ও গাড়িতে ‘প্রেস’ স্টিকার ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এই অভিযান চালানো হয়েছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/এসআর  
গাড়িতে লেখা ‘প্রেস’, ৫২০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ভুয়া সাংবাদিক
জুস খাইয়ে চালককে অচেতন করে রিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশনের বি-গেটের সামনে চেতনানাশক মেশানো জুস খাইয়ে এক রিকশাচালককে অচেতন করে তাঁর রিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের তৎপরতায় রিকশাটি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রিকশাচালকের নাম মো. ফারুক হোসেন। তাঁর বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ থানার রসুলপুর গ্রামে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার সময় মেট্রোরেল স্টেশনের বি-গেটের সামনে টহল দিচ্ছিলেন আনসার সদস্যরা। তাঁরা রিকশাচালককে অচেতন করে রিকশা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখে দ্রুত এগিয়ে যান। তাঁদের হস্তক্ষেপে ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আনসার সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরে অচেতন রিকশাচালককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন। উদ্ধার করা রিকশা, নগদ ১ হাজার ২০০ টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন এমআরটি পুলিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিলেন এপিসি মো. মতিন বিশ্বাস এবং আনসার সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. হাফিজুর রহমান, মো. মাসুম হোসেন ও মো. রবিউল ইসলাম। আরটিভি/এসআর  
জুস খাইয়ে চালককে অচেতন করে রিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা
যে কারণে পুরো দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে গেলেও চলবে মেট্রোরেল
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে গেলেও মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয় গ্রিডের একাংশে বিপর্যয়ের কারণে  দুই ঘণ্টার মতো সময় বিদ্যুৎহীন ছিল ঢাকার একাংশসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। মেট্রোরেল লাইনের একটি সাবস্টেশনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে মেট্রোরেল চলাচলে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বিষয়ে ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মেট্রোরেল চলাচল ব্যাহত হয়নি। তারা উত্তরা সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ পেয়েছেন। ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল রুটে এখন মেট্রোরেল চলাচল করে। মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য উত্তরা ও মতিঝিলে দুটি সাবস্টেশন রয়েছে।  ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে, আজ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর মতিঝিলের সাবস্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। এ সাবস্টেশনে মানিকনগর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে উত্তরা সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ আসে টঙ্গী থেকে। মতিঝিল সাবস্টেশন বন্ধ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা উত্তরা সাবস্টেশনের আওতায় চলে যায়। ফলে উত্তরা সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে মেট্রোরেল চলাচল অব্যাহত থাকে বলে জানিয়েছেন ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা। ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও মেট্রোরেল চালু রাখার জন্য দুটি বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। এর একটি ৩৩ কেভি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা। অন্যটি হলো ইমার্জেন্সি সাব সিস্টেম (ইএসএস)। ৩৩ কেভি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ডিএমটিসিএলের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে এই ব্যবস্থা কাজে লাগানো হবে। এর মাধ্যমে অন্তত দুই ঘণ্টা মেট্রোরেল চালু রাখা সম্ভব। এই ব্যবস্থার বিদ্যুৎ সরবরাহ শেষ হলে চালু করা যাবে ইএসএস। এটি মূলত ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ব্যবস্থা। জরুরি পরিস্থিতিতে এই সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। এ ব্যবস্থায় আরও এক ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানো সম্ভব। অর্থাৎ, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে প্রথমে জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরে ব্যাটারিতে সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে। তবে এই দুই ব্যবস্থার বিদ্যুৎও শেষ হয়ে গেলে এবং এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। ডিএমটিসিএলের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় তিন ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানো যাবে। আরটিভি/এসআর
যে কারণে পুরো দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে গেলেও চলবে মেট্রোরেল
মেট্রোরেলে উঠে বসতে চেয়ে জায়গা পাননি, পরে স্ট্রোকে মৃত্যু
মেট্রোরেলে শাহবাগ থেকে উত্তরা ফেরার পথে শেওড়াপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি স্ট্রোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নাজিবুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে।  মৃত্যুর আগে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করে আশপাশের যাত্রীদের কাছে বসার জন্য জায়গা চেয়েছিলেন তিনি। তবে কেউ তাকে বসার সুযোগ দেননি বলে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য নাকিবুর রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান নাকিবুর রহমান। পোস্টে তিনি লেখেন, আব্বু গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে মেট্রোরেলে শাহবাগ থেকে উত্তরা ফেরার পথে শেওরাপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি স্ট্রোক করে মুহূর্তেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে উনি শারীরিক অসুস্থ অনুভব করায় আশপাশের লোকজনের কাছে বসতে চেয়েছিলেন। কেউ জায়গা ছেড়ে তাকে বসতে দেননি। নাকিবুর রহমান আরও লেখেন, আমার বাবা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করে নিচে পড়ে যান। আল্লাহ তার মৃত্যুকে সহজ করে নিয়ে গেছেন। কিন্তু সন্তান হিসেবে এইটুকু মেনে নেওয়াটা কষ্টকর। আমার কোনো রাগ-অভিমান নাই। বয়স্ক ও সিনিয়র নাগরিকদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে শুধু এইটুকুই বলব, চলতে-ফিরতে বয়স্ক বা সিনিয়র সিটিজেন যখন যেখানে যে অবস্থাতেই পাবেন, তাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করুন। আপনি আজকে যাকে ইগনোর করলেন, সে আপনার বাবা না হলেও, অন্য কারও বাবা। তবে তার বাবার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেট্রোরেল যাতায়াত বা কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করে মন্তব্য না করার অনুরোধ জানিয়েছেন নাকিবুর রহমান। তিনি বলেন, অনুগ্রহ করে কেউ মেট্রোরেল যাতায়াতসংক্রান্ত উচিত-অনুচিত কথাবার্তা বা ঘটনা তুলে এনে কাউকে দোষারোপ স্বরূপ মন্তব্য করবেন না। চলাফেরা করার সময় আমাদের আশপাশের মানুষদের কমফোর্ট থাকার বিষয়টা খেয়াল করাই উত্তম। আরটিভি/এসআর  
মেট্রোরেলে উঠে বসতে চেয়ে জায়গা পাননি, পরে স্ট্রোকে মৃত্যু
শ্যামলীতে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে যুবক গ্রেপ্তার
রাজধানীর শ্যামলীর শিশুমেলার সামনে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে মো. রাজা (২৮) নামে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
শ্যামলীতে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে যুবক গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
ঢাকা-গাজীপুর সড়ক ৬ লেন করার পরিকল্পনা 
সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী: উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
এলডিসি উত্তরণ পেছাচ্ছে তিন বছর, প্রস্তুত কর্মপরিকল্পনা